টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৭ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৭:১১:১২
পাট ঘরে, এখন ধান চাষে ব্যস্ত টুঙ্গিপাড়ার কৃষক
পাট কাটার মৌসুম শেষ হতেই গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কৃষকদের ব্যস্ততা এখন আমন ধানের আবাদ ঘিরে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠজুড়ে চলছে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার ও সেচের কাজ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা। ভালো ফলনের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পাট ঘরে তোলার পর কৃষকরা দ্রুত জমি প্রস্তুত করে আমনের চারা রোপণে নেমেছেন। কোথাও শেষ পর্যায়ের রোপণ চলছে, আবার কোথাও পরিচর্যার কাজ চলছে পুরোদমে। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাকায় কৃষকদের মধ্যে ভালো ফলনের আশাবাদ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, পাট বিক্রি করে যে অর্থ পেয়েছেন, তার একটি অংশ দিয়ে ধান চাষের খরচ মেটাচ্ছেন। তবে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি ও কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তারপরও সংসারের খাদ্য নিরাপত্তা ও ভালো ফলনের আশায় তারা চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার এক কৃষক মো. নুর ইসলাম শেখ বলেন,
“পাটের কাজ শেষ করে এখন পুরো সময় ধানের জমিতে দিচ্ছি। নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় চারা ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। যদি বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে এবার ভালো ফলনের আশা করছি।”
আরেক কৃষক মাধব বৈরাগী বলেন,
“ধান চাষে খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সার, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি বেশি। তারপরও ধান চাষ ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে কৃষকরা আরও উপকৃত হবেন।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, সময়মতো সার ও সেচ নিশ্চিত করা গেলে এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো উৎপাদন পাওয়া যাবে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মো: রাকিবুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন ধানের আবাদ এগিয়ে চলছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি রোগবালাই দমন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে টুঙ্গিপাড়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই আশাতেই এখন মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।