আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬ বিকাল ০৪:০৭:৫৫
পাল্টাপাল্টি হামলার পর কী বলল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
হরমুজ প্রণালির কাছে পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে নতুন করে পরস্পরের ওপর হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে জানিয়েছে, উপসাগরে একটি ট্যাংকারের ওপর ইরানি ড্রোন হামলার জবাবে তারা ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোর’ ওপর একটি ‘শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে।
তারা আরও বলেছে, ‘গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে যখন ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে, তখন ইরানের এমন বিপজ্জনক আচরণ নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।’
ইরান এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সেই সঙ্গে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের আইআরজিসি বলেছে, ওয়াশিংটন ‘বরাবরের মতোই তার প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে’ এবং ইরানের নৌবাহিনী এই অঞ্চলের সেইসব স্থানে হামলা চালিয়েছে যেখানে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সংস্থাটি আরও যোগ করেছে, ‘এই আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে আমাদের জবাব আরও ব্যাপক হবে।’
হামলার আগে শুক্রবার দিনের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একটি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলিতে হওয়া হামলা সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’।
হামরার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্স-এ লেখেন, ‘ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। আমরা তা মেনে চলেছি। সমঝোতা স্মারকটি কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়ে যদি তাদের কোনো মতবিরোধ থাকে, তবে তারা ফোন করতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেয়া হবে।’
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এক্সে দেয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার মধ্যেই হামলা চালিয়ে আবারও প্রমাণ করেছে যে, তারা কূটনীতি ও যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়।
পোস্টে তিনি বলেন, ব্যর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রমাণ করেছেন যে, তিনি আলোচনা কিংবা যুদ্ধবিরতির নীতিমালার প্রতি কোনো প্রতিশ্রুতি রাখেন না।’
আজিজির দাবি, যুদ্ধবিরতির এই ‘বেপরোয়া লঙ্ঘন’ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আগের মতোই পিছু হটা ও অনুতাপের কারণ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দোষ চাপিয়ে দেয়ার রাজনীতি এখন আর কাজ করবে না।’
কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওই সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছিল। ওই সমঝোতায় ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করার কথা রয়েছে। তবে লেবাননে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকায় আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরই এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি, সারসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী ৬০ দিনের একটি সময়সীমা ঠিক করা হয়। এ সময়ে কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।