শাফি উদ্দিন আহমদ:
প্রকাশ : ১ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৪:২০:৪৬
জলবায়ু সহনশীল সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই বায়োইকোনমি গড়ে তুলতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার (১ জুলাই) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (UNESCAP) আয়োজিত ‘কমিটি অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর নবম অধিবেশনের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় UNESCAP-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি লিন ইয়াংয়ের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই বায়োইকোনমি গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক বায়োইকোনমির বাজারের আকার প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি এমন হতে হবে, যাতে কৃষক, জেলে, নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হয়।
তিনি বলেন, বদ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নিয়মিত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপপ্রবাহের মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশে প্রায় ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় আড়াই কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে টেকসই বায়োইকোনমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই দিনে ব্যাংককের জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সরকার, ESCAP, FAO, ADPC এবং UNEP-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সোনালি আঁশ পাট এখন শুধু চটের বস্তায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি উচ্চমূল্যের পরিবেশবান্ধব বহুমুখী পণ্যে রূপ নিয়েছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে 'সোনালী ব্যাগ' উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি কার্যকর উদাহরণ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি সংকট নিরসনে বায়োগ্যাস ও উন্নত চুল্লি কর্মসূচি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চলে ৪ দশমিক ১৩ মিলিয়নের বেশি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের কাছে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ থেকে সুরক্ষায় ব্লু-বায়োইকোনমি ও ম্যানগ্রোভ বনায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, বর্তমান সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং থ্রি-আর (রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল) পদ্ধতি ও সার্কুলার অর্থনীতিভিত্তিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।