রাজধানীর মেট্রোরেল ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এমআরটি লাইন-৬-এর সম্প্রসারিত অংশের কমলাপুর স্টেশন আগামী বছরের মার্চে চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে যাত্রীসংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ধাপে ধাপে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ানোরও পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে চালু হওয়া এমআরটি লাইন-৬-এর তৃতীয় ধাপের আওতায় মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। বিদ্যুৎ, সিগন্যালিং, যান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজসহ প্রকল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের মার্চ মাসে কমলাপুর স্টেশন যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এর আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমলাপুর স্টেশন চালু হলে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র কমলাপুর রেলস্টেশনের সঙ্গে মেট্রোরেলের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। এতে আন্তঃনগর ও দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।অন্যদিকে, বাড়তি যাত্রীর চাপ সামাল দিতে মেট্রোরেলের সেবার সময়ও ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। গত ৭ জুন থেকে রাতে মেট্রোরেলের সেবা ২০ মিনিট বাড়ানোর পর প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার নতুন যাত্রী যুক্ত হয়েছেন।বর্তমানে মেট্রোরেলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন। কোনো কোনো দিনে এ সংখ্যা ৪ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর আগে দৈনিক গড় যাত্রীসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ।ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা নতুন নয়। তবে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন রাতের শেষ ট্রেন চলাচল শেষ হওয়ার পর ট্রেনগুলো ডিপোতে নিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ করা হয়। পরদিন ভোরে যাত্রীসেবা শুরুর আগে প্রায় দুই ঘণ্টা পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। ফলে ইচ্ছা করলেই রাতারাতি সেবার সময় বাড়ানো সম্ভব হয় না।তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেবার সময় বাড়ানোর পর যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে আরও সময় বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবছে কর্তৃপক্ষ।ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, কমলাপুর স্টেশন চালু হওয়ার পর মেট্রোরেলের সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১২ সেট ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। ভবিষ্যতে পরিচালন সময় বৃদ্ধি পেলে একযোগে ১৪ সেট ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।কমলাপুর স্টেশন চালু এবং সেবার সময় সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজধানীতে মেট্রোরেলের সক্ষমতা আরও বাড়বে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, গণপরিবহনের ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং নগরবাসী আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত সুবিধা পাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা।
৩ ঘন্টা আগে
জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ মুলতবির কথা ঘোষণা করেন।এর আগে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। যা বুধবার (১ জুলাই) থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে। নতুন বাজেটে কর, ভ্যাট ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এ আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ রহিতকরণ করা হয়েছে। আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট, ভিপিএনসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।একই সঙ্গে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো আইন এবং বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ধরন মোকাবিলায় এটি আর যথেষ্ট নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনটি যুগোপযোগী করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হওয়ায় নতুন আইনটি আনা হয়েছে।নতুন আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং, জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা ব্যবহার, জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রি, বিতরণ বা ব্যবহার, বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং, জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা এবং জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থপাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার।আইনে সাধারণ জুয়ার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অনলাইন বেটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রি, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আদালতের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন। একইভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রতিশ্রুতি, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটিকে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস, ক্লাউড অবকাঠামো বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টা করলে তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate Offence) হিসেবে গণ্য হবে।আইনে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি, করপোরেট সংস্থা, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার, পেমেন্ট গেটওয়ে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, অংশীদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে, যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে অপরাধটি তার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে এবং তা প্রতিরোধে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিকেও পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা যাবে এবং আদালত প্রয়োজনে তাদের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করতে পারবেন। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ পর্যন্ত দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ, সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, ডিভাইসসহ অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে, অন্য অপরাধের বিচার হবে এখতিয়ারসম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে। আইনের অধীন সব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টরের নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করা যাবে।এছাড়া সরকার বা সরকার-নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া বা বেটিং-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ, চ্যানেল এবং ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম ব্লক, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। জুয়ার অর্থে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস, পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট বন্ধের নির্দেশও আদালত দিতে পারবেন। পাশাপাশি জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে একটি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ প্রণয়ন, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম বাস্তবায়ন, বায়োমেট্রিক ও ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালু এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, নতুন এই আইন কার্যকর হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে কার্যকর আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৭ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশের কিছু গণমাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।তিনি বলেন, এ ধরনের প্রচার আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থি এবং গণমাধ্যমগুলোর উচিত আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকা।মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু দেশের কয়েকটি গণমাধ্যম সম্প্রতি তার একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে আহ্বান জানাই তারা যাতে এ কাজটি না করে এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে।তিনি বলেন, আমরা এখনই কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছি না। তবে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আমরা আশা করি, দেশের গণমাধ্যম আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এ ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকবে।উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বিদেশি গণমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন তথ্য জানতে পারে। তবে সেটি দেশীয় গণমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা তৈরি করে না। আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত এ ধরনের প্রচার অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সরকার বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।ব্রিফিংয়ে 'রিফর্মড' বা নতুন নামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন দলটি 'রিফর্মড আওয়ামী লীগ', 'তৃণমূল আওয়ামী লীগ' বা অন্য যে নামেই আসুক না কেন রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার কোনো সুযোগ তাদের নেই।তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান এ বিষয়ে স্পষ্ট। ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের সংশোধিত বিধান কার্যকর রেখেই আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অনেক অধ্যাদেশ আইন হিসেবে বহাল না থাকলেও এ সংশোধনী বহাল রাখা হয়েছে, যা সরকারের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন, দলটি নিষিদ্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সরকারের মত হলো, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা উচিত।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে এই নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিচ্ছে না। অতীতে চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এখন সেই ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে। ফলে বিএনপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দল দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না।দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালিমা লেখা পতাকা উত্তোলনের পেছনের পরিকল্পনা সরকার খতিয়ে দেখছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।তিনি বলেন, খুব বিস্তারিত বলছি না, এটি সরকার আমলে নিয়েছে, সরকার এটি দেখেছে। এটির সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক থাকার কোনো কারণ নেই। বরং সরকারের এটি খতিয়ে দেখার কারণ হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্লোবালি ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ব্যাপারে আমরা সচেতন আছি।তিনি আরও বলেন, আমরা এটি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবেও এটির ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা আশা করি এই জিনিসটা এভাবে কন্টিনিউ করবে না।এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, সেটাই আমরা খতিয়ে দেখছি এবং আমরা ইনশাআল্লাহ এটি বের করতে পারবো।
১২ ঘন্টা আগে