নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫:০৮
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যেও। বিশেষ করে পেট্রোলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম
ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৭ ডলার। তবে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তা বেড়ে প্রায় ৯৭ ডলারে পৌঁছেছে।
গত রোববার (৮ মার্চ) তেলের দাম সাময়িকভাবে ১০০ ডলারও ছাড়িয়ে যায়। খবর আল জাজিরার।
জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা গ্যাসবাডি জানিয়েছে,
গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৫১ সেন্ট বেড়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় শহর গোলোটার বাসিন্দা আলমা নিউয়েল
বলেন, তিনি বর্তমানে কাজ করতে পারছেন না এবং বাড়তি জ্বালানি খরচ তার বাজেটের ওপর বড়
চাপ সৃষ্টি করছে।
নিউয়েল বলেন, খাবার ও বাড়িভাড়া আগে থেকেই অনেক বেশি। এখন
জ্বালানির দাম বাড়লে খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়তে থাকলে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে
পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালন ৩.৫০ থেকে ৪ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং ডিজেলের দাম
৫ ডলার ছাড়াতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হলো হরমুজ প্রণালি
দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের পদক্ষেপের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার
কারণে উৎপাদনও কমে গেছে, ফলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব অন্যান্য খাতেও পড়তে শুরু করেছে।
বিশেষ করে কৃষি খাতে ব্যবহৃত সারসহ অনেক পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ
বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার বাণিজ্যও হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু
যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতেই পড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র
ও অন্যান্য দেশ কৌশলগত তেল মজুত থেকে সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করছে।
তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং জ্বালানি অবকাঠামোর কতটা ক্ষতি
হবে—তার ওপরই শেষ পর্যন্ত তেলের
বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানের
বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক। নতুন এক জরিপ অনুযায়ী,
প্রায় ৫৩ শতাংশ ভোটার এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানির দাম বাড়া নিয়ে
উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি শেষ করতে সাময়িকভাবে তেলের
দাম বাড়া ‘বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য খুবই ছোট মূল্য।’