ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ ৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সৌদি আরবের আবহা শহরে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার। দুর্ঘটনা একই গাড়ির ড্রাইভার মো. জিলানী বাবর (৩০) মারা যান।সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।একই ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুত্ব আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যার ছেলে ও নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। নিহত প্রবাসী গাড়ির ড্রাইভার একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।বাহারুল আলম জানান, মিজান সৌদি প্রবাসী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ হজ্বে যান। ৫দিন আগে ওমরাহর উদ্দেশে তারা সৌদির বাসা থেকে বের হন। ওমরাহ শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তারা। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।নিহত মিজানুর রহমানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পাশের গ্রামের সৌদি প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে তারা মিজানসহ ৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এছাড়া মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সৌদি আরবে ৫ জন মারা গেছে শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি। মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করব।
১ সপ্তাহ আগে
মালদ্বীপের থিলাফুশিতে নিখোঁজের দুই দিন পর আবর্জনার স্তূপ থেকে আমিন মিয়া (২৪) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে, যা যথাযথ সতর্কতা ছাড়াই পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি আমিন মিয়া নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৮ জানুয়ারি থিলাফুশির একটি কর্মস্থলের আবর্জনার স্তূপের ভেতর থেকে ওই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মালদ্বীপের স্থানীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান নাগরিক হেশান মাদুরাঙ্গা দিশানায়ক মেনিকা একটি খননকারী যন্ত্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, যন্ত্রটির আঘাত লাগার ফলেই আমিন মিয়ার মৃত্যু ঘটে।অভিযুক্ত মেনিকাকে ফৌজদারি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আদালতের আদেশে বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ঘটনার লিখিত প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজ।তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক আঘাতের পর আমিন মিয়া আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে যান এবং এরপরও ঘটনাস্থলে কাজ অব্যাহত রাখা হয়। খননকারী যন্ত্রের অপারেটর ঘটনাটি ঘটার সময় বিষয়টি অবগত ছিলেন কি না সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।পুলিশের ভাষ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে খননকারী যন্ত্রের আঘাতে আমিন মিয়ার আহত হওয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।এদিকে ঘটনাটি ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ঘটনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও তদন্ত কার্যক্রম তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে হাইকমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।এছাড়া, আমিন মিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে মালদ্বীপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, স্থানীয় গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অবহেলার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের অবহেলার কারণে পুলিশকে অবহিত করতে দেরি হয়। স্থানীয় সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে জানা গেছে, আমিন মিয়া ময়লার স্তূপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পরও দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্য করেননি। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্তরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে হয়তো তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো।
২ সপ্তাহ আগে
মালয়েশিয়ার জালান পেরাকে ‘স্পাইডার লিফট’ ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজেই ক্রেনটির চালক ছিলেন।কুয়ালামপুর ট্রাফিক ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান এসিপি মোহাম্মদ জামজুরি মোহাম্মদ ইসা বলেছেন, গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি সেখানে রাস্তার পাশের একটি বিলবোর্ডে কাজ করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ক্রেনটি ফুটপাতের সঙ্গে আটকে যায়। এটি রিমোট কন্টোলের মাধ্যমে চালানো হচ্ছিল। ফুটপাতে আটকে গিয়ে ক্রেনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। সেটির নিচেই চাপা পড়েন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক।এছাড়া ক্রেনটির ভারে দুটি গাড়িও চূর্ণ হয়। তবে গাড়ির ভেতর থাকা যাত্রীদের কেউ আহত হননি।ক্রেনের নিচে চাপা পড়লে সেখানে ছুটে আসেন কুয়ালামপুর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। তিনি তাকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করেন।দুর্ঘটনার পর ওই ক্রেনটির মালিক প্রতিষ্ঠানকে খুঁজছে পুলিশ। কুয়ালামপুরে এটি চালানোর অনুমতি ছিল কি না সেটি তদন্ত করছেন তারা। সূত্র: মালয় মেইল
২ সপ্তাহ আগে
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক কোটার অপব্যবহার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা ‘বাদুল’সহ নয়জনকে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ আটক করেছে। এদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি পুরুষ ও একজন ইন্দোনেশীয় নারী।ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানে গত ৪ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুরের জালান দেশা পানদান এলাকার একটি দোকানঘরের দ্বিতীয় তলায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এনফোর্সমেন্ট বিভাগের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ২৬ থেকে ৬১ বছর বয়সী মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি, তদন্তে সহায়তার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুইজন স্থানীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি নিজেদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত বিদেশি শ্রমিক কোটাকে অবৈধভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি, হস্তান্তর ও সরবরাহ করছিল—যার জন্য কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়নি। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত ফি আদায় করা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, এই অবৈধ কার্যক্রম থেকে সিন্ডিকেটটি বছরে প্রায় ১০ লাখ রিঙ্গিত পর্যন্ত লাভ করত।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সিন্ডিকেটটি বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ভুয়া ছুটির চিঠি প্রস্তুত করত। অভিযানে ধরা পড়লে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে শ্রমিকদের মুক্তির ব্যবস্থাও করত তারা। এছাড়া, কোনো অনুমোদন ছাড়াই পাস ও ভিসা নবায়নের মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করছিল এই চক্র।ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, সিন্ডিকেটটি সমগ্র উপদ্বীপ মালয়েশিয়াজুড়ে অনুমোদনহীনভাবে বিদেশি শ্রমিক সরবরাহে সক্রিয় ছিল। এটি দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার একটি পরিকল্পিত অপব্যবহার—যা একদিকে বিদেশি শ্রমিকদের শোষণ করছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।অভিযানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে—ইন্দোনেশিয়ার ২২টি, বাংলাদেশের ২০টি, পাকিস্তানের ৫টি এবং ভারতের ১টি পাসপোর্ট। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৪৯৭টি বিদেশি শ্রমিকের আই-কার্ড, ৩৮টি সিআইডিবি কার্ড ১৩,০০০ রিঙ্গিত নগদ অর্থ এবং বিদেশি শ্রমিকদের অবৈধভাবে প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত বিভিন্ন নথি ও সরঞ্জাম।আটক সব বিদেশি নাগরিককে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী তদন্ত চলছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও স্পষ্ট করেছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশিদের আশ্রয় দেওয়া, নিয়োগ করা বা তাদের সঙ্গে যে কেউ জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো আপস ছাড়াই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশজুড়ে আইন প্রয়োগমূলক অভিযান জোরদার রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ।
২ সপ্তাহ আগে