লক্ষ্মীপুরে সুপারি না পাড়ায় রিশাদ (১২) নামে এক শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রুবেল (৩৫) নামে মাদকাসক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে।নিহত রিশাদ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রুহিতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফতু ব্যাপারী বাড়ির সাহেদ হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত রুবেল একই এলাকার মিলনের ছেলে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চর রুহিতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।নিহতের স্বজনরা জানান, রুবেল মাদকাসক্ত। সে মাদক সেবন ও ক্রয় বিক্রয়ের সাথে জড়িত। ঘটনার সময় রুবেল শিশু রিশাদকে সুপারি পাড়তে বলেন। রিশাদ সুপারি পাড়তে অস্বীকৃতি জানালে রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ছুরি দিয়ে পেটে একাধিকবার আঘাত করে।এতে গুরুতর আহত হয় শিশু রিশাদ। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশু রিশাদের মৃত্যু হয়।এদিকে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায় ঘাতক রুবেল। এতে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে আটকের জন্য খুঁজছে স্থানীয়রা। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম আফজাল বলেন, ‘রিশাদ নামে এক শিশুকে ইমার্জেন্সিতে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ছুরিকাঘাতের একাধিক চিহ্নিন রয়েছে।লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ ফারবেজ বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
১৩ ঘন্টা আগে
মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের নয়া কান্দি গ্রামে ধনাগোদা নদীর পাড় ঘেঁষে অবস্থিত মেসার্স মোহাম্মদীয়া লেয়ার ফার্মে ট্রলারে করে এসে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফার্মে প্রবেশ করে স্টাফদের মারধর, অফিস ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ফার্ম কর্তৃপক্ষ।ফার্মের স্টাফ জিলানী জানান, রাত ৩টার দিকে ডাকাত দল ফার্মে এসে প্রথমে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করা হয়। পরে একজন স্টাফকে শর্টগান দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ফার্মে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় তারা। জিলানী আরও বলেন, ডাকাতরা যাওয়ার আগে তাদের ১০ মিনিটের মধ্যে ফার্ম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়।ফার্মের মালিক মো. রাসেল দেওয়ান বলেন, শুক্রবার রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে নদীপথে ট্রলারযোগে একদল ডাকাত ফার্মে হামলা করে। তারা স্টাফদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে মারধর করে। পরে অফিস কক্ষে ঢুকে ম্যানেজার ও স্টাফদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অফিসের ক্যাশ থেকে ৪৫ হাজার টাকা এবং তার মানিব্যাগে থাকা ৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়।তিনি অভিযোগ করেন, ডাকাতরা তার এক স্টাফকে পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ সময় হামলাকারীদের সবার কাছেই পাইপগানের মতো শর্টগান জাতীয় অস্ত্র ছিল। যাওয়ার সময় তারা স্টাফদের হুমকি দিয়ে বলে, তারা যেন ফার্মে কাজ না করে চলে যায় এবং মালিককে বলে ব্যবসা বন্ধ করতে। রাসেল দেওয়ান আরও বলেন, হামলাকারীরা ফার্মের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভাইস ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি ফার্মের স্টাফদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়।তিনি বলেন, এখন এখানে ব্যবসা করা খুব কঠিন হয়ে গেছে। আমার স্টাফদের অস্ত্রের মুখে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, তারা এখানে থাকলে পরবর্তীতে এসে তাদের মেরে ফেলা হবে এবং মালিককে ব্যবসা বন্ধ করতে বলতে হবে। রাসেল দেওয়ান আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার ও মতলব উত্তর থানার পুলিশের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।এদিকে, এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাবির হুসনাইন সানীব বলেন, বিষয়টি মতলব উত্তর থানার ওসি আমাকে জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার জন্য থানায় নেওয়া হয়েছিল। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১৪ ঘন্টা আগে
গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্লা, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানি ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সামছুল হক, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রাফিকুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিমসহ সমিতির অন্যান্য আইনজীবী।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইনজীবীরা বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আধুনিক ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অবকাঠামো প্রয়োজন। নতুন ভবন নির্মাণ হলে আইনজীবীদের কাজের পরিবেশের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্লা বলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ সময়োপযোগী। আইনজীবীরা বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুন্দর ও আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন ভবনটি নির্মাণের মাধ্যমে সেই প্রয়োজন পূরণ হবে বলে আশা করি।সংসদ সদস্য এস এম জিলানি বলেন, আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবন নির্মিত হলে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হবেন। ভবনটির নির্মাণকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, একটি জেলার আইন অঙ্গনের উন্নয়নে আধুনিক অবকাঠামোর গুরুত্ব রয়েছে। নতুন ভবনটি নির্মাণের ফলে আইনজীবীরা আরও সুন্দর পরিবেশে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এর সুফল বিচারপ্রার্থীরাও পাবেন।গোপালগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সামছুল হক বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে আইনজীবীরা সরাসরি সম্পৃক্ত। তাঁদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের সেবার মানও আরও উন্নত হবে। জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রাফিকুজ্জামান বলেন, জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আইনজীবীদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবন প্রয়োজন। নতুন ভবন নির্মাণ হলে জেলার আইন অঙ্গনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী আবুল খায়ের বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ সমিতির আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। বর্তমান অবকাঠামোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হয়। নতুন ভবন নির্মাণ হলে এসব সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে।সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিম বলেন, নতুন ভবনে আইনজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের জন্যও একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় ভবনটির নির্মাণকাজ যথাসময়ে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপস্থিত অতিথিরা নতুন ভবন নির্মাণের সফলতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ ঘন্টা আগে
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মোখলেছুর রহমান নামে এক অটোচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের শান্তিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাঁর অটোরিকশাটিও পাওয়া যায়নি। নিহত মোখলেছুর রহমান উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনীদাস এলাকার মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির কাজ শেষ করে খাওয়া-দাওয়া শেষে অটোরিকশা নিয়ে বের হন মোখলেছুর। রাত ১০টার দিকে কাউফান্দা এলাকার সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী গাড়ির আলোয় একটি বাড়ির সামনে একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন।খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত থাকায় প্রথমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে রাত প্রায় ২টার দিকে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়।শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।নিহতের স্বজনদের দাবি, জমিজমা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে মোখলেছুরের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে তাঁদের কেউ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
১৭ ঘন্টা আগে