চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চাপাতিয়া প্রধানীয়া বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার মৃত এবায়েদউল্লার ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ২৪ মামলার পলাতক আসামি সুমন প্রধানের বসতঘরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সুমন প্রধানের ঘর তল্লাশি করে ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সুমন প্রধানের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার (৩০) এবং তার বোন মর্জিনা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত সুমন প্রধান পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।অভিযানটি পরিচালিত হয় সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীবের নির্দেশনায় এবং মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিকের তত্ত্বাবধানে। অভিযানে এসআই সুজিত ও এসআই সাকিবসহ সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেন।এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, “সুমন প্রধানের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার স্ত্রী ও বোনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
২৫ মিনিট আগে
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ফাটাবিল এলাকায় তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় পলাতক বড় ভাই হানিফ মিয়া (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা থেকে তাকে আটক করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে সদর উপজেলার ফাটাবিল এলাকার একটি সরকারি রাস্তার ব্রিজের ওপর এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পারিবারিক তুচ্ছ বিরোধের জেরে বড় ভাই হানিফ মিয়া তার ছোট ভাই তামিম মিয়া (১৮) কে ধারালো ছুরি দিয়ে গলার নিচে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত তামিম মিয়া একই এলাকার শাহেদ আলীর ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হানিফ মিয়ার ছেলে সাইদুল (১০) কে শাসন (থাপ্পড় দেওয়া) করা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে এসে তামিমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন হানিফ। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি ছুরি দিয়ে তামিমকে আঘাত করেন।ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে হানিফ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের বোন সাথী আক্তার (২৩) বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–২২/৬৩, তারিখ–১১/০৩/২০২৬, ধারা–৩০২, পেনাল কোড ১৮৬০)।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের এর নেতৃত্বে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লা সদর কোতোয়ালী থানার সংরাইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলের ব্রিজের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ঘটনার সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ।এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।
১ ঘন্টা আগে
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার সময়ের এই উদ্যোগ ছিল যুগোপযোগী ও জনবান্ধব। কিন্তু পরবর্তী স্বৈরাচারী সরকারের সিদ্ধান্তে সেই খাল কাটার কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়।সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নে কাটাগাং খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী আরও জানান, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী খাল খনন কার্যক্রম পুনরায় জোরদার করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ কাটাগাং খালের খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান। সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল। এছাড়া পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী (সেচ)সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শ্রমিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী ও এলাকার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কাটাগাং খালের নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা হবে এবং আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশব্যাপী একযোগে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
২ ঘন্টা আগে
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীদের যাত্রা ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে। তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে এখনো বড় ধরনের কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি।যমুনা সেতু দিয়ে উত্তরবঙ্গের অন্তত ১৬ জেলার যানবাহন চলাচল করে। ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরই এ সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ফলে যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়। ইতোমধ্যে অনেকেই আগেভাগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো পুরোপুরি ঈদযাত্রা শুরু হয়নি। ফলে যানবাহনের চাপ থাকলেও সড়কে স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করছে যানবাহন। তবে অফিস-আদালত বন্ধ হলে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে সময় যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় টোলপ্লাজা, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজটের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভুল ওভারটেকিং, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও মহাসড়কে অটোরিকশা বা ভ্যান চলাচল যানজটের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও যানজটমুক্ত রাখতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বাড়তি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গাড়ি ও মোটরসাইকেল টহল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট প্রিন্স আওলাদ মাহমুদ বলেন, “ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়ছে, তবে এখনো কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। আমরা সার্বক্ষণিক টহল ও মনিটরিং করছি। আশা করছি, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।”
৩ ঘন্টা আগে