মৌলভীবাজার জেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ফেইক আইডি ও বিভিন্ন অনলাইন টিভি পেজের ভিত্তিহীন সংবাদের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া পরিচয়ে সম্মানহানিকর পোস্ট, বিকৃত মন্তব্য ও কৃত্রিম স্ক্রিনশট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পেজ খুলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ প্রচার করছেন, যার অধিকাংশেরই কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। এসব খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, প্রবাসী ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে কুৎসা রটানোর ঘটনা বাড়ছে, যা সামাজিকভাবে মারাত্মক হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনি জটিলতা ও সামাজিক লজ্জার কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।সচেতন মহলের মতে, একটি টেলিভিশন চ্যানেল পরিচালনা বা পত্রিকা প্রকাশে বিপুল অর্থ ও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্মার্টফোন দিয়েই যে কেউ সহজে ‘সংবাদ’ প্রচার করতে পারছে। ভিউ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে তথ্য ছড়াচ্ছেন। একাধিক সিম ব্যবহার করে একই ব্যক্তি ভিন্ন নামে একাধিক আইডি খুলে অপপ্রচার চালানোর ঘটনাও ঘটছে।স্থানীয়রা জানান, ভুয়া আইডি থেকে প্রথমে ইনবক্স বা ফোনে ভয় দেখানো হয়, পরে ‘মামলা থেকে বাঁচাতে’ অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে অপপ্রচার আরও বাড়ানো হয়, ফলে ভুক্তভোগীরা মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমার পরিবারকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এতে আমরা সামাজিকভাবে বিব্রত ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।”সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, যাচাইবিহীন সংবাদ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে গুজব অনেকাংশে কমে আসবে। তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রচারের জন্য নীতিমালা ও নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।প্রবীণ সাংবাদিক ও ছড়াকার আব্দুল হামিদ মাহবুবু বলেন, “সংবাদ প্রকাশের আগেই ফেসবুকে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা আইনবিরোধী। এ বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, ফেইক আইডি ও অনলাইন টিভির কারণে পেশাদার সাংবাদিকরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছেন। তিনি সাইবার অপরাধ দমনে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ, সাইবার পুলিশিং জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাফর ইকবাল বলেন, এসব ফেইক আইডি সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে এবং কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়াচ্ছে, যা সামাজিক অবক্ষয় ডেকে আনছে।এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনায় কেউ জিডি করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পাওয়ায় সব আইডি শনাক্ত করা কঠিন হয়। তিনি জানান, ভুক্তভোগীরা সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করলে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন চ্যানেল ও পেজ বন্ধ করা গেলে গুজব ও অপপ্রচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
১ ঘন্টা আগে
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের সঙ্গে যাত্রী মিনিবাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের ওপরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহত কারও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার সন্ধ্যায় গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে তাকওয়া পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি মিনিবাস কালিয়াকৈরের চন্দ্রায় যাচ্ছিল। এ সময় কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি এলাকায় বিকল হওয়া একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে মিনিবাসের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক নারীসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত ২০ জন। পুলিশ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি ফ্লাইওভার থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।জিএমপি কোনাবাড়ি থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করীম জানান, মরদেহ সনাক্তের কাজ চলছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
২ ঘন্টা আগে
গণভোটের ফল বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের পথে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আইনজীবী শিশির মনির। তিনি বলেছেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে তা মানা হবে না এবং প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায় করা হবে।রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জনরায় উপেক্ষা নয়—গণভোট বাস্তবায়নে সরকারের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।শিশির মনির বলেন, “মাঝে মাঝে কোদাল কাঁধে নিলে হবে না। দেখতে যতই ভালো মনে হোক, রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান যদি না করতে পারেন, শুধু কোদাল কাঁধে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ খুশি হবে না।”তিনি আরও বলেন, “সরকার ভোট পেয়েছে ৫১ শতাংশ, আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছে। এখন আপনারা বলছেন গণভোট মানেন না। তার মানে আপনারা জনগণের রায় মানেন না।”সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের বিধান—সরকার ভালো কাজ করলে আমরা অভিনন্দন জানাবো। আপনারা খাল খনন করেছেন, আমরা অভিনন্দন জানিয়েছি। ভালো কাজ করলে সম্মান করব, ভালো কাজ না করলে সম্মান জানাবো না।”তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতামত ও অধিকারকে সম্মান জানানো সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। “গণভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয় এবং তা বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা অপরিহার্য। জনগণের রায় দ্রুত মেনে না নিলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা কার্যকর করার দাবি আদায় করবো,” যোগ করেন তিনি।
৩ ঘন্টা আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে ছামির (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার ধনাশী গ্রামের বাসিন্দা সোহরাফ মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় ধনাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরের দিকে উপজেলার ধনাশী গ্রামে নিজ ফসলি জমি দেখতে গেলে সাপ তাকে কামড় দেয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের পিতা সোহরাফ মিয়া জানান, দুপুরে মাঠে ফসল দেখতে গেলে হঠাৎ সাপের কামড়ে তার ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আর মজিব বলেন, জমিতে যাওয়ার সময় সাপের কামড়ে ছামির নামের ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৩ ঘন্টা আগে