আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠতে প্রস্তুত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া। মণ্ডপে বর্ণিল সাজসজ্জা, প্রতিমার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি আর দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকেরা। সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবের আমেজ।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৯০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে ৩টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টুঙ্গিপাড়া পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শুকদেব মণ্ডল। তিনি জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে ওই তিনটি মণ্ডপে এবার পূজার আয়োজন করা হচ্ছে না।ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য ও ভক্তরা। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে আলোকসজ্জা, প্রবেশপথ সাজানো এবং নানা নান্দনিক আয়োজন। প্রতিমায় শিল্পীর তুলির শেষ আঁচড়ে ফুটে উঠেছে দেবীর অপরূপ রূপ।দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজার ও জনপদেও বাড়ছে প্রাণচাঞ্চল্য। পূজার কেনাকাটা, নতুন পোশাক সংগ্রহ এবং উৎসবের অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রতিটি মণ্ডপে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত আয়োজকেরা।এদিকে, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।সব মিলিয়ে প্রতিমার সাজসজ্জা আর মণ্ডপের বর্ণিল আয়োজনে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত টুঙ্গিপাড়া। এখন অপেক্ষা মহাষষ্ঠীর। শুক্রবার দেবীর বোধন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের আবহে উৎসবটি মুখর করে তুলবে পুরো জনপদ।
৮ ঘন্টা আগে
নেত্রকোণার চল্লিশা বাজার কেন্দ্রীয় হাফিজিয়া মাদরাসায় ফজরের নামাজের পর উচ্চস্বরে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াতকে কেন্দ্র করে ছাত্র-শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। চল্লিশা বাজার সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ সদলবলে এ হামলায় নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এ হামলায় মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বর্তমানে নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী ও সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।এদিকে, খবর পেয়ে আহত ছাত্র ও শিক্ষকদের দেখতে এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে যান ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নেত্রকোণা জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা শাহ আলমসহ জেলা কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
৮ ঘন্টা আগে
বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৫ কিশোরকে আটক করে থানায় নেয় সদর থানা পুলিশ। পরে তাদের অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পুলিশের এ উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন আরও কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।বিশেষ করে শহরের জেলখানা মোড়ের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে সেখানে কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা ও দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের সতর্কতা, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত টহল জোরদার করা প্রয়োজন।জানা গেছে, আটক কিশোরদের কয়েকজনের পকেট থেকে গ্যাস লাইটার ও বিদেশি সিগারেট পাওয়া গেছে। এসব সামগ্রী পাওয়া যাওয়াই কাউকে অপরাধী প্রমাণ করে না। তবে কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব ও আচরণে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার। কৈশোরে অসতর্কতা, খারাপ সঙ্গ এবং পারিবারিক নজরদারির অভাব অনেক সময় বিপথে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।এ জন্য অভিভাবকদের সন্তানদের দৈনন্দিন চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও অভ্যাসের বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সমস্যা ও পরিবর্তিত আচরণ বোঝার চেষ্টা করতে হবে। শুধু শাসন নয়, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পারিবারিক সচেতনতাও কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এদিকে, এ ঘটনায় সদর থানা পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সংবাদ সম্মেলনসংক্রান্ত একটি বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই বার্তা পেয়ে কয়েকজন ফটোসাংবাদিক থানায় উপস্থিত হন। আটক কিশোরদের বিষয়ে জানতে চাইলে এবং ছবি তোলার চেষ্টা করলে কয়েকজন অভিভাবক সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা শালীনভাবে জানানোই প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পরিচয় ও ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, গোপনীয়তা এবং শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়টিও সাংবাদিকদের বিবেচনায় রাখতে হবে।কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান চালিয়ে আটক করা কিংবা অভিভাবকদের মুচলেকা নেওয়াই যথেষ্ট নয়। কোন এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা হচ্ছে, কারা তাদের অপরাধে জড়ানোর চেষ্টা করছে এবং কী কারণে তারা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে—এসব বিষয় চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।পুলিশকে আরও সতর্ক, দক্ষ ও তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে জেলখানা মোড়ে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর আইনসম্মত নজরদারি এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে কেবল পোশাক, বয়স, আড্ডা কিংবা ব্যক্তিগত সামগ্রীর ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নির্দিষ্ট আচরণ ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে হবে।কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত দায়িত্ব। পুলিশকে কঠোর হতে হবে অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা দমনে, আর কিশোরদের ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে আইনসম্মত ও শিশুবান্ধব পদ্ধতি। এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বগুড়ার জেলখানা মোড়সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
৮ ঘন্টা আগে
বগুড়ার সরকারি শাহ সুলতান কলেজে উ১চ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কলেজ মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শহিদুর রহমান।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার এই কলেজ সরকারী করন করা হয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও শিক্ষা বান্ধব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছেন। শিক্ষিত হয়ে কেউ বেকার থাকবে না তৃতীয় ভাষা শিখতে হবে সকল শিক্ষার্থীকে। আমরা ড্রপ আউট দেখতে চাই না, মাদক মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত শিক্ষিত সমাজ চাই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকির, কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শাহীন সাখাওয়াত চৌধুরী, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আব্দুল করিম, বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু,জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ উন নবী সালাম, প্রফেসর আব্দুল করিম,সহযোগী অধ্যাপক অরুপ কুমার কুন্ডু, সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, গ্রন্থাগারিক মুহ. শহীদ উল আজাদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশীদ সন্ধান এবং সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।অনুষ্ঠানে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দনের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের কলেজজীবনে স্বাগত জানানো হয়।অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
৯ ঘন্টা আগে