বরিশাল নগরীর একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ফ্লাটের দরজা-জানালা উড়ে পাশের খালে গিয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।১৫ এপ্রিল বুধবার ভোর ৬টায় নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাহ বাড়ি মসজিদ সংলগ্ন একটি ভবনে এই ঘটনা ঘটেছে। আহতরা হলেন- ওই ফ্লাটের বাসিন্দা ও সিকিউরিটি গার্ড মানিক, তার ছেলে মৃদুল ও মানিকের স্ত্রী। তাদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা গালিব ও মোশাররফ জানান, ভোর ৬টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, নিচতলার সব কটি রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লোহার গেট, দরজা ও জানালা ভেঙে পাশের খালে গিয়ে পড়েছে।যদিও পুলিশ প্রাথমিকভাবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ধারণা করছে, তবে স্থানীয়দের মধ্যে এটি নিয়ে সংশয় রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, সাধারণ সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এত বিশাল ক্ষয়ক্ষতি এবং লোহার দরজা-জানালা উড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক।২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার জানান, ওই ভবনের নিচতলায় মানিক ও তার ছেলে থাকতেন। বিস্ফোরণের সময় তারা ঘরের ভেতরেই ছিলেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৭ মিনিট আগে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ছয়চিরি দিঘীর পাড়ে প্রায় দুই শত বছরের প্রাচীন চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ উৎসবকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল তান্ত্রিক রীতিনীতিভিত্তিক নানা আচার-অনুষ্ঠান। দীর্ঘ ১০-১২ দিন ব্রত পালন শেষে প্রায় ৪০-৫০ জন সন্ন্যাসী এদিন কৃচ্ছ্রসাধনের সমাপ্তি ঘটান। চড়ক গাছে ভক্তদের ঘোরানো, জ্বলন্ত আগুনের ওপর ‘কালীনাচ’ এবং ধারালো দায়ের ওপর ‘শিব শয্যা’—এ ধরনের রোমাঞ্চকর আচার উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থীকে বিমোহিত করে।দিঘীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে স্থাপিত চারটি চড়ক গাছে সন্ন্যাসীদের পিঠে বড়শি গেঁথে ঘোরানোর দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ভক্তরা ফুল, দুধ ও চিনি দিয়ে ভক্তিভরে পূজা নিবেদন করেন।পূজাকে ঘিরে দিঘীর চারপাশে বসেছে জমজমাট গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ-বেতের তৈরি সামগ্রী এবং খৈ-বাতাসার দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় ছিল।চড়ক পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অনিরুদ্ধ প্রসাদ রায় চৌধুরী বলেন, “এই উৎসব এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল। মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে। পাশাপাশি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মেলা পরিদর্শন করে পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। একইসঙ্গে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা বাগান এলাকাতেও চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
১৪ ঘন্টা আগে
খুলনা দৌলতপুর থানার রেলিগেট এলাকায় যশোর সড়কে অ্যাডমসের সামনে রয়েল পরিবহণের একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীসহ মোটরসাইকেলচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম। নিহতদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানান তিনি।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ রাত সাড়ে ৮টার দিকে রয়েল পরিবহণের বাসটি ফুলবাড়ি গেট থেকে খুলনার উদ্দেশে আসার পথে ফুলবাড়ী গেটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলচালকসহ এক নারী বাসটির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ধারণা করা হচ্ছে তারা স্বামী-স্ত্রী। বাসটি আটক করে রেখেছে এলাকাবাসী।এ ঘটনায় বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমানে মরদেহ দুটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
১৪ ঘন্টা আগে
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের ন্যায় বাগেরহাটের রামপালেও উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে রামপাল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা।রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসির সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং লোকজ মেলা।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, রামপাল থানার ওসি (তদন্ত) সুব্রত বিশ্বাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ ইবনে আমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি.এম. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায়, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে রামপাল।
১৫ ঘন্টা আগে