যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। রাসুল (সা.) বলেছেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর। এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, নামাজ প্রতিষ্ঠা করা, জাকাত আদায় করা, হজ করা ও রমজান মাসে রোজা রাখা।যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা ও প্রবৃদ্ধি। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে সম্পদ পবিত্র হয়, জাকাতদাতার আত্মা শুদ্ধ হয় এবং জাকাত প্রদানে সম্পদে বরকত হয়। জাকাত প্রদান না করলে হালাল বা বৈধ সম্পদও হারাম মিশ্রিত হয়ে যায়। হালাল উপার্জন, হালাল সম্পদ ও হালাল খাদ্য ব্যতীত নামাজ, রোজা, হজ কোনো ইবাদতই কবুল হয় না।যাকাত ফরজ হয় স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক এমন মুসলিম নর-নারীর ওপর, যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর অতিবাহিত হবে। নিসাব হলো- নিত্যদিনের প্রয়োজন পূরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বাদ দেওয়ার পর সাড়ে ৫২ তোলা পরিমাণ (৬১২ দশমিক ৩৬ গ্রাম) রূপা অথবা সাড়ে সাত তোলা (৮৭ দশমিক ৪৮ গ্রাম) পরিমাণ স্বর্ণ থাকা অথবা এর সমমূল্যের ব্যবসার মালের মালিক হওয়া।বিনিময়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা, ট্রাভেলার্স চেক, ব্যাংক চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, পোস্টাল অর্ডার, মানি অর্ডার, শেয়ার সার্টিফিকেট, কোম্পানি শেয়ার, ডিও লেটার, সঞ্চয়পত্র, সিকিউরিটি মানি, জামানত, প্রাইজ বন্ড, ট্রেজারি বন্ড ইত্যাদি; ব্যাংকে বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা আমানত; যেমন বিমা, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট, মেয়াদি সঞ্চয়, এফডিআর, ফিক্সড ডিপোজিট, পেনশন স্কিম ও প্রভিডেন্ট ফান্ড; ফেরত পাওয়ার যোগ্য প্রদত্ত ঋণ, ব্যবসার পণ্য ও মূল্যবান শোপিস বা মূল্যবান পাথর-হীরা, জহরত, মণিমাণিক্য-মুক্তা ইত্যাদি; শেয়ার সার্টিফিকেটের নামিক মূল্য ও বাজারদরের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি হিসাব করতে হবে।নিসাব পরিমাণ ও তদূর্ধ্ব সম্পদের মালিক তার জাকাতযোগ্য সব সম্পদের জাকাত প্রতিবছর ২ দশমিক ৫ শতাংশ (৪০ ভাগের ১ ভাগ) হারে প্রদান করতে হবে। চান্দ্রবর্ষ ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে হয়, যেহেতু সৌরবর্ষ ৩৬৫ দিনে বা ৩৬৬ দিনে হয়, তাই সৌরবর্ষ অপেক্ষা চান্দ্রবর্ষ ১০ বা ১১ দিন কম। সৌরবর্ষ হিসেবে জাকাত প্রদান করতে চাইলে শতকরা ২ দশমিক ৫ শতাংশ এর পরিবর্তে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ দিতে হবে, অর্থাৎ মূল জাকাতের সঙ্গে অতিরিক্ত ১১ দিনের হিসাব যোগ করতে হবে। অনুরূপ কারও জাকাত সমাপনী হিসাব তারিখ রমজানে না হলে, তিনি অতিরিক্ত সময়ের জাকাত সমন্বয় করে জাকাত হিসাব তারিখ রমজানে নিয়ে আসতে পারেন।ব্যবসায়িক নার্সারি, হর্টিকালচার, বীজ উৎপাদন খামার, কৃষি খামার, বনজ বৃক্ষ খামার, ফলদ বৃক্ষ খামার, ঔষধি গাছের খামার, চা-বাগান, রবার বাগান, তুলাবাগান, রেশমবাগান, আগর গাছের বাগান, অর্কিড নার্সারি ও ফুল বাগান, মুরগির খামার, মাছের খামার ইত্যাদি এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামগ্রী-এসবের বর্তমান বাজারে বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরতে হবে।সোনা, রূপা, নগদ টাকা ও ব্যবসায়ী পণ্য-এই তিন খাতে জাকাতবর্ষ পূর্তি বা জাকাত হিসাব সমাপনী দিনে যত সম্পদ থাকবে, তার পুরোটারই জাকাত দিতে হবে। জাকাতবর্ষের মধ্যে যেকোনো সময় অর্থাগম ঘটলে, বছর শেষে মোট সম্পদের সঙ্গে তারও যাকাত প্রদান করতে হবে। প্রতিবছরের একই তারিখে ও একই সময়ে জাকাতের হিসাব করতে হয়। যেমন: পয়লা রমজান সন্ধ্যা ৬টা। এই সময়ের এক সেকেন্ড আগে যে সম্পদ আসবে, তা এ বছরের জাকাতের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সময়ের এক সেকেন্ড পর যে সম্পদ আসবে, তা পরবর্তী বছরের জাকাতের হিসাবে যাবে।জমি, বাড়ি ও গাড়ি যা বিক্রির জন্য রাখা হয়নি, তা জাকাত হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না। জমি, গাড়ি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট, যেগুলো বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান বিক্রয়মূল্য (বাজারদর) জাকাতের হিসাবে আসবে এবং এর মূল্য হিসাব করে প্রতিবছর জাকাত দিতে হবে।যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে, তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য ঋণ এবং কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণের চলমান কিস্তির পরিমাণ অর্থ বাদ রেখে অবশিষ্ট সম্পদের জাকাত দিতে হবে।চলতি মাসের (মার্চ-২০২৪) শুরুতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) রেট অনুযায়ী ৫২ দশমিক ৫ তোলা ২২ ক্যারেট রুপার বারের দাম হলো- প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। (এখানে অলঙ্কার হিসেবে দাম ধরা হয়নি। কারণ, এক্ষেত্রে অলঙ্কার তৈরির মুজুরি অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু জাকাত ফরজ হয় স্রেফ রুপার ওপর। এজন্য রুপার বিস্কুটের দাম ধরা হয়েছে)।সুতরাং এই পরিমাণ সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হলে তার ৪০ ভাগের এক ভাগ (২ দশমিক ৫০ শতাংশ) জাকাত দিতে হবে। শতকরা আড়াই টাকা বা হাজারে ২৫ টাকা হারে নগদ অর্থ কিংবা ওই পরিমাণ টাকার কাপড়চোপড় বা অন্য কোনও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দিলেও জাকাত আদায় হবে।
৮ ঘন্টা আগে
হাজার মাস ইবাদাতের চেয়ে উত্তম লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের রাতের ইবাদাত। বছর ঘুরে আবার এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল কদর। এ রাতে অধিক ইবাদাত এবং অধিক সওয়াবের আশায় এরইমধ্যে মসজিদে মসজিদে ভিড় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়ার আয়োজন এবং তবারক বিতরণ করা হয়। এরপর মুসল্লিরা যে যার মতো করে সারারাত ইবাদাতে মশগুল থাকেন। কেউ নামাজ পড়েন অনবরত, জিকির করেন, কেউ করেন কোরআন তেলাওয়াত। মহিমান্বিত এ রাতে দোয়ারও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়ার মাধ্যমে নিজেকে পাপমুক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ লাইলাতুল কদরের রাত। তাই নামাজ পড়া এবং কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি মুসল্লিরা দুহাত তুলে কাঁদেন আর গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। আল্লাহ এ রাতের বরকতে বান্দার সকল গুনাহ মাফ করে দেন।মহান আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, নাজাত, বরকত ও মাগফেরাত। পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরেই পবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। সে কারণে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ এই রাত। শবে কদরে মুসল্লিরা মসজিদে গিয়ে ইবাদাতে মশগুল থাকেন, তেমনি বাসাবাড়িতে ইবাদাত করেন নারীরা। পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে পরেরদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।এদিকে পবিত্র শবে কদর (লাইলাতুল কদর) উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত কামনা করে এই রাতের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।তারেক রহমান পবিত্র লাইলাতুল কদরকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ও মহিমামণ্ডিত রাত হিসেবে অভিহিত করেন, যা মানবজাতির জন্য ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে। তিনি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত, নফল নামাজ ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে রাতটি কাটানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে পবিত্র শবে কদরের পবিত্রতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করে সবাইকে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার অনুরোধও জানিয়েছেন।
২০ ঘন্টা আগে
আজ ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস। দ্বিতীয় হিজরির এই দিনে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ মার্চ মদিনা মুনাওয়ারা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণে ঐতিহাসিক বদর নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ‘বদর’। ইসলামের ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এ যুদ্ধ। ইসলাম ও মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে মক্কার মুশরিকদের প্রথম বড় যুদ্ধ এটি। ‘বদর যুদ্ধ’ ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ যুদ্ধের বিজয়ই মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বিশেষ সাহায্যে দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান মদিনা থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকারী এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আর তাতে ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় অর্জিত হয়। এটি ইসলামের ইতিহাসে বদরযুদ্ধ হিসেবে পরিচিত।এ যুদ্ধে মানুষের সব ধারণা নাকচ করে দিয়ে প্রায় উপকরণহীন মুষ্টিমেয় দলটিকে জয়ী করেন মহান রাব্বুল আলামিন। সত্য-মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্বের ইতিহাসে সংযোজিত হয় নতুন অধ্যায়। তাই শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এ দিনটি অনন্য অবস্থান দখল করে রেখেছে।ইসলামের ইতিহাসে বদর যুদ্ধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সীমাহীন। ১৭ রমজানের এ প্রেক্ষাপট ইসলামে বিশেষভাবে সংরক্ষিত। এ দিন ৩১৩ জন সাহাবিকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে তৎকালীন সময়ের আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত মক্কার কাফের-মুশরিকদের সঙ্গে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল রক্তক্ষয়ী বদর যুদ্ধ। মুসলমানদের মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এ যুদ্ধে ফেরেশতাদের মাধ্যমে বিশেষভাবে সাহায্য করে ঐতিহাসিক বিজয় দান করেছিলেন।তাওহিদ তথা একত্ববাদের বার্তাবাহক মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এটি ছিল প্রথম বড় সামরিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের আগে মুসলমান ও মুশরিকদের মধ্যে বেশ কয়েকটি খণ্ডযুদ্ধ হলেও বদরের যুদ্ধ ছিল দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম বড় যুদ্ধ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করে। ফলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও মদিনা রাষ্ট্রে ভিত্তি তৈরিতে এ যুদ্ধে বিজয় বিশেষ ভূমিকা রাখে।মুসলিম বাহিনী প্রতিকূল পরিস্থিতি ও অবস্থানে থেকে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বদর যুদ্ধের সময় মুসলিম বাহিনী যে প্রান্তরের অবস্থান নিয়েছিলেন, সে স্থানটিতে সূর্যের তেজ সরাসরি তাদের মুখের ওপর পড়ে। আর কাফেরদের মুখে দিনের বেলায় সূর্যের আলো পড়ে না। আবার মুসলমানরা যেখানে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করেন, সেখানে বালুময় মাটি, যা যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। অপর দিকে কাফেররা যেখানে অবস্থান নিয়েছিল, সেখানে মাটি শক্ত ও যুদ্ধের জন্য স্থানটি উপযুক্ত। এত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মহান আল্লাহ মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন। এটি ইসলামের অনেক বড় বিজয়েরই নামান্তর।ইসলামের বিরুদ্ধে বিশাল সৈন্য বাহিনীর মোকাবিলায় ঈমানদারদের ছোট একটি দলের সম্মুখ সংগ্রাম ছিল এটি। ঐতিহাসিক এ যুদ্ধে অবিশ্বাসীদের নেতা আবু জেহেলের নেতৃত্বে ছিল এক হাজার প্রশিক্ষিত সৈন্যের সুসজ্জিত বাহিনী। এ যুদ্ধে মানুষের ধারণাপ্রসূত সব রকমের চিন্তা ও উপলব্ধির বাইরে গিয়ে আল্লাহ তাআলা অস্ত্রহীন ঈমানদারদের অতিক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন।সেদিন ইসলামে দীক্ষিত নব মুসলিমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছিল, জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। আবার সম্মান অপমানও আল্লাহর হাতে। সেদিন বদরের প্রান্তরে ঈমান ও কুফর, ন্যায় ও অন্যায়ের এক অন্যরকম ইতিহাস রচিত হয়েছিল। যা যুগ যুগ পর্যন্ত এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
১ সপ্তাহ আগে
মুসলিম বিশ্ব বিরল ও ঐতিহাসিক এক ঘটনা প্রক্যক্ষ করবে। মহাজাগতিক ও চন্দ্র ক্যালেন্ডারের বিশেষ বিন্যাসের কারণে আগামী ২০৩৯ সালে মুসলিমরা তিনটি ঈদ উদযাপন করবেন।সৌদি আরবের প্রখ্যাত জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদ জানিয়েছেন এই তথ্য। সাধারণত হিজরি ক্যালেন্ডার সৌর ক্যালেন্ডারের চেয়ে প্রতি বছর প্রায় ১১ দিন এগিয়ে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। খবর গালফ নিউজের।জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০৩৯ সালের শুরুতেই অর্থাৎ ৬ জানুয়ারি প্রথম ঈদুল আজহা (১০ জিলহজ ১৪৬০ হিজরি) উদযাপিত হবে। ইংরেজি বছরের ১২ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই চন্দ্র ক্যালেন্ডার তার চক্র সম্পন্ন করবে। একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো ঈদুল আজহা (১০ জিলহজ ১৪৬১ হিজরি) অনুষ্ঠিত হবে। এর অর্থ হলো, ২০৩৯ সালে একই পঞ্জিকাবর্ষে দুইবার পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দুইবার আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার সুযোগ পাবেন।এই দুই কোরবানির ঈদের মাঝখানে ১৯ অক্টোবর উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। ফলে ২০৩৯ সালটি হবে উৎসব ও ইবাদতের একটি অনন্য বছর। যেখানে একই সঙ্গে দুটি জিলহজ ও একটি রমজান মাস পূর্ণ হবে। হিজরি ও গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারের এই মিলন প্রতি ৩৩ বছর অন্তর এমন পরিস্থিতির জন্ম দেয়। ড. আল মিসনাদ আরও জানান, এই পরিবর্তনের ধারা কেবল ২০৩৯ সালেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে ২০৩০ সালেও মুসলমানরা একই ইংরেজি বছরে দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করবেন। ২০৩০ সালের জানুয়ারি মাসে একবার ও ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয়বার রমজান শুরু হবে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে এমন ‘দুই রমজান’ দেখেছিল বিশ্ব। মূলত হিজরি ক্যালেন্ডার ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের এবং গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডার ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনের হওয়ায় প্রতি বছর ১০ থেকে ১১ দিনের এই ব্যবধান তৈরি হয়।
১ সপ্তাহ আগে