বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে বাঁচাতে আরেকটি জাদুকরী পারফরম্যান্স করতে পারলেন না লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে রানার্সআপ মেডেল গলায় ঝুলিয়ে কাঁদতে দেখা গেল তাকে। অবশ্য স্পেনকে কৃতিত্ব দিতে কার্পণ্য করেননি তিনি।১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতার খোঁজে ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের এক মিনিট না হতেই ফেরান তোরেসের গোল। তাতেই হার মানতে হয় আলবিসেলেস্তেকে।গোল মাত্র একটি দিতে পারলেও স্পেন পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েছে। বল দখল থেকে শুরু করে পাসিং এবং গোলমুখে আক্রমণ—সবদিক থেকে আর্জেন্টিনার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল লা রোজারা।ম্যাচের পর দর্শকদের সঙ্গে অনুভূতি ভাগাভাগি করতে গিয়ে কান্না আটকে রাখতে পারেননি মেসি। তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত, তবে আমি জানি যে আমরা আমাদের পুরো হৃদয় দিয়ে খেলেছি।’ফাইনালে এবং পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই স্পেনের আধিপত্য ছিল একচ্ছত্র। ‘লা রোজা’ ফাইনালে শটের দিক থেকে ২০-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল এবং তারা আর্জেন্টিনাকে ৮৪৫-৪৩৩ পাসে পেছনে ফেলে দেয়।মেসি স্পেনের পারফরম্যান্সকে কৃতিত্ব দিলেন, ‘সত্যি বলতে, ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা খেলায় হেরেছি এবং আমরা তা মেনে নিচ্ছি। তার মানে এই নয় যে আমরা এ পর্যন্ত যা কিছু করেছি তা ভুলে যাব, তাই আমি আমার দেশের মানুষ, খেলোয়াড় ও আমার দেশকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
২১ ঘন্টা আগে
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। এতে দীর্ঘ ১৬ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুললো তারা। বিশ্বকাপ জিতে ট্রফি নেওয়ার পাশাপাশি বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানিও পাচ্ছে স্পেন। গত বছরের ডিসেম্বরেই ফিফা এবারের আসরের জন্য রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি) প্রাইজ ফান্ডের ঘোষণা দিয়েছিল। যা কাতারে অনুষ্ঠিত গত ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রাইজমানি হিসেবে পাবে ৫ কোটি ডলার পাচ্ছে। মানে স্পেন বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬১৬ কোটি টাকার বেশি নিয়ে দেশে ফিরছে। অন্যদিকে, রানার্সআপ দল আর্জেন্টিনা ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার পাচ্ছে (৪০৬ কোটি টাকা)।ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ড পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা) এবং পরাজিত ফরাসিরা পাবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (৩৩৩ কোটি টাকা)।রেকর্ড সেভ ও ৮০০ পাসে স্বপ্নভঙ্গকোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দল-মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে। এ ছাড়া শেষ ১৬ (রাউন্ড অব ১৬) থেকে বিদায় নেওয়া দল-বিদায়ী ৮টি দলের প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে। শেষ ৩২ (রাউন্ড অব ৩২) থেকে বিদায় নেওয়া দল-বিদায়ী ১৬টি দলের প্রত্যেকে পাবে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে।বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮ দিনের এই লড়াইয়ে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রত্যেকের জন্যই অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিত ছিল। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাচ্ছে ৯০ লাখ ডলার, সেই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রস্তুতি খরচ বাবদ দেওয়া হচ্ছে আরও ১৫ লাখ ডলার।
২২ ঘন্টা আগে
কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে শুরু। বিশ্বকাপে এই স্পেনকে দেখে বিস্ময় জেগেছিল। কিন্তু বদলে গেল তারা। একের পর জয়, আর গোলপোস্ট অক্ষত রেখে ফাইনালে উঠল লা রোজারা। শুরুটা হতাশার হলেও শেষটা একেবারে অবিশ্বাস্য। ফাইনালে বিশ্বকাপের হট ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে বশীকরণ করে চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ট্রফি জিতল তারা। ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে ইউরোপের পর জয় করল বিশ্ব।দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে একেবারে হতাশ করল আর্জেন্টিনা। মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রেখে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেনি তারা। ১২০ মিনিট খেলে পুরো ম্যাচে ছড়ি ঘুরিয়েছে স্পেন। নির্ধারিত সময়ে তাদের জয় না পাওয়া ছিল দুর্ভাগ্যজনক। ১০টি সেভে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিতে বড় অবদান রাখেন আর্জেন্টিনা গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। কিন্তু পারেননি অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের গোল ঠেকাতে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে তো বটেই, অতিরিক্ত সময়েও লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।ম্যাচের শুরু থেকে স্পেনের দাপুটে শুরু। ইয়ামাল ৫ মিনিটে প্রায় স্পেনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম বড় সুযোগটি পায় লা রোজা। ইয়ামাল বক্সে ক্রস বাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং বলটি ডিফ্লেক্ট হয়ে ওলমোর কাছে চলে যায়। ওলমো দারুণভাবে বলটি আবার তার দিকেই বাড়িয়ে দেন। ইয়ামাল বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় বলটি জালে জড়াতে পারেনি!ওয়ারজাবাল চমৎকার এক ফ্লিকে পোরোর উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়েছিলেন। তাকে ম্যাক অ্যালিস্টার ফাউল করে ফেলে দেন। কিন্তু রেফারি স্লাভকো ভিনসিক ফাউলের সেই আবেদন নাকচ করে দেন! দুই দলের মধ্যে স্পেনই শুরুটা ভালো করেছে, তবে আর্জেন্টিনাও ভীতি ছড়ায়। এর ঠিক কিছুক্ষণ আগে ৭ মিনিটে সিমন দ্রুত নিজের লাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে মেসিকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পাওয়া থেকে দুর্দান্তভাবে রুখে দেন!স্পেন তাদের আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায়। ৩৯ মিনিটে লাপোর্তে, রদ্রি ও বায়েনা নিজেদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়ায় বল দেওয়া-নেওয়া করেন। এরপর ফাবিয়ান আলতো টোকায় বল বাড়িয়ে দেন ওয়ারজাবালের দিকে। তিনি বক্সের প্রান্ত থেকে প্রথম সুযোগেই বাম পায়ের এক জোরালো শট নেন। কিন্তু মার্টিনেজ নিচে নেমে এসে দারুণভাবে বলটি রুখে দেন।৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর ইনজুরির লক্ষণ নিয়ে তিনি নিকোলাস ওতামেন্দির বদলি হন। পর্তুগাল ম্যাচের পর থেকে স্পেনের প্রতি ম্যাচেই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লেন। একই সময়ে কুকুরেয়ার দারুণ একটি প্রচেষ্টা ডানপাশের পোস্টের সামনে দিয়ে মাঠের বাইরে যায়।হাফটাইমের আগে ৬৫ শতাংশ বল পজেশনে রেখেছিল স্পেন। মাত্র ৩৫ শতাংশ আর্জেন্টিনা। লক্ষ্যে লা রোজারা শট রেখেছে দুটি। পাসেও দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার ১৫৫ নিখুঁত পাসের বিপরীতে তাদের ৩১৩! পুরোটা সময় লক্ষ্যে তো বটেই, কোনো শট নিতে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন দুইবার ক্লিয়ার সুইপ করে তাদের প্রচেষ্টা নষ্ট করে দেন। স্পেন ফাইনাল থার্ডে ৩৫ বার ঢুকেছে, যেখানে আর্জেন্টিনা মাত্র ১৮ বার।দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল স্কালোনি পরিবর্তন আনেন দলে। প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া নিকো গঞ্জালেজকে উঠিয়ে নামান লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে স্পেন ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। ওয়ারজাবালের পাস ধরে বায়েনা শট নেন। তার দুর্বল শট মাটিতে লাফিয়ে মার্টিনেজের হাতে পড়ে।বিরতির পর মাঠে নামার পর থেকেই পারদেসের জন্য এই বিশ্বকাপ ফাইনালের শুরুটা যেন একটি দুঃস্বপ্নের মতো হয়েছে! তিনি অযথাই রদ্রিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেন এবং এই ঘটনার জন্য তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এই সিদ্ধান্তের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে ধরেন এবং শেষ পর্যন্ত ওলমো মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির শেষ মুহূর্তের ট্যাকল! স্পেন ফাবিয়ানের মাধ্যমে পেছন থেকে পাল্টা আক্রমণ করে। বলটি ওয়ারজাবালের কাছে পৌঁছালে তিনি ফাবিয়ানকে পাস দেন। তিনি শট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বলটি পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওতামেন্দি এগিয়ে এসে বলটি বিপদমুক্ত করেন!পরের মিনিটে আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার বক্সের ডানপ্রান্ত থেকে ওলমোর ব্যাকপাস গোলপোস্টের সামনে কুকুরেয়ার পায়ে পড়ার আগেই গঞ্জালো মন্তিয়েল ক্লিয়ার করেন। দুই মিনিট পর নাহুয়েল মলিনাকে তার বদলি মাঠে নামান স্কালোনি।৬২ মিনিটে স্পেন দুটি পরিবর্তন আনে। ফাবিয়ানের জায়গায় পেদ্রি এবং ওয়ারজাবালের পরিবর্তে ফেরান তোরেস মাঠে নামেন। দুই মিনিট পর ওলমোর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট রুখে দেন মার্টিনেজ। তিনি বল ধরে রাখতে না পারলেও মাঠের বাইরে যায়।আর্জেন্টিনার ডানপ্রান্ত থেকে ইয়ামাল দারুণ একটা সুযোগ তৈরি করে দেন। আলভারেজ ও ম্যাকঅ্যালিস্টারকে পেছনে ফেলে বাইলাইন থেকে বার্সা তারকার বাঁ পায়ের ক্রস। তোরেস নিচু হেড করেন। কিন্তু মার্টিনেজের হাতে পড়ে বল। ৭০ মিনিটে আর্জেন্টিনা দুটি পরিবর্তন আনেন। মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলকে তুলে নিয়ে ফরোয়ার্ড জিউলিয়ানো সিমিওনেকে নামায় তারা। আর ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর বদলে ডিফেন্সে জায়গা পান ফাকুন্দো মেদিনা। ৭৫ মিনিটে স্পেন দুটি পরিবর্তন আনে। ওলমোর জায়গায় মিকেল মেরিনো ও বায়েনার জায়গায় নিকো উইলিয়ামস আসেন।দুই মিনিট পর গোল করার মতো জায়গা থেকে পেদ্রির শট মার্টিনেজের কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কয়েক মুহূর্ত পর ইয়ামালের দারুণ এক প্রচেষ্টা মেদিনা ব্লক করেন। তবে বল পড়ে কুবারসির পায়ে। দূর থেকে তার নেওয়া শট দুর্ভাগ্যজনকভাবে মার্টিনেজের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৮০ মিনিটে উইলিয়ামসের ক্রসে ব্যাকপোস্টে আইমেরিক লাপোর্তের দুর্বল হেড তিনি রুখে দেন। ৮৭ মিনিটে তোরেসের একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে উইলিয়ামসের একটি শক্তিশালী শট রুখে দেন আর্জেন্টিনা কিপার। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। কুবার্সিকে ফাউল করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে পারেদেসের ফাউলের শিকার হন ইয়ামাল। বক্সের সামনে থেকে তার নেওয়া ফ্রি কিক দারুণভাবে রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে রাখেন মার্টিনেজ।অতিরিক্ত সময়ে প্রথমবার আর্জেন্টিনার জাল কাঁপায় স্পেন। নিকো উইলিয়ামস গোল করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ৯৬ মিনিটে স্পেন ভেবেছিল তারা এই বিশ্বকাপ ফাইনালে এগিয়ে গিয়েছে! বল স্পর্শ করার জন্য ইয়ামালের প্রচেষ্টা মেরিনোর কাছে পৌঁছায়। তিনি ওতামেন্দির চ্যালেঞ্জকে প্রতিহত করে শট নেন। কিন্তু মার্টিনেজ তা ব্লক করেন! উইলিয়ামস আলগা বলটি লুফে নিয়ে জালে জড়ান। কিন্তু রেফারি ওতামেন্দির ওপর মেরিনোর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন! অবশ্যই ভিএআর এটি পরীক্ষা করে দেখে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এর কিছুক্ষণ পর দারুণ এক গোলে স্পেনকে এগিয়ে দিলেন তোরেস। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ২৭ সেকেন্ডে পেদ্রো পোরোর ক্রসে উইলিয়ামসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে তিনি জালে বল জড়িয়ে দেন। ফাইনালে পঞ্চম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করলেন তোরেস। সবশেষ ২০১৪ সালে জার্মানির গোৎসের গোলে হার দেখেছিল আর্জেন্টিনা।১১৩ মিনিটে আরেকবার গোল করেছিলেন তোরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকার কারণে গোলটি বাতিল হয়। ১২০ মিনিটে মেরিনো ও কুবার্সির প্রচেষ্টায় আর্জেন্টিনার একটি গোলের সুযোগ নষ্ট হয়। মেসির ফ্রি কিক থেকে গোলমুখের সামনে সিমিওনে বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর তার আরেকটি শট গোলবারের উপর দিয়ে যায়।
২২ ঘন্টা আগে
জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজে ধরাশায়ী হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ক্ষুদ্রতম ফরম্যাটের সিরিজে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে কোনো পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। তবে পরের ম্যাচ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দেয়ার পর শেষ ম্যাচেও জয় পেয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল।আজ (১৯ জুলাই) বুলাওয়েতে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ১৪৩ রান করে জিম্বাবুয়ে। জবাব দিতে নেমে ২ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ। রান তাড়ায় পুরোটা সময়ই জয়টা হাতের মুঠোয় ছিল বাংলাদেশের। তবে মিডল অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং সহজ জয়কে রূপ দেয় রুদ্ধশ্বাস জয়ে। জয়ের জন্য শেষ ২ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল কেবল ৯ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে ইয়াসির আলী রাব্বির উইকেট তুলে নেন রিচার্ড এনগারাভা। শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৫ রান। প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন সেট ব্যাটার তানজিদ তামিম। পরের দুই বলে ইভান্সের শিকার হয়ে মোসাদ্দেক হোসেন এবং সাইফউদ্দিন সাজঘরে ফিরলে লড়াই জমে যায়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। হ্যাটট্রিক বলটায় দারুণ এক ইয়োর্কারে শেখ মেহেদীকে পরাস্ত করেন ইভান্স, বল লাগে ইভান্সের পায়ে। এলবিডব্লিউ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল বেশ। তবে বলটা ডেলিভারির আগেই আম্পায়ার নো বল দেয়ায় বেঁচে যান মেহেদী। পরের বলে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী। তবে ১৪৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৫ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। আর পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে মাত্র ৩০ রান। তবে পরের উইকেটে দারুণ জুটি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে তোলেন ৫৫ রান। হৃদয়ের সঙ্গে তানজিদের জুটিটা ৬৩ রানের। ততক্ষণে জয়ের ভিত পেয়ে যায় টাইগাররা। ইমন ও হৃদয় দুজনই ফিরেছেন ২৪ রান করে। আর আউট হওয়ার আগে ১০ রান করেন ইয়াসির আলি রাব্বি। শেষ ওভারে ফেরেন মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন। ব্যক্তিগত ফিফটি পূরণের পর ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী। এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। দলীয় ৬ রানেই ওপেনিং জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে ভালো জুটি পায় স্বাগতিকরা। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও ডিওন মায়ার্স মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৩৮ বলে ৪৭ রানে থামেন বেনেট। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন মায়ার্স। তার ইনিংস থামে ৭২ রানে। ৫২ বলে খেলা এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো। এরপর বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত আর কেউই ব্যক্তিগত রান দুই অঙ্কের ঘরে নিতে যেতে পারেননি। দলনেতা সিকান্দার রাজা ৩, রায়ার্ন বার্ল ৭, ব্র্যান্ড ইভান্স ১ ও ক্লাইভ মাদানদে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। আর মিল্টন সুম্বা ৪ ও মাপোসা শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন।
১ দিন আগে