টান টান উত্তেজনার ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২৯১ রানের টার্গেটে সফরকারীদের তারা থামিয়ে দেয় ২৭৯ রানে। জয় পায় ১১ রানে।এদিন শেষ দুই ওভার থেকে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৭ রান। আর বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল দুটি উইকেট।এই অবস্থায় ৪৯তম ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানকে দুটি ছক্কা হাঁকান বাঁ-হাতি পাক ব্যাটার শাহিন শাহ আফ্রিদি। তবে তিনি এক রান নিয়ে ননস্ট্রাইকে এলেই ঘুরে যায় খেলার মোড়। ওভারের শেষ বলে আফ্রিদির সঙ্গে থাকা হারিস রউফকে ক্যাচ আউট করে সাজঘরে পাঠান মুস্তাফিজ।ইনিংসের শেষ ওভার করতে আসেন ডান-হাতি টাইগার স্পিনার রিশাদ হোসাইন। তিনি মাত্র দুই রান দিয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠা শাহিন মাহ আফ্রিদিকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে পাক শিবিরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।এর মধ্যদিয়ে ১১ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেন মিরাজ-মুস্তাফিজরা।এই ইনিংসে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৬ রান করেন দলটির অধিনায়ক সালমান আলি আগা। ৯টি ছয় এবং চারটি ছক্কার মারে ৯৮ বল থেকে এই রান করেন তিনি। এছাড়া আব্দুল সামাদ ৩৪ এবং শাহিন মাহ আফ্রিদি ৩৭ রান করেন।বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ। তিন উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া নাহিদ রানা দুটি এবং রিশাদ হোসাইন একটি উইকেট পান।এর আগে রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভার থেকে তানজিদ হাসানের অনবদ্য সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৫ উইকেট হারিয়ে তারা ২৯০ রানের পুঁজি পায়। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯১।প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান করেন ১০৭ বল থেকে ১০৭ রান। যার মধ্যে ছয়টি চার এবং সাতটি ছক্কার মার রয়েছে। এছাড়া ওপেনার সাইফ হাসান ৩৬, নাজমুল হাসান শান্ত ২৭, লিটন দাশ ৪১ এবং তাওহিদ হৃদয় অপরাজিত ৪৮ রান করেন।এ ইনিংসে পাক বোলারদের পক্ষে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন হারিস রউফ। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন শাহিন মাহ আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ।তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচে সেরা খেলায়াড়ের খেতাব জিতে নেন টাইগার সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান।
১৮ ঘন্টা আগে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দাপটের সাথে শিরোপা জিতে নিয়েছে ভারত। অন্যদিকে শেষ আট থেকেই শোচনীয় বিদায় হয়েছিল ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তার মতে, ভারতের রক্তে মিশে আছে ট্রফি জয়ের নেশা, আর পাকিস্তান যেন হারার জন্যই মাঠে নামে!আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এটি তাদের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা। ভারতের এই সাফল্যে মুগ্ধ লতিফ বলেন, “টসে হেরেও তারা ২৫০ রান তুলছে। এখন কাউকেই তাদের ধারেকাছে দেখা যাচ্ছে না। এটা রাতারাতি হয়নি; গত ১০ বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফসল এটি। তারা এখন বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা এবং শিরোপা জয়কে অভ্যাসে পরিণত করেছে।”অন্যদিকে, সুপার এইট থেকেই বিদায় নেওয়া পাকিস্তান দল নিয়ে লতিফের মন্তব্য বেশ তিক্ত। তিনি বলেন, “ভারতের ডিএনএতেই আছে ট্রফি জয়, আর আমাদের ডিএনএ হলো নকআউট পর্বের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া। তারা খেলছে ট্রফির জন্য, আর আমরা যেন স্রেফ হারার জন্যই অংশ নিচ্ছি।” উল্লেখ্য, ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর ভারত এখন টানা তিনটি আইসিসি সাদা বলের শিরোপা ঘরো তুলেছে। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিতে ভারত যেখানে উৎসবের জোয়ারে ভাসছে, সেখানে লতিফের এমন মন্তব্য পাকিস্তান ক্রিকেটের সংকটের গভীরতাকেই যেন আরও একবার সামনে নিয়ে এলো।
১ দিন আগে
নারী ক্রিকেটারদের জন্য নতুন করে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী উইং। ‘বিসিবি উইমেন্স কাপ’ নামে আগামী ৫ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন সর্বশেষ ঢাকা উইমেন্স ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট লিগে খেলা ক্রিকেটাররা।এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে মোট আটটি দল। সব মিলিয়ে ১১২ জন ক্রিকেটার সুযোগ পাচ্ছেন এই প্রতিযোগিতায়। পুরো টুর্নামেন্টের জন্য অংশগ্রহণকারী সব খেলোয়াড়রা পাবেন ২৫ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি। টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড় ও কেচিং স্টাফদের থাকার ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আর চ্যাম্পিয়ন দল, প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্যও দেওয়া হবে পুরস্কার। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়ানোর কথা ছিল নারী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের আসর। কিন্তু স্পন্সরদের তেমন একটা আগ্রহ না থাকার কারণে ও তৃতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাওয়ায় টুর্নামেন্টটি স্থগিত করেছে বোর্ড। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর জুলাইয়ে হবে নারী বিপিএলের প্রথম আসর। নতুন সূচি অনুযায়ী ১০ জুলাই বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে নারী বিপিএলের প্রথম ম্যাচ। তার আগে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও। আর ফাইনাল ম্যাচ হবে ২১ জুলাই, মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
১ দিন আগে
পাকিস্তান ইনিংসের শেষ দিকে বাংলাদেশি বোলাররা মেলে ধরেছিলেন নিজেদের। যেখানে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩০০ ছাড়ানোর কথা ছিল, বাংলাদেশ তাদের আটকে রাখে ৩০০-র বেশ আগে। কিন্তু, ব্যাটাররা প্রতিদান দিতে পারেননি। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে আত্মসমর্পন করেছেন পাকিস্তানি বোলারদের সামনে। যার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচ হেরে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান। জবাবে ২৩.৩ ওভারে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১১৪ রানে।রান তাড়ায় শুরু থেকেই আসা-যাওয়ার মিছিলে শামিল হয় স্বাগতিক ব্যাটাররা। ১৫ রান তুলতেই সাজঘরে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার। ওপেনার সাইফ হাসান (১২ বলে ১২), তানজিদ হাসান তামিম (৭ বলে ১) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (২ বলে ০)—দাঁড়াতে পারেননি কেউই।এরপর হঠাৎ বন্ধ হয় ম্যাচ। প্রথমে বজ্রপাত, পরে শিলাবৃষ্টির কারণে ২ ঘণ্টার বেশি সময় পর শুরু হয় খেলা। বন্ধ হওয়ার আগে ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান তোলে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হলে নতুন করে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। খেলতে হতো টি-টোয়েন্টি মেজাজে।বৃষ্টি শেষে অনেকটা টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলছিলেন লিটন। ১৮ বলে করেছিলেন ৩৮ রান। তবে বেশি সময় স্থায়ী হয়নি তার ঝড়। মাজ সাদাকতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। ফেরার আগে করেছেন ৩৩ বলে ৪১ রান।এরপর উইকেটে এসে আফিফ হোসেনও রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তাকেও স্থায়ী হতে দেননি সাদাকাত। ১৫ বলে ৪১ রান করা আফিফকে ফিরিয়েছেন আলীর ক্যাচ বানিয়ে।দায়িত্ব নিতে পারেননি অধিনায়ক মেহেদী হাসনা মিরাজও। তিনি ফিরেছেন ফাহিশ আশরাফের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রকে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে করেছেন ৫ বলে মোটে ১ রান। রিশাদ হোসেনকেও (৫ বলে ২) ফিরিয়ে দিয়েছেন সাদাকাত। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত নেন তিনটি করে উইকেট। দুই উইকেট পান শাহিন শাহ আফ্রিদি।দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের হয়ে পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে বাংলাদেশি বোলারদের রীতিমতো শাসন করেছেন মাজ সাদাকাত। পুরো সময় টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেন তিনি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে, সেটি করতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩তম ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন তাকে। ফেরার আগে সাদাকাত করেন ৪৬ বলে ৭৫ রান। ১০৩ রানে ভাঙে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। আরেক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ফারহান করেন ৪৬ বলে ৩১।শামিল আহমেদকে নাহিদ রানা ফেরালে হঠাৎ চাপে পড়ে পাকিস্তান। ১৯ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই জুটিতে আসে ১০৯ রান।চতুর্থ উইকেট জুটি ভাঙে মিরাজের বদ্যানতায়। বিতর্কিত এক রান আউটে বিদায় নেন সালমান। এর আগে ৬২ বলে ৬৪ রান করেন সালমান। ৫৯ বলে ৪৪ রান রিজওয়ান ফেরেন এক বল পরেই। রিজওয়ান আউট হলে পাকিস্তান শিবির ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। শেষ ৫ উইকেট হারায় ২২ রানে। বাংলাদেশের পক্ষে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডারকে শেষ করেন তিনি। ৩৪ রান খরচায় ২ উইকেট নেন মিরাজ। তার একটি রান আউটে বদলে যায় ম্যাচের মোমেন্টাম।সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে মাঠে গড়াবে আগামী ১৫ মার্চ।সংক্ষিপ্ত স্কোরপাকিস্তান : ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪/১০ (শাহিবজাদা ৩১, মাজ ৭৫, শামিল ৬, রিজওয়ান ৪৪, সালমান ৬৪, হুসাইন ৯, সামাদ ১১, ফাহিম ১৪, আফ্রিদি ৩, ওয়াসিম ১, রউফ ২*; তাসকিন ৮-০-৫৯-১, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৩-১, নাহিদ ১০-০-৫৯-১, মিরাজ ১০-২-৩৪-২, রিশাদ ৯.৩-০-৫৬-৩, আফিফ ১-০-৮-০)বাংলাদেশ : ২৩.৩ ওভারে ১১৪/১০ (সাইফ ১২, তামিম ১, শান্ত ০, লিটন ৪১, হৃদয় ২৮, আফিফ ১৪, মিরাজ ১, রিশাদ ২, মুস্তাফিজ ৪, তাসকিন ৫, নাহিদ ৩*; আফ্রিদি ৫-০-২২-২, ওয়াসিম জুনিয়র ৫-০-২৫-১, রউফ ৪.৩-০-২৬-৩, মাজ ৫-০-২৩-৩, ফাহিম ৪-০-১৮-১)ফলাফল : পাকিস্তান বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানে জয়ী।
২ দিন আগে