সব ঠিক থাকলে আজকের দিনেই তথা ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলের। তবে সেপ্টেম্বরের আসন্ন সাদা বলের সিরিজ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আপাতত ঝুলে গেছে। এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই জানিয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে ভারত।বিসিসিআইয়ের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগে নির্ধারিত সেপ্টেম্বর মাসের সূচিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগামী বছরের শুরুর দিকে একটি উপযুক্ত সময় চাচ্ছে।বিসিসিআইয়ের সেই সূত্র এএনআইকে জানিয়েছে, ‘ভারত-বাংলাদেশ সিরিজটি জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। (দেশটির) সরকারের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে। অন্যদিকে বিসিবি এখন আগামী বছরের শুরুর দিকে একটি উইন্ডো খুঁজছে।’বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ভারত-বাংলাদেশ সিরিজটি জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে। ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের, তবে পরবর্তীতে সিরিজটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিসিবি ঘোষণা করেছিল, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আসবে ভারত। তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে এই সফর নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত সিরিজ নিয়ে কথা বলেছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি বলেছিলেন, ' (ভারত সিরিজ নিয়ে) আলোচনা হচ্ছে। দুইটা বোর্ড আলোচনা করছে। তারিখ এদিক সেদিক হতে পারে।'প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে শেষবার বাংলাদেশ সফর করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। এরপর বাংলাদেশে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর দু’দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের নির্ধারিত সিরিজ কেবল পিছিয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে বোর্ডের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়েছে। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসেনি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর দুই দেশের বরফ গলতে শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছিল।বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের বোঝাপড়ায় সেপ্টেম্বরে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবিও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছিল। যদিও এরপরই নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
১ দিন আগে
সান্তিয়াগো বার্নাবুতে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক, ভিনিসিয়ুসের গোল আর অ্যাসিস্টে রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এর মধ্য দিয়ে নতুন মৌসুম ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে ক্লাবটি।২৬ আগস্ট বুধবার রাতে লা লিগায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এই দাপুটে জয় নিশ্চিত করে টেবিলের শীর্ষ স্থানেই থাকল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণের ঝড় তোলে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস আক্রমণ সাজালেও সোসিয়েদাদের গোলরক্ষক অ্যালেক্স রেমিরোর দৃঢ়তায় গোলের মুখ দেখতে পায়নি এই জুটি। পাল্টা আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণভাগে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন রিয়াল সোসিয়েদাদের স্প্যানিশ খেলোয়াড় মিকেল ওয়ারজাবাল, যদিও বেলজিয়ামের থিবো কুর্তোয়ার দুর্দান্ত সেভে সে যাত্রা রক্ষা পায় স্বাগতিকরা।ম্যাচের ৪০তম মিনিটে মাদ্রিদ অধিনায়ক ফেদে ভার্লভার্দের বানানো পাস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটান এমবাপ্পে। এরপর জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে লা-লিগার এবারের মৌসুমে প্রথম গোল পূর্ণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।তবে রিয়ালের উদযাপনের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র চার মিনিট। ৪৪তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে থিবো কুর্তোয়াকে পরাস্ত করে স্কোরবোর্ড ১-১ সমতায় আনেন সুচিচ। ১-১ সমতায় নিয়ে বিরতিতে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ৬০ মিনিটে জুড বেলিংহামের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এমবাপ্পে।আক্রমণের ধারা বজায় রেখে ৬৮তম মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মধ্যমাঠে বেলিংহাম প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বক্সের ভেতর পাস বাড়ালে সেখান থেকে সহজেই লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।ম্যাচের ৮০তম মিনিটে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন এমবাপ্পে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাটমেগ পাস থেকে বল পেয়ে সোসিয়েদাদ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ চিপে গোল করে দলকে ৪-১ গোলের জয় এনে দেন এই তারকা।
৩ দিন আগে
ম্যাকাই টেস্টে দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে হারল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তারা অলআউট হয়েছে ৯৫ রানে। এই প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই এক শর নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ।টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং বেছে নেওয়ার পর থেকে কখনোই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। দুই ইনিংসেই হতাশার ব্যাটিংয়ের পর একমাত্র স্বস্তি শরীফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ উইকেট পাওয়া।এই টেস্টে টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং বেছে নেওয়ার পর থেকে কখনোই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই হতাশার ব্যাটিংয়ের মাঝে একমাত্র প্রাপ্তি দুর্দান্ত বোলিংয়ে শরীফুল ইসলামের ৭ উইকেট পাওয়া।রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে অস্ট্রেলিয়ার ২ উইকেট তুলে নিতে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লাগে বাংলাদেশের। এর মধ্যেই প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যায় ১৪৬ রানে।উইকেটে বোলারদের খুব বেশি বাড়তি সুবিধা ছিল না। তবু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসের মতোই হতাশ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তারা যেভাবে আউট হয়েছেন, তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।থিতু হয়ে যাওয়ার পর ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল, তানজিদ আউট হয়েছেন হুক করতে গিয়ে, লিটন ১০ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। একপ্রান্ত আগলে থাকা মুশফিক ৮০ বল খেলে ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।শেষটা হতাশার হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে ভালোভাবেই লেখা থাকবে এই সিরিজটা। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে ডারউইন টেস্টের জয়টা ক্রিকেটারদের স্মৃতিতেও সবসময় থেকে যাবে। দীর্ঘ অপেক্ষার দুই টেস্টের সিরিজ শেষ হলো ১–১ সমতায়।
৬ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ব্যর্থতাকে সরিয়ে দিয়ে ডারউইনে তারা ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পায়। সেই সাফল্যে উজ্জীবিত বাংলাদেশ ম্যাকাই টেস্টে হতাশ করল। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে তারা। সফরকারীদের গুটিয়ে দিতে ৩৪ ওভার লেগেছে অস্ট্রেলিয়ার। ডারউইনে বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য জয়ের পর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্যে ম্যাকাই টেস্টে নেমেছিল। কিন্তু স্টার্ক তার প্রথম ২২ বলে ৫ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইন তছনছ করে দেন। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকে সফরকারীরা। ৬.৪ ওভারে ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। স্টার্ক এই সময়ে ৪ ওভার চার ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র চার রান দিয়ে ফাইফার পান। এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে ফাইফারের দেখা পান তিনি।প্রথম বলে সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের শিকার বানান অজি পেসার। পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান স্টার্ক। প্রথম তিন ব্যাটারই মারেন ডাক। মুমিনুল হককেও ফেরান তিনি মাত্র ৯ রানে। ৫ বল খেলে লিটন দাস ডাক মারেন। টেস্টে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড ভাঙার শঙ্কা আপাতত কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। তবে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়া এড়াতে এখনও কিছুটা পথ বাকি। যদিও মুশফিকুর রহিম ৪২ বলে ৫ রান করে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হয়েছেন। ২১ রানে ৬ উইকেট পড়েছে বাংলাদেশের। তারপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের ১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথম সেশন শেষ করে তারা। মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। টেস্টে সর্বনিম্ন রানে অলআউট (২৬) হওয়ার লজ্জা এড়াতে পারলেও হতাশা নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে ছিল ৩৫ রান।দ্বিতীয় সেশনে কামিন্স প্রথমবার বল হাতে নিয়ে এই জুটি ভেঙে দেন। তৃতীয় স্লিপে ইনিংস ১১ রানে বেউ ওয়েবস্টারের ক্যাচ হন মিরাজ। হাসানের সঙ্গে তার ১৫ রানের জুটি ভেঙে যায়। পরের ওভারে জশ হ্যাজেলউডের শিকার হাসান। ১০ রানে নাথান লায়নের ক্যাচ হন তিনি। তাসকিন আহমেদকে কামিন্স নিজের তৃতীয় শিকার বানান। ম্যাথু রেনশর ক্যাচ হয়ে ১ রানে থামেনি বাংলাদেশি ব্যাটার।৩৯ রানে নবম উইকেট হারিয়ে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন রানে (৪৩) অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল। কিন্তু তাইজুল ইসলাম ৩০তম ওভারের শেষ বলে হ্যাজেলউডকে চার মেরে সেই লজ্জা এড়ান। এদিকে শরিফুল ১১ নম্বরে নেমে ইনিংস সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটি গড়েন। তাকে ফিরিয়ে স্টার্ক বাংলাদেশকে অলআউট করেন। তাইজুল ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। বাংলাদেশ একাদশসাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।অস্ট্রেলিয়া একাদশট্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড।
১ সপ্তাহ আগে