উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা দেশের মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় জোরদার, সঠিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অর্থায়ন নিশ্চিত করে বিদ্যমান সংকট দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার তৃতীয় দিনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত কিছু সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নেতিবাচক প্রভাব এর অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।তবে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর এই সংকটের প্রভাব সামাল দিতে সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বা অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে দারিদ্র্যসীমা নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা বলা হলেও সরকারের অতীতের সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। সঠিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের আবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনা সম্ভব।অতীতের ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, ইতিপূর্বে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা, যুদ্ধাবস্থা এবং জ্বালানি সংকটের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ রফতানি ও বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রেখেছিল। এছাড়া আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারী শক্তির অংশগ্রহণের মাধ্যমে অতীতে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। সেই সফল মডেলগুলো কাজে লাগিয়ে বর্তমান সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সাথে আলোচনার অগ্রগতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, বৈশ্বিক এই ধাক্কা বা ‘এক্সটার্নাল শক’ মোকাবিলায় দেশের নিজস্ব কৌশল রয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীরাও বর্তমান বাস্তবতাকে স্বীকার করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। দরকষাকষির মাধ্যমে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৩ ঘন্টা আগে
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ১২ বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা সবাই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ নিন্দা জানান।বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন, দুর্নীতি, পদ্ধতিগত নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাংলাদেশ যখন ভয়াবহ সংকটের মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। ওই সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতেও ভূমিকা রাখে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও স্বার্থান্বেষী মহল অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তাঁকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।এসব কর্মকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে বিবৃতিদাতারা বলেন, এর উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা।বিবৃতিতে তারা দৃঢ়ভাবে বলেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তাদের অঙ্গীকার দুর্বল করা যাবে না। তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সংস্কার ও মর্যাদার ঐতিহাসিক জনরায় অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ও তার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় মুছে ফেলা সম্ভব নয়।বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও ড. এম. ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক, ইউবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী ও ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
১৭ ঘন্টা আগে
বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ওপরের সিলিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।তবে ইউনিটটি পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।
১৯ ঘন্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্ত শুর্তসমা।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাতের তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।তিনি বলেন, বৈঠকে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা এবং ভূমি পুনরুদ্ধারকাজে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে নেদারল্যান্ডস সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। ফলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।উপপ্রেস সচিব জানান, বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বাংলাদেশে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং অভিযোজনক্ষম নদী ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে তার দেশের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ।বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার তথ্য দিয়ে উপপ্রেস সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ মনে করে, এ সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চায়। এ সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বৈঠকে।’বৈঠকে কৃষি খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। এই খাতে দেশটির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে উপপ্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁর সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব।বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৯ ঘন্টা আগে