জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে এসব টিকা সংগ্রহ করা হবে।প্রস্তাব অনুযায়ী, জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) একই সঙ্গে ক্রয়কারী সংস্থা ও সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।কর্মকর্তারা বলেন, সময়মতো টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এ ক্রয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের সংক্রামক ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে ইপিআই দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি হিসেবে কাজ করছে। টিকার নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১ দিন আগে
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি মৌসুমের গত ৮৭ দিনে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৬৩৯ শিশুর প্রাণহানি ঘটল।বুধবার (১০ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮৭ দিনে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৭ জনে এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯২ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৮ শিশু মারা গেছে তাদের মধ্যে ঢাকায় ৬ জন এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা) সারা দেশে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৪৫ জন, যাদের মধ্যে ৮২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগী পাওয়া গেছে ৯৪ জন। সব মিলিয়ে গত ৮৭ দিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ২৯ জনে। এদের মধ্যে ৬৬ হাজার ৯৯০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৯২৭ জন। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া ৮৫৩ জনসহ এখন পর্যন্ত মোট ৬৩ হাজার ১৪৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
১ দিন আগে
চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল যৌথ বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়াটি জানান।গত ৭ জুন একটি টকশোতে চিকিৎসকদের নিয়ে সাংবাদিক মাসুদ কামালের দেওয়া বক্তব্যকে ‘চরম অবমাননাকর’ উল্লেখ করে ড্যাব নেতারা বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজের বিরুদ্ধে একটি দেশবিরোধী গোষ্ঠী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতার জন্য শুধুমাত্র চিকিৎসক সমাজকে দায়ী করে জাতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।যৌথ বিবৃতিতে ড্যাব নেতারা বলেন, দেশের চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে তারা এসব ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে দিতে চান। ঢালাওভাবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা বলেন, একজন চিকিৎসক তার মেধা ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃতি পান।ড্যাব নেতৃদ্বয় বলেন, তারা অত্যন্ত অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন যে, নিজেকে সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে পরিচয়দানকারী সাংবাদিক ও ইউটিউবার মাসুদ কামাল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে আদ-দ্বীন হাসপাতালে অনাকাঙ্ক্ষিত ও তদন্তাধীন শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আলোচনার সময় প্রসঙ্গের বাইরে গিয়ে চিকিৎসক সমাজকে উদ্দেশ করে বলেন, “ডাক্তারদের মতো চামার কোন শ্রেণী এই দেশে আর নেই।”এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ড্যাব নেতারা অবিলম্বে মাসুদ কামালকে জনসম্মুখে চিকিৎসক সমাজের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজের পক্ষ থেকে তাকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।ড্যাব নেতৃদ্বয় দাবি করেন, মাসুদ কামালের মতো গুটি কয়েক ‘বুদ্ধিজীবীর লেবাসধারী ষড়যন্ত্রকারী’ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য দেশবিরোধী একটি গোষ্ঠীর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। তাদের মতে, দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার পরিবর্তে এই গোষ্ঠী রোগীদের বিদেশমুখী করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।মাসুদ কামালকে উদ্দেশ করে ড্যাব নেতারা বলেন, মনস্তাত্তিকভাবে মানুষ নিজে যেমন, তার চারপাশের অন্যান্য মানুষকে একই চরিত্রের মনে করে।তারা আরও বলেন, চিকিৎসকদের অশালীন শব্দ দিয়ে সম্বোধনের মাধ্যমে সাংবাদিক মাসুদ কামাল মূলত নিজের চরিত্রই ফুটিয়ে তুলেছেন। তাই তার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসম্মুখে চিকিৎসক সমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তারা।একই সঙ্গে চিকিৎসক সমাজ ও সাধারণ জনগণকে এ ধরনের ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ বয়কট করারও উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ড্যাব নেতারা।বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক ডা. এরফান আহমেদ সোহেল।
১ দিন আগে
হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্টের (স্টেন্ট) পুনঃনির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে দেশের হাসপাতালগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর (ডিজিডিএ)।মঙ্গলবার (৯ জুন) অধিদফতর থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়। এতে সই করেন মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন।চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আমদানিকৃত বিভিন্ন ধরনের করোনারি স্টেন্টের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের স্মারক অনুযায়ী, ট্যাক্স, ভ্যাট, বিভিন্ন চার্জ-কমিশন এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নিয়ে স্টেন্টগুলোর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য এর আগে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। পরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন বিশেষজ্ঞ কমিটির সপ্তম সভায় পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গঠিত বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ সভার সুপারিশের আলোকে স্টেন্টের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এরপর গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত কমিটির সপ্তম সভায় মূল্য সংক্রান্ত আপত্তি ও আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চিঠিতে হাসপাতালগুলোর জন্য চারটি জরুরি নির্দেশনা দেয়া হয়। এগুলো হলো- হার্টের রিংয়ের নতুন মূল্য তালিকা সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রদর্শন করতে হবে। রিংয়ের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি অনুসরণ করে ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে এবং এটিকে কোনোভাবেই চিকিৎসা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না । দামের বিষয়ে চিঠিতে জানানো হয়, আমদানিকারকরা বিভিন্ন মডেলের হার্টের রিংয়ের দাম সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সিলিন কাভার্ড স্টেন্ট বা রিংয়ে দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ হাজার টাকা। এছাড়া ম্যাগমা র্যাপামাইসিন রিংয়ের দাম ৩৭ হাজার থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
২ দিন আগে