ক্যাটাগরি

সামাজিক মাধ্যম

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার সিদ্ধান্ত, প্রশংসায় ভাসছেন তারেক রহমান

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার সিদ্ধান্ত, প্রশংসায় ভাসছেন তারেক রহমান


দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন ধারার সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ধারাবাহিক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তার কারণে তিনি একের পর এক প্রশংসায় ভাসছেন।প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রীদের জন্য ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়—এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রত্যেক মন্ত্রীর কাজ, দক্ষতা, বাস্তবায়ন ক্ষমতা এবং জনমুখী উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১৮০ দিন আসলে একটি পারফরম্যান্স উইন্ডো—যার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে কে কতটা সফল, কে আংশিক সফল এবং কে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন, দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে—অনেক মন্ত্রী আগের তুলনায় বেশি সক্রিয়। কেউ কেউ অতিরিক্ত মন্তব্য থেকে বিরত থাকছেন। অনেকে অত্যন্ত সতর্ক ভাষায় কথা বলছেন। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ সবাই বুঝতে পারছেন—প্রধানমন্ত্রীর একটি অনানুষ্ঠানিক “গুড বুক” ও “ব্যাড বুক” তৈরি হচ্ছে। এই গুড বুক ও ব্যাড বুক আসলে এক ধরনের রাজনৈতিক আমলনামা—যেখানে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, শৃঙ্খলা, আনুগত্য, দক্ষতা এবং জনগ্রহণযোগ্যতার হিসাব সংরক্ষিত হচ্ছে।ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, মন্ত্রীদের জন্য পারফরম্যান্স উইন্ডোএই ১৮০দিন পর সেই পারফরম্যান্সের আলোকে নির্ধারিত হবে কার অবস্থান শক্ত হবে, আর কার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়বে। ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে ‑ অর্থাৎ প্রত্যেক মন্ত্রীর সামনে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, যাতে তার দায়িত্ব পালন, শ্রদ্ধাশীল শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও জনগ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। এই সময়টা শুধু সময় নয়—এটা একটি কঠিন পারফরম্যান্স টেস্টের সময়ও বটে ।সবাইকে প্রতিদিন, প্রতিটি কাজ, প্রতিটি উদ্যোগ এবং জবাবদিহিতায় নিজেকে প্রতিপন্ন করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী ইন্ডিভিজুয়াল পলিসি এবং কর্মসম্পাদনায় পারফরম্যান্স‑স্পিরিট দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন—বলছেন এটি শুধু একটি সময়সীমা নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের কার্যকর বাস্তবায়নের সুযোগ। সরকারের নতুন ১৮০‑দিনের কর্মপরিকল্পনা‑তে তিনটি প্রধান অগ্রাধিক্য নির্ধারণ করা হয়েছে- দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও গ্যাস‑বিদ্যুত সহ জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করা। সরকার পরিচালনায় উদাহরণ স্থাপন মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিচ্ছেপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে আসার পর অর্ধেক লাইট বন্ধ করে এসির মাত্রা কমিয়ে দপ্তরের বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুরু করেছেন। তিনি সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হেঁটে যাওয়া ও অনুষ্ঠান শেষে হেঁটে ফিরে আসার মাধ্যমে প্রথাগত ভিআইপি চলাচলের পরিবর্তন দেখিয়েছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস করার প্রথা পুনঃপ্রবর্তন, গাড়িবহর কমানো এবং দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ রাখার ভিআইপি প্রথা বাতিল, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জোরদার করতে প্রশাসনিক বৈঠক করা, সরকারি ব্যয় সংকোচন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনায় নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছেন।রাস্তায় সাধারণ মানুষের মতো চলাচল করে তিনি দেখিয়েছেন, যে কোনো বিশেষ সুবিধার চাপে বা ভিআইপি প্রথার বোঝায় নয়। সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁকে দেখে হাত নেড়ে সালাম দিচ্ছেন, স্বাগত জানাচ্ছেন এবং এই বাস্তবমুখী নেতৃত্বে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এই সরল, জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করার উদাহরণ মানুষের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে এবং নতুন বার্তা দিচ্ছে—সরকারের কাজ কেবল কাগজে নয়, মানুষের জীবনে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।প্রশংসায় ভাসছেন রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা, সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা এবং দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে ধীরে ধীরে একজন রাষ্ট্রনায়কের পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্র পরিচালনার নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন—এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর মতো কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তারেক রহমানের উত্থানও ছিল ধাপে ধাপে। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে তিনি প্রথমে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে করতে নেতৃত্ব ধরে রাখার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। পরবর্তীতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত রাজনৈতিক নেতৃত্বে রূপ দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক নেতা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে যাওয়া তারেক রহমান এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তার নানা সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। সমর্থকদের মতে, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও সেগুলোর বাস্তব ফলাফলের ওপর। তবুও বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে তিনি যে অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী নেতা—সে বিষয়ে দ্বিমত খুব কমই রয়েছে।বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল সংক্ষিপ্ত, ইতিবাচক দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফরকে ঘিরে বিমানবন্দরের প্রটোকল সীমিত করে মাত্র চারজন কর্মকর্তার উপস্থিতি নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। আগে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ যাত্রা বা দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে বহু মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব, বাহিনীর প্রধানসহ বড় একটি সরকারি প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকত। এতে প্রটোকল আয়োজনটি অনেক সময় জটিল ও বড় পরিসরের হয়ে যেত। নতুন সিদ্ধান্তে সেই দীর্ঘ তালিকা কমিয়ে মাত্র চারজন কর্মকর্তাকে রাখার মাধ্যমে প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা কমানো এবং প্রটোকলকে আরও সংক্ষিপ্ত ও বাস্তবসম্মত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের সরলতা ও ব্যয়সংকোচনের বার্তাও বহন করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারেক রহমান একটি ভিন্নধর্মী নেতৃত্বের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন—যেখানে অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমিয়ে কার্যকর প্রশাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং বলছেন, রাষ্ট্রীয় প্রটোকলকে সংক্ষিপ্ত করার এই উদ্যোগ সরকারের ব্যয় কমানো ও বাস্তবমুখী প্রশাসনের একটি উদাহরণ হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন উদ্যোগের প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করবে ভবিষ্যতে প্রশাসনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাস্তবমুখী সংস্কার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় তার ওপর।লেখক: মিডিয়া অ্যানালিস্ট ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদকসিটি নিউজ ঢাকা

১ সপ্তাহ আগে

উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশে মশা দমনের আধুনিক পথ

উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশে মশা দমনের আধুনিক পথ


বাংলাদেশে মশার উপদ্রব এখন শুধু নাগরিক দুর্ভোগ নয়, এটি একটি জাতীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং চিকনগুনিয়ার মতো রোগগুলো প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষকে আক্রান্ত করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুধু ধোঁয়া দেওয়া বা স্প্রে করেই আর মশা দমন সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন বিজ্ঞাননির্ভর, প্রযুক্তিভিত্তিক, এবং স্থায়ী সমাধান।বিশ্বের উন্নত দেশগুলো ইতোমধ্যেই অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণে সফলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ যদি সেই প্রযুক্তিগুলো সঠিকভাবে ব্যবহারে সক্ষম হয়, তবে অল্প সময়েই মশা সমস্যার ব্যাপক উন্নতি হবে। নিচে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য সব আধুনিক সমাধান ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো।১. জেনেটিকালি-মডিফায়েড (GM) মশার ব্যবহার।মশা দমনে এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি।GM প্রযুক্তিতে বিশেষভাবে পরিবর্তিত পুরুষ মশা ছাড়া হয়, যারা স্ত্রী মশার সাথে মিলিত হলে তাদের ডিম ফুটে না। ফলে মশারসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পায়।বাংলাদেশে এর ব্যবহার কীভাবে করা যাবে:ঢাকার উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাইলট প্রকল্প চালানো।বিশ্ববিদ্যালয় ও বায়োটেক ল্যাবে গবেষণা সক্ষমতা তৈরি করা।আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যায়ক্রমিক মোতায়েন।ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রযুক্তি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিপ্লব এনেছে।২. BTI ও আধুনিক লার্ভিসাইড—পরিবেশবান্ধব লার্ভা নিয়ন্ত্রণBTI (Bacillus thuringiensis israelensis) মশার লার্ভা ধ্বংস করে কিন্তু মানুষ বা পরিবেশের ওপর কোনো ক্ষতি করে না।এটি লার্ভা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।কিভাবে ব্যবহার করা যায়:প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে BTI মজুত রাখার বাধ্যবাধকতা।নালা-খাল, ডোবা, পানিজমা স্থানগুলোতে নিয়মিত BTI প্রয়োগ।BTI উৎপাদনের জন্য দেশেই বায়োটেক কারখানা স্থাপন।৩. Autocidal Gravid Ovitrap (AGO) — মশার ফাঁদ প্রযুক্তিএই বিশেষ ফাঁদে স্ত্রী এডিস মশা ডিম পাড়তে এসে নিজেই মারা যায়।ফাঁদগুলো রাসায়নিকমুক্ত, সহজে স্থাপনযোগ্য ও অত্যন্ত কার্যকর।বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিকতা:আবাসিক এলাকায় AGO ফাঁদ স্থাপন করে মশার ঘনত্ব ৫০–৭০% পর্যন্ত কমানো যায়।বাজার, বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল—উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় AGO বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।৪. ড্রোন-ভিত্তিক লার্ভিসাইড স্প্রেবিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ড্রোন ব্যবহার করে—বড় জলাশয়।রিজার্ভার।নিষ্কণ্টক বা ঢোকার অযোগ্য স্থানবস্তি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাএগুলোতে লার্ভিসাইড ছিটানো হচ্ছে।বাংলাদেশের জন্য সুবিধা:স্বল্প সময়ে বিশাল এলাকায় স্প্রে করা সম্ভব।শ্রম কম লাগে।নির্ভুলভাবে পানিজমা স্থানে লার্ভা ধ্বংস করা যায়।৫. স্মার্ট মশা নজরদারি। (Surveillance Technology)এখন উন্নত বিশ্বে সেন্সর ও মোবাইল অ্যাপ–ভিত্তিক রিয়েল-টাইম মশা নজরদারি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।এগুলো বাতাসে থাকা মশার ঘনত্ব শনাক্ত করে।বাংলাদেশে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়:প্রতিটি ওয়ার্ডে সেন্সর স্থাপন করে মশার ঘনত্বের মানচিত্র তৈরি।নাগরিকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মশার উপদ্রব রিপোর্ট করতে পারবেসিটি কর্পোরেশনের কন্ট্রোল রুম থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।এটি সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই সতর্কবার্তা দেয়।৬. জৈবিক নিয়ন্ত্রণ—মাছ ও প্রাকৃতিক শত্রু।লার্ভা-খাদক মাছ (গাপ্পি, টিলাপিয়া) এখনো বিশ্বের বহু দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।বাংলাদেশে এটি বিশেষভাবে ব্যবহারযোগ্য।প্রস্তাবনা:প্রতিটি থানা/ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট জলাধার চিহ্নিত করে গাপ্পি মাছ ছাড়াস্কুল, হাসপাতাল, বাজারের জলাধারে বাধ্যতামূলকভাবে জৈবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।এটি খরচ কম, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব।৭. নালা-খাল পুনরুদ্ধার ও স্মার্ট ড্রেনেজ।ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ৬০ শতাংশই আসে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নতিতে।উন্নত শহরগুলোতে স্মার্ট ড্রেনেজ সিস্টেম ব্যবহৃত হয় যেখানে পানি জমা হওয়ার আগেই স্বয়ংক্রিয় পাম্পিং সিস্টেম পানি সরিয়ে ফেলে।বাংলাদেশে যা করা যেতে পারে:মডেল ‘স্মার্ট ড্রেনেজ জোন’ তৈরিসেন্সরযুক্ত ড্রেনেজ যা বাধা পেলে তাৎক্ষণিক সংকেত পাঠাবেনালা-খাল দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ সচল রাখা।৮. Aerial (Air-based) Fogging — আকাশপথে স্প্রেকিছু দেশে হেলিকপ্টার বা বড় ড্রোন থেকে অত্যাধুনিক মাইক্রো-ফগিং করা হয়, যা বড় শহরে দ্রুত মশা কমায়।ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরের জন্য:আকাশপথে বৃহৎ পরিসরে তাত্ক্ষণিক মশা দমন করা সম্ভববিশেষ উৎসব-ঋতু বা প্রাদুর্ভাবের সময় দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।৯. AI-ভিত্তিক পূর্বাভাস ব্যবস্থাআবহাওয়া, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, মশার গতিবিধি—এসব তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আগেই প্রাদুর্ভাবের পূর্বাভাস দেয়।বাংলাদেশে বাস্তবায়নের প্রস্তাব:স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আবহাওয়া বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মশা পূর্বাভাস সিস্টেম তৈরি।কোন মাসে, কোন এলাকায় রোগ বৃদ্ধি পাবে—আগেই জানা যাবেআগাম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবেবাংলাদেশের জন্য সমন্বিত করণীয়১) জাতীয় “মশা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি টাস্কফোর্স” গঠন।২) GM মশা ও AGO ফাঁদের পাইলট প্রকল্প চালু।৩) ড্রোন-ভিত্তিক স্প্রে এবং BTI বিতরণ বৃদ্ধি।৪) স্মার্ট মোবাইল অ্যাপ ও সেন্সর-ভিত্তিক নজরদারি।৫) বিশ্ববিদ্যালয়ে মশা গবেষণা ল্যাব প্রতিষ্ঠা।৬) সারা বছরব্যাপী প্রযুক্তিনির্ভর মশকনিধন কর্মসূচি।৭) নালা-খাল পুনরুদ্ধার ও স্মার্ট ড্রেনেজ বাস্তবায়ন। উপসংহার :বাংলাদেশে মশা দমনের সময়োপযোগী ও বৈজ্ঞানিক সমাধান গ্রহণ এখন জাতীয় প্রয়োজন। পুরনো পদ্ধতি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান আর সম্ভব নয়। উন্নত বিশ্বের আধুনিক প্রযুক্তি—GM মশা, BTI, ড্রোন, AI, AGO ফাঁদ, স্মার্ট নজরদারি—এসব ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ খুব দ্রুত মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।এখন প্রয়োজন দৃঢ় সিদ্ধান্ত, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নীতি।সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ মশা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে।লেখক: রাজনৈতিক, উন্নয়ন কৌশলবিদ, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যানভূঁইয়া  গ্লোবাল ফাউন্ডেশন। 

১ সপ্তাহ আগে

ধর্মীয় ছাত্র থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রে

ধর্মীয় ছাত্র থেকে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রে


মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৩৯ সালে মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া এই ধর্মীয় নেতা ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত আছেন। দেশটির সামরিক, বিচারিক ও কৌশলগত নীতিনির্ধারণে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন। তেহরানে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা যান। শৈশব ও ধর্মীয় শিক্ষাজীবনএকটি ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্ম নেওয়া খামেনি অল্প বয়সেই কোরআন ও ইসলামি ফিকহ শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইরানের ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র কোমে উচ্চতর ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন করেন। এখানেই তিনি ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন ইরানের বিপ্লবী নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির মতাদর্শের সঙ্গে, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।শাহবিরোধী আন্দোলন ও কারাবরণ১৯৬০–৭০ দশকে ইরানের শাহ সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন খামেনি। একাধিকবার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হন। তাঁর বক্তৃতা ও লেখালেখি তৎকালীন তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ শাসনের পতন ঘটে এবং খোমেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতা হন। নতুন ইসলামি প্রজাতন্ত্রে খামেনি দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানে উঠে আসেন।রাষ্ট্রপতি পদে আরোহন (১৯৮১–১৯৮৯)১৯৮১ সালে তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এই সময় চলছিল ইরান–ইরাক যুদ্ধ। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক নীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। একই বছর এক বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন; সেই হামলার পর তাঁর ডান হাত আংশিকভাবে অকার্যকর হয়ে যায়।সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দীর্ঘ অধ্যায় (১৯৮৯–২০২৬)১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তে খামেনি ইরানের সুপ্রিম লিডার নির্বাচিত হন। এই পদ ইরানের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর অবস্থান। ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুধু একজন ধর্মীয় নেতা নন—তিনি ইরানের রাষ্ট্রকাঠামো, সামরিক নীতি ও আঞ্চলিক কৌশলের প্রধান নিয়ন্ত্রক। তাঁর নেতৃত্বে ইরান একটি আদর্শভিত্তিক বিপ্লবী রাষ্ট্র থেকে ধীরে ধীরে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।রাজনৈতিক কাঠামোয় তাঁর প্রভাবইরানের সংবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম লিডার হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। আর খামেনির নিয়ন্ত্রণাধীন ক্ষেত্রগুলো হলো: সশস্ত্র বাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ড, বিচার বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম, গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও পররাষ্ট্রনীতি অনুমোদন। রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচিত হলেও চূড়ান্ত নীতিগত প্রশ্নে সুপ্রিম লিডারের কথাই শেষ কথা। ফলে ইরানের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব সরাসরি ও দীর্ঘমেয়াদি।গত তিন দশকে তিনি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন—বিশেষ করে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে ইরানের উপস্থিতি জোরদারে সমর্থন দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচিত হলেও চূড়ান্ত নীতিগত প্রশ্নে সুপ্রিম লিডারের কথাই শেষ কথা। ফলে ইরানের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব সরাসরি ও দীর্ঘমেয়াদি। গত তিন দশকে তিনি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে ভূমিকা রেখেছেন—বিশেষ করে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে।পারমাণবিক ইস্যু ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনাখামেনির আমলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও আঞ্চলিক উত্তেজনা তাঁর নেতৃত্বকালেই তীব্র হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরানকে একটি বিশেষ ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।ছাত্রজীবন থেকে সর্বোচ্চ নেতা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদ এবং সর্বোচ্চ নেতা—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাজনৈতিক জীবন ইরানের আধুনিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রায় ৩৭ বছর ধরে তিনি দেশটির নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বই ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

২ সপ্তাহ আগে

শিরোনাম
প্রথমে ২২ হাজার কৃষক পাবেন কার্ড, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আখাউড়ায় ত্রিপনী মেলা ও গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত ইরানের বাসিজ ফোর্সের প্রধান সোলাইমানি নিহত ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মতলবে জমে উঠেছে পশুহাট তরুণ প্রতিভা অন্বেষণে সসাস-এর জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’ সম্পন্ন কোনো অন্যায়ের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ নেই : আইজিপি কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় : প্রধানমন্ত্রী হুয়াওয়ের ৮টি গ্লোমো অ্যাওয়ার্ড অর্জন টেকনো মেগা ঈদ ফেস্ট-এ ঈদ আনন্দ হবে দ্বিগুণ ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন মহানগরী হিসেবে গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে চলেছে: জামায়াত আমির ভোগান্তি নেই পাটুরিয়া ফেরিঘাটে, নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছে মানুষ প্রথমে ২২ হাজার কৃষক পাবেন কার্ড, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আখাউড়ায় ত্রিপনী মেলা ও গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত ইরানের বাসিজ ফোর্সের প্রধান সোলাইমানি নিহত ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মতলবে জমে উঠেছে পশুহাট তরুণ প্রতিভা অন্বেষণে সসাস-এর জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’ সম্পন্ন কোনো অন্যায়ের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ নেই : আইজিপি কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় : প্রধানমন্ত্রী হুয়াওয়ের ৮টি গ্লোমো অ্যাওয়ার্ড অর্জন টেকনো মেগা ঈদ ফেস্ট-এ ঈদ আনন্দ হবে দ্বিগুণ ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন মহানগরী হিসেবে গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ চীন অবিরত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে চলেছে: জামায়াত আমির ভোগান্তি নেই পাটুরিয়া ফেরিঘাটে, নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছে মানুষ