বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, নীতি প্রণয়ন এবং সরকারি কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহার শেখাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। প্রথম ব্যাচে মন্ত্রণালয়ের ৩০ কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।ইউকে ইন্টারন্যাশনাল, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। রোববার বিকেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি কাজে এআইয়ের ব্যবহার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও তথ্যনির্ভর করতে পারে। আমদানি-রফতানি তথ্য বিশ্লেষণ, বাজার পরিস্থিতি ও পণ্যের চাহিদা-দর পর্যবেক্ষণ এবং বাণিজ্যনীতির সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি বলেন, এআইয়ের সহায়তায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে আরও কার্যকর সেবা দেওয়া সম্ভব। তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।প্রশিক্ষণে জেনারেটিভ এআইয়ের মৌলিক ধারণা ও বাণিজ্যে এর ব্যবহার, সরকারি নথি সংক্ষিপ্তকরণ ও বিশ্লেষণ এবং প্রম্পট তৈরির কৌশল শেখানো হবে। পাশাপাশি চিঠি, স্মারক, বক্তৃতা ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তৈরিতেও এআইয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখানো হবে।এ ছাড়া আমদানি-রফতানি তথ্য ও বাজারদর বিশ্লেষণ, সরবরাহব্যবস্থা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) চুক্তি এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) বিশ্লেষণে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।প্রশিক্ষণের বিভিন্ন পর্বে বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি, নীতি প্রণয়ন ও ই-গভর্নেন্সে এআইয়ের কৌশলগত ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হবে। শেষ দিনে অংশগ্রহণকারীদের প্রকল্প উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হবে।ইউএনডিপির অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এআইভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানো এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি প্রণয়নে প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৩ ঘন্টা আগে
প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চায়না-বাংলাদেশ সিরামিকস অ্যানুয়াল কনফারেন্স ২০২৬’।বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন -বিসিএমইএ ও চীনের ফোশান ইউনিসেরামিকস এক্সপোর যৌথ আয়োজনে শনিবার ঢাকার লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ‘এমপাওয়ারিং টেকনোলজি, উইনিং টুমরো টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সিরামিক শিল্পের উদ্যোক্তারা অংশ নেন।অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিসিএমইএর মহাসচিব ও ফার সিরামিকস লিমিটেডের পরিচালক ইরফান উদ্দিন বলেন, আধুনিক যুগে শিল্পের অগ্রগতি অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সিরামিক শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ইউনিসিরামিকস চীনের ওভারসিজ বিজনেস ডিপার্টমেন্টের ব্যবস্থাপক ইভা চ্যান বাংলাদেশের সিরামিক বাজারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে মাথাপিছু সিরামিক পণ্যের ব্যবহার প্রায় এক বর্গমিটার, যেখানে চীনে সর্বোচ্চ ব্যবহার ছিল ৬ দশমিক ৯ বর্গমিটার। এ ব্যবধান বাংলাদেশের বাজারে বড় প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে মূল্যনির্ভর প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মান, নকশা ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, চীনা ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিসিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও এক্স সিরামিকস গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ এফসিএমএ বলেন, সিরামিক শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও দ্রুত বিকাশমান উৎপাদন খাত। বাংলাদেশে বিশ্বমানের টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার উৎপাদিত হচ্ছে, যা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিসিএমইএর সভাপতি ও মন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ময়নুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনটি শুধু একটি সম্মেলন নয়, বরং দুই দেশের শিল্প খাতের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্ল্যাটফর্ম। শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য চীনের উৎপাদন দক্ষতা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বৈদ্যুতিক কিলন ও হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ হিটিং সিস্টেমের মতো বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিসিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও এক্সিলেন্ট সিরামিকস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হাকিম সুমন সমাপনী বক্তব্যে শিল্পে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তিসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে শিল্পের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানান।উদ্বোধনী পর্ব শেষে চীনা প্রতিনিধি ও সম্মেলনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।পরে ‘টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ইন ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড বাংলাদেশ মার্কেট পটেনশিয়াল’ শীর্ষক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিএমইএর সহ-সভাপতি ও মন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রশীদ মায়মুনুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আকিজ সিরামিকস লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।কারিগরি অধিবেশনে আলোচক হিসেবে ছিলেন আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, গুয়াংডং ডিংহে সুপারহার্ড টুলসের এক্সপোর্ট ম্যানেজার জর্জ ইয়াং, ঝাওকিং জিনমা লিডিং ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সেলস ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ জুবায়ের এবং রেনচিউ কাংজি স্যানিটারি ওয়্যারের সেলস ম্যানেজার জ্যাক মা।অধিবেশনে মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফোশান পারপেচুয়াল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড এবং জিবো ভ্যানট্রন কেমিক্যাল টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের বিশেষায়িত উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। নেটওয়ার্কিং সেশন ও বিসিএমইএর পরিচালক এবং হুয়া থাই সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক (জিকো)-এর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়।
১ দিন আগে
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।এর আগে গত ৬ আগস্ট দেশের বাজারে ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। একদিন পর ৭ আগস্ট নতুন দাম নির্ধারণ করে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়।
১ দিন আগে
দাম বাড়ানোর একদিন যেতেই দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ভালো মানের; অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।
২ দিন আগে