আগামীকাল ৩০ আগস্ট (রোববার) ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ও স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া কর্মসূচি করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ আগস্ট (রোববার) ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ও স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হবে।বিকেল ৩টায় রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে থেকে সংসদ অভিমুখে এই পদযাত্রা শুরু হবে। সেখান থেকে মিছিল সহকারে সংসদ ভবনের সামনে উপস্থিত হয়ে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একইসঙ্গে কর্মসূচিকে সার্বিকভাবে সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।
১৪ ঘন্টা আগে
গুম অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার যে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তা গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে গুমকারীদের দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।দলটি বলেছে, গুমের সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হলে শক্তিশালী ও কার্যকর আইন, স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা এবং নির্দেশদাতাসহ প্রত্যেক দায়ী ব্যক্তির বিচারের আওতায় আসা নিশ্চিত করতে হবে।শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসাইন মানিক মিয়া হলে এবি পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত “রোহিঙ্গা গণহত্যা ও গুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ: জবাবদিহিতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যয়” শীর্ষক সেমিনারে দলের ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমানের সঞ্চালনায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা.ওহাব মিনারের সভাপতিত্বে বক্তারা এসব কথা বলেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা.মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, এফএসডিএস (Foundation for Strategic and Development Studies) এর চেয়ারম্যান ফজলে এলাহী আকবর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান, সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোকচিত্রশিল্পী শহীদুল আলম। সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার বলেন, ৫ আগস্ট ডিফেন্স ফোর্স জনগণের পক্ষে না দাঁড়ালে বাংলাদেশে গণহত্যার ভয়াবহতা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারত।তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের দুঃসহ স্মৃতি এবং তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গুমের সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে আর ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।তিনি গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও চেতনার আলোকে দেশ পরিচালনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।স্বাগত বক্তব্যে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশে গুমের ইতিহাস দীর্ঘ। মুজিব আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এখনো জহির রায়হানকে পাইনি।”তিনি বলেন, আমরা চাই গুমের সংস্কৃতির অবসান হোক। নতুন বাংলাদেশে আমরা আর গুম দেখতে চাই না।প্রস্তাবিত গুমবিরোধী আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন আইনে কিছু নতুন বিষয় থাকলেও এটি অনেকাংশে ২০০৯ সালের আইনের মতো মনে হচ্ছে। গুমসহ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন পুলিশ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।বিএনপিকে উদ্দেশ করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান হচ্ছে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ সংকট সমাধানে জাতীয় কমিটি গঠনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না; রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় থাকতে হবে।গুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা গুমের সংস্কৃতির অবসান চাই। আমরা আর সেই জায়গায় ফিরে যেতে চাই না।তিনি বলেন, দুর্বল পুলিশি ব্যবস্থা দিয়ে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের কার্যকর তদন্ত ও বিচার সম্ভব নয়।ফজলে এলাহী আকবর বলেন, গুমের বিষয়টি তদন্তে বর্তমান সরকারের কমিটি গঠনকে তিনি স্বাগত জানান। তবে শুধু কমিটি গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন ইস্যুতে গঠিত কমিটির ব্যর্থতার বহু নজির রয়েছে।তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।তিনি বলেন, আমি খুবই লজ্জিত যে আমাদের ডিফেন্সের লোকজন গুম-খুনে জড়িত ছিল, যা বিগত হাসিনা রেজিমে ঘটেছে।তিনি আরও বলেন, যখন একটি দেশের সেনাবাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন আর রাষ্ট্র থাকে না। আমাদের দেশে জবাবদিহিতার ঘাটতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং লাগামহীন দুর্নীতি রয়েছে। এখান থেকে আমাদের বের হতে হবে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো না গেলে ভবিষ্যতে নতুন করে পুশইনের আশঙ্কা রয়েছে।তিনি রাখাইনে নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে রোহিঙ্গাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানো যায়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত গুমবিরোধী আইন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে। আইন প্রণয়নের আগে ব্যাপক গবেষণা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, যার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠবে, সেই বাহিনীকে দিয়ে তদন্ত করা হবে না। একই সঙ্গে গুমের নির্দেশদাতারাও যাতে বিচারের আওতায় আসে, সে বিষয়টি আইন প্রণয়নে বিবেচনা করা হয়েছে।নিজের গুমের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া বলেন, গুম শুধু একজন ব্যক্তিকে নিখোঁজ করে না; এর সঙ্গে একটি পরিবারকে দীর্ঘদিন আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।সেমিনারে বক্তারা গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান, ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং গুমের নির্দেশদাতা ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, উদ্যােক্তা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সহ সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব রাশিদা আক্তার মিতু ও রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সীসহ মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, গবেষক, আইনজীবী, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।
২০ ঘন্টা আগে
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করছি।তিনি আরও লিখেছেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা, সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় আসলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। সেখানকার আলেমওলাদের ওপর দিয়েছেন। তাদের ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে ক্ষুন্ন করেছেন।হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার খবর মিডিয়ায় যেভাবে এসেছিল, বাস্তব চিত্র তা থেকে আলাদা ছিল। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। তাই শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমাতে বলে। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষর্থীদের কখা কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে। কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন পুলিশের লাঠিপেটায়। মিডিয়া ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলেও, ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা স্পষ্ট মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি। তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন। এর মানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়, যেমনটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন। যার মাধ্যমে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে সম্পর্কে ভুল বার্তা দিয়েছিলেন, তাদেরকে ছোট করেছিলেন।অন্যদিকে নৌকাবাইচের বিষয়টিতে স্থান নিয়ে আমার তথ্যগত ত্রুটি হয়েছে। সিলেটর জায়গায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলি। এ ত্রুটিতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমি বিব্রত। অনাকঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। যদিও পাশাপাশি মূল ঘটনা কী ছিল, মিডিয়া কী ফ্রেমিং করেছে, সেটা নিয়ে সংসদে কথা বলা আমার উচিত ছিলো; কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারনে বিস্তারিত বলার সুযোগ ছিলো না। সবশেষে একটি কথা আমি পুনর্ব্যক্ত করছি— আমি এবং আমার দল আমরা জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করি এবং সকল নীতি, সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের উপর নির্ভর করেই নিতে চাই।তিনি বলেন, জুলাই একটা সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে, এবং কেউ কারো মত বা দৃষ্টিভঙ্গি আরেকজনের উপর চাপিয়ে দেবে না। বিতর্ক থাকবে, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবে, কিন্তু কেউ কাউকে জোর করবে না, তার মতামতকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য মতামত হিসেবে গ্রহণ করতে। জুলাই এই common minimum ground-এর ঐক্যের প্রতীক। এই আদর্শের প্রতি আমি কমিটেড ছিলাম, আছি, থাকব। এবং তার ভিত্তিতেই আমি বিশ্বাস করি যে, যদি কোনও গ্রুপ বা ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে কারও উপর জোর খাটান, কাউকে বাধ্য করেন নিজের মতামতকে চাপিয়ে দিতে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব সেটাকে প্রতিহত করা, সকল মানুষের সমান অধিকারকে নিশ্চিত করা। সরকার যখন সেই দায়িত্ব পালনে দ্বিধা করে, অস্বীকৃতি জানায়, তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে, সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হয়।হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমি এই কথাটাই সংসদে বলতে চেয়েছি। এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে। সকল ধর্মের, মতের মিলনস্থল আমার এই বাংলাদেশ। যার যেটা পছন্দ হবে, সে সেটায় যাবে, অংশ নেবে, যার যেটা পছন্দ হবে না, সে সেটায় যাবে না। আর সরকার এইটুকু নিশ্চিত করবে, কেউ যেন আরেকজনের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কিছু করতে না পারে। আজকে সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না, এবং তার ফলে সমতার যে বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি, তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।তিনি বলেন, জুলাই ছিলো ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের আন্দোলন। জুলাই ছিল মানুষকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন, সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলার আন্দোলন, যা বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করবে। আমাদের চেষ্টা সেই বাংলাদেশ গড়বার জন্য, সে চেষ্টাই আমরা করছি এবং করে যাব। এর আগে জাতীয় সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ওই কর্মসূচি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।গত বৃহস্পতিবার সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন- ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে কনসার্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটা কালচারাল একটা জেলা। সেই জেলায় নাকি গান-বাজনা সিনেমা বন্ধের মতই। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন- এই ছয় মাসে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন রিস্টোর করতে পেরেছেন কিনা এবং আইনের শাসন সেটি প্রতিষ্ঠিত করতে উনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কিনা, নাকি উনি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে?’
২১ ঘন্টা আগে
সন্ত্রাস বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধ, বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলা; কোনো ক্ষেত্রেই ৬ মাসে সরকারের কোন সাফল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এবি পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট: জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে বিকাল ৫ টায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, চট্টগ্রাম মহানগর সদস্য সচিব এডভোকেট সৈয়দ আবুল কাশেম, কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান নুর। এবি পার্টির চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বিগত ৬ মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বেকার হয়ে পড়েছে শত শত শ্রমিক। কথা ও কাজে মিল না থাকার কারণে সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির বদলে দিন দিন বেকার সমস্যাকে প্রকট করে তুলছে। তিনি বলেন, সরকারি দলের সিনিয়র নেতারা একেকবার একেক রকম বক্তব্য দেওয়ার কারণে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ নিয়ে জনমনে অনাস্থা বেড়ে চলেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বেকারত্ব এবং দ্রব্যমূল্য আরও বাড়তে থাকবে। মানুষের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান বাড়তে থাকলে সরকার জনসমর্থন হারাবে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে সরকার অজনপ্রিয় হলে ক্রমশ স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে পড়ে। সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলে। সে অবস্থায় সুশাসন ও গনতন্ত্র রক্ষার জন্য আবার সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন অনিবার্য হয়ে পড়ে। সভাপতির বক্তব্যে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস, কালক্ষেপণ কিংবা রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমান সরকার যদি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে, তবে দেশের জনগণ তাদের কখনো ক্ষমা করবে না। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে যে ভোট দিয়েছে, সেই জনরায়ের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা ছিল গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন। জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করার অর্থ হবে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও জনমতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই-গণভোটের রায় কোনো দলের তামাশা করার বিষয় নয়; এটি জনগণের রায়। আর জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব। চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম সদস্য সচিব যায়েদ হাসান চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, এবি যুব পার্টি সদস্য সচিব মো. জাবেদ ইকবাল, চট্টগ্রাম মহানগর নেতা আজগর হোসাইন, সঞ্জয় চৌধুরী বিশু, সুমন চৌধুরী, আরশাদ হোসাইন ও সোহরাব হোসেন পিয়াস প্রমুখ।
১ দিন আগে