রবিবার (১৬ মার্চ) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে রাকিব নামের এক তরুণকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা, সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার এবং একই রাতে রাজধানীর উত্তরায় রাতভর ত্রিমুখী সংঘর্ষসহ সম্প্রতি দেশের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। ১৬ মার্চ (সোমবার) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ১৫ মার্চ রাতে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে রাকিবুল ইসলাম নামের এক তরুণকে দুর্বৃত্তরা এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে। একই রাতে সাভারে ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার এবং উত্তরায় রিকশাচালক, পুলিশ ও এক বাণিজ্যিক ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই প্রতিটি ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নির্লিপ্ততা ও অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সংস্কৃতিই দেশকে ক্রমেই অরাজক করে তুলছে। আমরা এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”নেতৃবৃন্দ বলেন, “বর্তমান সরকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকরভাবে পরিচালনায় ব্যর্থতার কারণে প্রশাসনিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, ফলে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। রাজধানীই যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে প্রান্তিক জনপদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ—মাত্র এক সপ্তাহে দেশে ৫টি লোমহর্ষক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহীতে বিএনপির হাতে এক মোয়াজ্জিনকে পিটিয়ে হত্যা, কক্সবাজারের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পল্লাইন্যা কাটা এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় ‘গণেশ পাল’ নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা, চুয়াডাঙ্গায় দুই জামায়াত নেতাকে বিএনপি কর্তৃক হত্যা এবং কুরআন তালিমে হামলাসহ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি নানা অপরাধমূলক ঘটনায় জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।”নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যাদের হাতে থাকার কথা, সেই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডই আজ জননিরাপত্তার প্রধান অন্তরায়। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অন্তত ১৫টি খুন, ৫টি ধর্ষণ, ৪৮টি চাঁদাবাজি এবং ১১০টি হামলা-সংঘর্ষে জড়িত ছিল। এছাড়া ৫টি লুটপাট, ১৩টি দখলবাজি ও শিক্ষাঙ্গনে ১২টি সন্ত্রাসী হামলাসহ নারী নির্যাতন ও দুর্নীতির মতো অপরাধের সঙ্গে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত। মূলত ক্ষমতাসীনদের এই ‘অপরাধের মহোৎসব’ সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে এবং সন্ত্রাসীদের অভয় দিচ্ছে।”পরিশেষে নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অবিলম্বে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন। আমরা শহীদ মিনারে রাকিবুল হত্যার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত বিচার এবং জাবি ছাত্রীর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।”
২ ঘন্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে টাঙ্গাইলে বিএনপি চেয়ারপারসন ও 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্বাচনী সমাবেশে লজিস্টিক সাপোর্টে নিয়োজিত মোঃ জনি একটি দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসার খরচ ইতোমধ্যেই তার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। খবর পেয়ে পাশে দাঁড়ান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল ৪.৩০ মিনিটে রাজধানীর গোলাপবাগ সংলগ্ন এলাকায় 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মোঃ জনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিয়ে চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।উপস্থিত ছিলেন 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, শাকিল আহমেদ, রুবেল আমিন, ড্যাবের মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. আসলামুল ইসলাম রুদ্র, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইমতিয়াজ সেতু এবং ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ প্রমুখ।উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী সমাবেশে মোঃ জনি ডেকোরেশন ও মাইক সার্ভিসের দায়িত্বে ছিলেন। সমাবেশ চলাকালীন মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা জনিকে আজ 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করলো।স্থানীয়রা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতা এবং সংগঠনের তৎপরতায় আহত জনি তার চিকিৎসা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারবে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
১৮ ঘন্টা আগে
ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেলেন।জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাকে এ স্বীকৃতি প্রদান করেন। গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে।জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জারি করা গেজেট অনুসারে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা (পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা) আইন, ২০২১ এর বিধি ২(১)(ত) এর অধীনে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।এতে আরও বলা হয়েছে, কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে একই আইনের অধীনে বিরোধী দলের উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারের বিরোধিতাকারী সংসদীয় দল বা জোটের সদস্য সংখ্যা সর্বাধিক হওয়ায় স্পিকার তাদের এ স্বীকৃতি প্রদান করেন।
১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।মির্জা আব্বাসের একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল জানান, ১৫ মার্চ রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, মির্জা আব্বাসের সঙ্গে যাবেন তার সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস এবং তাদের বড় সন্তান মির্জা ইয়াসির আব্বাস।শুক্রবার রাজধানী এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে সাবেক এই মন্ত্রী মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণ রয়েছে।শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করা হয়, যার প্রতিবেদন ভালো এসেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।তিনি বলেন, ‘আজ (শনিবার) সকালে মির্জা আব্বাসের সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। রিপোর্ট ভালো এসেছে। মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তাকে দেখছেন। তিনি ক্লোজ মনিটরিংয়ে আছেন।’গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করা হয়। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনে অবস্থার অবনতি বোঝা যাওয়ায় দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে এবং সবকিছু দেখে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত বিএনপির এই সিনিয়র নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। শুক্রবার দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধীদলের নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ অনেক জাতীয় নেতা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে আসেন।
১ দিন আগে