জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টাই আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। একটা শব্দও বলেননি। অর্থাৎ চুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারো সঙ্গে কথা হয়নি। এই বিষয়ে আগেও দায়িত্ব নিয়ে বলেছি, এখনও বলছি। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির এ মন্তব্য করেন।জামায়াতের আমির সরকারের উদ্দেশে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় জনগণ নির্বাচনে যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যারা হেরে গেছে, এই সরকার তাদেরকেই আবার বড় বড় জায়গায় বসিয়ে দিচ্ছে। এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। শুধু তাই নয় যেখানে জ্ঞানের চর্চা হবে, অথচ সেই বিশ্ববিদ্যালয়েও দলীয় আনুগত্য ভিসি, প্রো ভিসি, প্রক্টর প্রভোষ্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘মনে রাখবেন কোনো পরিকল্পনাই ফাইনাল না। উপরে একজন মহাপরিকল্পনাকারী রয়েছেন। আর এটা যদি ফাইনাল হতো, অতীতের সরকার সাড়ে ১৫ বছর সুন্দর করে সব কিছু সাজিয়েছিলো, কিন্তু দুদিনের মাথায় সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। রংপুরবাসী গর্বিত, আমাদের কৃতজ্ঞতা আজীবন পাবেন। আপানদের সন্তান আবু সাঈদ জীবন দিয়ে আন্দোলনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। আবু সাঈদের নাম ছাড়া কোনো স্লোগান হয় না। এজন্য রংপুরবাসী গর্বিত।’ জামায়াত আমির বলেন, ভালো কাজ সরকারি দল, বিরোধী দল একসঙ্গে করলে দেশের উন্নয়ন হবে। জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। আমরা সেই আস্থা তৈরিতে কাজ করতে চাই। আমরা শুধু বিরোধীদল হিসেবে কাগজে কলমে কিংবা সংসদে থাকতে চাই না। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই।স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত নির্বাচনমুখি দল। আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নেবো, তবে এই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে।তিস্তা চুক্তি বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, পদ্ধা ব্যারেজ হচ্ছে, সেই বিষয়কে অভিনন্দন জানাই। তবে তিস্তাকে বাদ দিয়ে নয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা চাই। এ বিষয়ে আমরা কথা বলছি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা করতেই হবে।ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের উপর নির্যাতন বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, দুনিয়ার যেখানেই মানবতার বিরুদ্ধে এই অপকর্ম হবে, সেখানেই আমাদের নিন্দা থাকবে। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে কেউ কাউকে আঘাত করার অধিকার এই দুনিয়া কাউকে দেয় নাই। কোনো সংবিধানও দেয়নি। সুধী সমাবেশে রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর সদর ৩ আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, রংপুর (গঙ্গাচড়া) আসন-১ এমপি রায়হান সিরাজীসহ অন্যান্য নেতারা। এর আগে ডা. শফিকুর রহমান সকালে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত রংপুর মডেল কলেজ মিলনায়তনে উপজেলা ও থানা আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরে তিনি রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য, জেলা ও মহানগরী আমিরসহ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। দুপুরে আমির ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগরী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর জেলা শাখার নেতাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন।
৯ ঘন্টা আগে
দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজু শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস সিটিজ ফোরাম ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। যদিও ফোরামের আনুষ্ঠানিক সেশন শুরু হয়েছে গত বুধবার থেকে, উদ্বোধনী আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মী, নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মি. ভলকার তুর্ক। অনুষ্ঠান শেষে এনসিপি প্রতিনিধি দলকে সেখানে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী তাঁর অফিস বিভিন্ন দেশ ও জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা যায়।এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশ সফর করেছিলেন ভলকার তুর্ক। সেই সফরেও তিনি মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।এদিকে, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস সিটিজ ফোরাম ২০২৬ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শহরগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৩ ঘন্টা আগে
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের মোহাম্মদ আলী।১৪ মে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী।নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হয়েছে ১৩টিতে। অপরদিকে জামায়াত সমর্থিত প্যানেল পেয়েছে একটি পদ।এর আগে দুদিনব্যাপী নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৪৮টি।বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ীরা হলেন,বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দুটি সহসভাপতি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, দুটি সহসম্পাদক পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল।সদস্য পদে এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন,, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। ৭টি সদস্য পদের একটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে ১৩ ও ১৪ মে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।
২১ ঘন্টা আগে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, দেশের প্রয়োজনে যেমন ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন, তেমনি আজও দেশের প্রয়োজনেই তারা রাজপথে নেমেছেন। রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে মুক্তিযোদ্ধারা আবারও দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছেন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম’র উদ্যোগে ঢাকা ডিএসসিসির নগর ভবনে আয়োজিত ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।আবদুস সালাম বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন। আজও তারেক রহমানের ডাকে ঢাকা শহরকে ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটিতে রূপান্তর করতে তারা রাজপথে নেমেছেন। আমরা একদিন চলে যাব, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মকেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে দেশ ও জাতির জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর। এই শহরকে যদি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে চাই, তাহলে আগে নিজেদের বদলাতে হবে। আমরা বদলালে ঢাকাও বদলাবে। আমরা চাই না পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকায় ঢাকা থাকুক। আমরা চাই পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও সবুজ শহরের তালিকায় ঢাকা এক নম্বরে থাকুক।অনুষ্ঠান শেষে পরিচ্ছন্নতা অভিযান নগর ভবন থেকে শুরু হয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেট অতিক্রম করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
১ দিন আগে