আদ-দ্বীন হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭৫০ জন মেডিক্যাল ও সমসংখ্যক নার্সিং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে দ্রুত হাসপাতালটি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ রাখায় শত শত মেডিক্যাল ও নার্সিং শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, শুধু বই পড়ে চিকিৎসক বা নার্স হওয়া সম্ভব নয়; এ জন্য ব্যবহারিক শিক্ষা ও রোগীর সংস্পর্শ অপরিহার্য। হাসপাতালের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বার্থে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও মানবিক ও সেবাধর্মী মডেলে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতার প্রশংসা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যতটা কঠোর ও সক্রিয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না। সরকারি খাতে বড় ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির ঘটনাতেও অনেক সময় দায়ীরা পার পেয়ে যায়। অপরাধ যেখানেই ঘটুক, সরকারকে উভয় খাতকে সমানভাবে দেখতে হবে।আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা থাকলে তার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।এ ছাড়া বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা থেকে দেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, মাঝপথে হাসপাতাল বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে আসার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। তাই মানবিক ও যৌক্তিক কারণে দ্রুত আদ-দ্বীন হাসপাতালটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানান তিনি।
১ দিন আগে
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরী করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শিক্ষা ব্যবস্থায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা দূর করে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুধাবন করছেন, উন্নত রাষ্ট্র ও জাতি গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সোমবার (২৯ জুন) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ ড.মোশাররফ ফাউন্ডেশন ডিগ্রী কলেজ মিলনায়তনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও মিলাদ মহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ড.খন্দকার মারুফ বলেন, দেশে নকলমুক্ত পাবলিক পরীক্ষা,শিক্ষার সূষ্ঠু পরিবেশ তৈরী এবং মানোন্নয়নে বিএনপি সরকারের অবদান অনস্বীকার্য। এটি বিএনপির অন্যতম বড় অর্জন।তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। জাতিকে ধ্বংস করার জন্যই ইচ্ছে করে শিক্ষাঙ্গণে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, ঢালাওভাবে পাশের হার বাড়িয়েছে। শিক্ষার উন্নতিকল্পে আ.লীগ সরকার সামান্যতম কোনো কাজ করেনি।ড. মারুফ বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে- ক্যাম্পাসে রাহাজানি ও সিট দখলের মতো কুকর্ম হয় না। নকলমুক্ত পাবলিক পরীক্ষা ও শিক্ষার গুণগত মানের উন্নতি হয়। এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। কঠোর নজরদারি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে।তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, মাদক ও জুয়ার নেশা ছাত্র ও যুব সমাজকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। এগুলো এখনই বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। তিনি এইসব অপরাধ বন্ধ করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবকসহ সকলকে এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। ড.খন্দকার মারুফ বলেন,বিএনপি সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েছেন। চলতি বছরেও অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষা নকলমুক্ত হয়েছে।পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সুশিক্ষিত হয়ে আগামী দিনে তোমরাই দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করবে, বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে। তোমাদের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা, নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে তিনি (ড.মারুফ) পরীক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ড.খন্দকার মারুফ হোসেন কলেজ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করেন।বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন,অধ্যক্ষ আবদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হাশেম, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব জসিমউদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন চেয়ারম্যান, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনন্দ ও জেলা জাসাসের সদস্য সচিব এস.এম মিজান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন, বানিয়া পাড়ার পীর আবু বকর সিদ্দিক আল-কাশেমী।এর আগে ড. মোশাররফ ফাউন্ডেশন ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত বিএনসিসি ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। এ সময় তিনি শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের বিকাশে বিএনসিসির ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
১ দিন আগে
সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার একদিনের মাথায় সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির।একই সঙ্গে কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিজের জন্যও সর্বোচ্চ শাস্তি মেনে নেবেন।শনিবার (৭ জুন) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সামির বলেন, দীর্ঘ আট বছর পর সাভার থানা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার মাত্র ২১ দিনের মাথায় কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এক মাস আগে ঘটে যাওয়া কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে জড়িয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, ভুক্তভোগী কিশোর কিংবা তার পরিবারের সদস্যরাও তার নাম উল্লেখ করেননি। এরপরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।মাহাবুব সামির বলেন, কিশোর নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিত। দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও তারও শাস্তি হওয়া দরকার। এমনকি নিজের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি গ্রহণেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একটি চক্র তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে। সাভারের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হুমকি পেয়ে আসছেন বলেও দাবি করেন। এ বিষয়ে তিনি আগে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।সামিরের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া ওই মাদক ব্যবসায়ী কারাগারে বসেও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও তিনি অর্থের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ তোলেন।তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে থাকতে দেব না। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই যদি আমার অপরাধ হয়, তাহলে সেই অপরাধ আমি বারবার করব।’সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান সামির। তিনি বলেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি মেনে নেবেন, আর নির্দোষ হলে তার সম্মান ও সাংগঠনিক পদ পুনর্বহালের দাবি জানান।প্রসঙ্গত, শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের অধীন সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
২ দিন আগে
সবকিছুতেই বিরোধিতা, এই কালচার সমর্থন করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখানে সরকারি দল সব ক্রেডিট (কৃতিত্ব) নেবে আর বিরোধীদল সবকিছুতে শুধু বিরোধিতাই করবে— ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে আমরা এই কালচার সমর্থন করি না। সরকারিদলকেও বিরোধীদলকে সম্মান করতে হবে। আর বিরোধীদলেরও দায়িত্ব থাকবে দেশ গঠনে তার জায়গা থেকে যথাযথ ভূমিকা রাখা।পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন ফরেন পলিসিতে (পররাষ্ট্রনীতি) কেউ হস্তক্ষেপ করুক, এটা আমরা কখনো মেনে নেবো না। সবার আগে দেশের স্বার্থ। কোনো চুক্তিই হোক বা যাই হোক, তা হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব মৌলিক চুক্তি সংসদে নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদকে বাইপাস (পাশ কাটিয়ে) করে যেন কিছুই না হয়, সবকিছু হোক সংসদের ভেতরে।
৩ দিন আগে