গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও তরুণদের রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে রেখে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অন্যথায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।বৃধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন।এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন সভাটি সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই সংবিধান এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। এবার আমাদের নতুন করে রাষ্ট্র মেরামতের সনদ তৈরি করতে হবে। সেই সনদে চার কোটি মানুষের স্বাক্ষর গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণকেই প্রকৃত অংশীজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতার জন্য ড. ইউনূস সরকারকে উপহাস করে বলা হতো এনজিওগ্রাম সরকার। অব্যবস্থাপনা ও অযোগ্যতার জন্য বর্তমান সরকারকে অনেকে ‘লন্ডনী-গো’ সরকার বলছে।তিনি আরও বলেন, মাহমুদুর রহমান অনেক আগেই বলেছিলেন, ফ্যাসিবাদ রুখতে হলে গণ-অভ্যুত্থান প্রয়োজন, পাশাপাশি প্রয়োজন সাংস্কৃতিক বিপ্লব। সৈনিকদের এক যুদ্ধের পর আরেক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হয়, আমাদের সেই প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েও সব সমস্যার সমাধান হয়নি, নির্বাচনেও হয়নি। বরং সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তি উল্লসিত হচ্ছে।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, আমাদের জেন-জি সফল হয়েছে। তারা ফ্যাসিবাদের আইকনকে পরাজিত করেছে। কিন্তু তাদের স্বপ্ন,রাষ্ট্র মেরামতের আকাঙ্ক্ষা,এখনো পূরণ হয়নি। জুলাই সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিই ভুল ছিল। রাজনৈতিক পরিপক্বতা থাকলে জুলাই সনদের আগে নির্বাচন দেওয়া হতো না।তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যারা এতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা কার্যত জুলাই সনদের চেতনাকেই স্বীকার করতে চায় না। তারা বিপ্লব শব্দটি উচ্চারণ করতেও অস্বস্তি বোধ করে। অধ্যাপক ইউনূস সরকারের অগ্রাধিকারের জায়গায় সমস্যা ছিল। তরুণরা রাষ্ট্র সংস্কার চেয়েছিল, কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা যথাযথভাবে অনুধাবন করা হয়নি। তারপরও ওই সরকার ছিল জুলাইয়ের বন্ধু সরকার। অনভিজ্ঞতার কারণে সরকার অনেক চাপের মুখে পড়েছিল। জুলাইয়ের অনেক তরুনদের সংগঠন সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করা হয়েছে। বিএনপিও সরকারকে সহযোগিতা করেনি। সব মিলিয়ে সেটি ছিল একটি দুর্বল সরকার।নির্বাচনের পর জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর আমরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছি। কে দেশের ভেতর থেকে, কে দেশের বাইরে থেকে মাস্টারমাইন্ড ছিল,এখন চলছে সেই কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতা। অথচ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বিভাজনমূলক বক্তব্যের দায় সরকারকেই নিতে হবে।তিনি জুলাইয়ের পক্ষের রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এবি পার্টিসহ সব বাংলাদেশপন্থী দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এভাবে বিভাজন চলতে থাকলে দেশের স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। আবু সাঈদ শুধু বাংলাদেশের আইকন নন, তিনি গোটা পৃথিবীর আইকন। জুলাই বিপ্লব এক দিনের কোনো ঘটনা নয়; বিপ্লব একটি চলমান প্রক্রিয়া। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ ছাড়া আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতো না। আমাদের আরও একটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তরুণদের বলা হচ্ছে, তোমরা বিপ্লব করেছ, এখন রাষ্ট্র নিয়ে আর ভাবার দরকার নেই, পড়ার টেবিলে ফিরে যাও। কোনো কোনো রাজনীতিবিদ বিপ্লবীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করছেন। যারা তরুণদের অবদানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেননি।তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে যে জগদ্দল পাথর সরানো যায়নি, আমাদের তরুণরা সেটি সরিয়েছে। লক্ষ্মণ সেনের মতো দুপুরের খাবার ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী। এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা পলায়ন। যারা তরুণদের অবদান অস্বীকার করছেন, তারা অজ্ঞতাপ্রসূত কাজ করছেন।জুলাই সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবিধান ও প্রচলিত আইনের মাপকাঠিতে জুলাই বিপ্লব হয়নি। এটি ছিল সব আইনি সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে জনগণের অভ্যুত্থান। এখন ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে নানা ধরনের ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা চলছে। আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ অমান্য করা যাবে না। জুলাই সনদ আমাদের রেড লাইন।দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, জুলাই এখনো হারিয়ে যায়নি। জুলাইকে শুধু রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও জুলাইকে ছড়িয়ে দিতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ যেন কোনোভাবেই আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে।তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ কীভাবে তৈরি হয়, এর পেছনে কারা রসদ জোগায়, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। হিটলারের উত্থানের পেছনেও নানা ধরনের শক্তি ও উপাদান কাজ করেছিল। আমাদেরও ফ্যাসিবাদ তৈরির পেছনের শক্তিগুলো চিহ্নিত করতে হবে। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে হবে।মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন তারুণ্যের জুলাই ফাউন্ডেশনের নেতা সাগর উদ্দিন, পুসাবের সংগঠক তালহা বিন আমীন, জুলাই ঐক্যের নেতা রিয়াদুস ইসলাম জুবা, জুলাই যোদ্ধা লাবিব, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সংগঠক সাইয়েদ আহমেদ সরকার, শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী নাবিল, জুলাই রেভ্যুলেশন ওয়াচের সংগঠক সানজিদ হাসান তানভীর, বৈষম্যবিরোধী কওমির সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান জুনায়েদ, প্রতিবন্ধী নাগরিক পরিষদের সংগঠক ইফতেখার মাহমুদ,জুলাই সংগঠক নেছার উদ্দিন, শহীদ রাকিবের ভাই আমিন উদ্দিন, মঞ্চ ২৪-এর সংগঠক ইশরাত করিম অর্পিতা, দ্য রেড জুলাইয়ের সংগঠক রাসেল মাহমুদ এবং মুস্তাইন বিল্লাহ হাবীবি।এবি পার্টির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল,প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী রাজা, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ও খুলনা সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়ামিনুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
১৫ ঘন্টা আগে
ক্ষমতায় এসে জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। তারা বলেছিল, তাদের একটি পরিকল্পনা আছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারের পরিকল্পনা শুধু দফায় দফায় সবকিছুর দাম বাড়ানো এবং জনগণকে দুর্ভোগে ফেলা বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেড়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবি স্বেচ্ছাসেবক পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সসদস্য সচিব তোফাজ্জল হোসাইন রমিজের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী রাজা, এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন,কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার,সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম সদস্য সচিব রাশিদা আক্তার মিতু মিজানুর রহমান মিঠু ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খোরশেদ আলম পলাশ।মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে দেশে গতানুগতিক রাজনীতি চলছে। এত রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী? নিশ্চয়ই রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনা। কিন্তু এত আয়োজনের পরও আমরা কেন রাষ্ট্রকে ঠিক করতে পারছি না? রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও বোঝাপড়ার অভাবে সামান্য বিষয়েও অবিশ্বাস ও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।তিনি বলেন, মানুষ তখনই সাড়া দেয়, যখন রাজনীতির সঙ্গে নিজের স্বার্থ ও অধিকারকে সম্পৃক্ত দেখতে পায়। তাই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে স্বেচ্ছাসেবক পার্টিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে আমরা কী করতে পারি, সেই স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।মঞ্জু আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নানা আশ্বাস দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিএনপিও এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারছে না। রাজনীতি হতে হবে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং জনগণের বাস্তব সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ।দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন,ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ত্রাণ ও পূনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা,সহকারী দপ্তর সম্পাদক মোহসীনুল হক চৌধুরী,নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, উদ্দ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সহ সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা,গাজীপুর মহানগর সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার, নাটোর জেলা আহ্বায়ক মোকাররেবুর রহমান নাসিম,স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম আহবায়ক আরিফুর রহমান মিজান, ডাক্তার শাহ মাহমুদুল বারী রাকিব,কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য,মনির হোসেন ও জাবের হোসেন সুমন।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণভোটের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে সিঙ্গাপুরের কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লোহের সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি প্রতিরোধ, শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের অগ্রগতি, গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার, সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং উভয় দেশের উন্নয়ন উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অং এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকা বিভাগের কান্ট্রি অফিসার ম্রিথিনি টিজি গ্রিথারান।অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
১ দিন আগে
এক মাসের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।পরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে যান তিনি। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলের নেতারা।এ সময় আখতারুজ্জামানের কারাবাস, গ্রেপ্তার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন জামায়াত আমির।তিনি বলেন, সংসদেও তাঁরা বসন্তের কোকিলদের কথা বলেছেন। যারা বসন্তকালে কুহু কুহু করতে এসেছে, বসন্ত পার হলে তাদের আর দেখা যাবে না। গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষাকালে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিরোধী দলের চরিত্রহনন না করে সরকারের উচিত নিজেদের ব্যর্থতা দূর করা। অতীতের মতো প্রতিবাদী কণ্ঠ দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলে তা সফল হবে না। জনগণ আর ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না।আখতারুজ্জামানের মামলার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তার গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, নিম্ন আদালতে জামিন দেওয়া হয়নি। হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার পরও রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে বিষয়টি নিয়ে গেছে। এসব ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আখতারুজ্জামানকে চোখ বেঁধে নেওয়া হয়েছে, মাথায় হেলমেট ও বুকে সেফটি ভেস্ট পরানো হয়েছে। এত কিছুর পরও তাঁকে নিম্ন আদালত থেকে জামিন দেওয়া হয়নি। এক মাস কারাগারে রেখে প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তাঁকে আটকে রাখা যায়নি। তিনি বলেন, জেল তো অনেক খেটেছেন, প্রতিবাদও করেছেন; কিন্তু সব সময় সঙ্গে সঙ্গে ফল পাওয়া যায়নি। আখতারুজ্জামান এক মাসের কারাবাসের বিনিময়ে বিমানবন্দরের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুফল পেয়েছেন।এ সময় আখতারুজ্জামানও কারাগারে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। রিমান্ডে নেওয়ার পর চোখ বেঁধে তাঁকে জামায়াত সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের ধরন এবং ডিবি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, বিমানবন্দরের একটি ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাঁকে যেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তার সঙ্গে মামলার অভিযোগের সম্পর্ক কী।এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে তিনি জামায়াত আমিরের সঙ্গে আলোচনা ও তাঁর নির্দেশনা নেওয়ার কথা জানান।
১ দিন আগে