যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আজ (সোমবার) বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ২০ জুলাই রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। সরকার গঠনের পর এই প্রথম যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্র দল ও জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে তাদের ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। সব শরিককেই ডাকা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। এমনকি নির্বাচনের আগে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তাদেরও ডাকা হয়েছে। পরস্পরের সঙ্গে হৃদ্যতা বাড়ানোই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। সবার মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে কীভাবে সামনে এগোনো যায়, মূলত সে ব্যাপারেই শরিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান।এদিকে বিএনপি ও শরিকদের একাধিক সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, বৈঠকে তা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হতে পারে। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে শরিক দলগুলোর মতামত ও পরামর্শ শোনা হবে। পাশাপাশি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।শরিক দল ও জোটগুলোর একাধিক নেতার মতে, নির্বাচন ও সরকার গঠনের ৫ মাসে অনেক ক্ষেত্রেই বিএনপির ‘একলা চলো নীতি’ পরিলক্ষিত হয়েছে। এ অবস্থায় এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে সরকার দলের মনোভাব বুঝতে চাওয়া হবে। দেন-দরবারের চেয়েও এই বিষয়টাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তারা। মনোভাব বোঝা গেলে সে অনুযায়ী শরিকদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের ধারা ঠিক হবে বলেও মনে করছেন তারা।বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সরকার এবং বিএনপির মনোভাব সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। শরিকদের সঙ্গে তারা কি সম্পর্ক শেষ করবেন নাকি নতুন যাত্রা শুরু করবেন-এটা আমাদের জানা জরুরি। তিনি আরও বলেন, কথা বলার সুযোগ থাকলে সার্বিক বিষয় নিয়েই কথা বলব। রাজনৈতিকভাবে সরকার যে পিছিয়ে পড়ছে, সেটার বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করব।ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়েও কথা বলব।
২১ ঘন্টা আগে
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, ‘বিরোধী দলের কাজ বিরোধিতা করা। তাদের কোনো ইস্যু নেই। শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করতে করতে পতন হয়েছে, বাংলাদেশে দাফন হয়েছে দিল্লিতে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। জুলাই-আগস্টে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি।শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে জুলাই আন্দোলনে নরসিংদীর প্রথম শহীদ তাহমিদ ভূঁইয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন খায়রুল কবির খোকন।খোকন বলেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। জুলাই চেতনা আমরা বুকে ধারণ করি এবং সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারকে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতাসহ আহতদের সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, যাদের কারণে আজকে মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ পেয়েছি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেই শহীদদের কাছে দেশ, জাতি ও রাজনৈতিক দলগুলো ঋণী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সহ-সভাপতি ভিপি জলিল, গোলাম কবির কামাল, খবিরুল ইসলাম বাবুল, আকবর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
১ দিন আগে
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গণভোট না মানলে এই সরকার অবৈধ হয়ে যায়, এটা সরকারকে বুঝতে হবে। আর গণভোট ব্যর্থ হলে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করবো আমরা।’শনিবার (১৮ জুলাই) বিকালে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভাঙ্গার পরই ভাঙা রাস্তা। তাও দুই লেনের। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত এই সড়কের শেষ মাথায়। সেই সড়কেরও বেহাল দশা। ভোলা আজো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, রেললাইন কবে হবে, এ নিয়ে সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের বক্তব্য নেই কেন? এই অঞ্চলের মানুষকে এভাবে বঞ্চিত করা যাবে না।’গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য আমরা আজ এই সমাবেশ করছি জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দুটো দলই গণভোটে হ্যাঁ চেয়েছি। হ্যাঁ জয়ী হয়েছে। এখন তাহলে কেন এত গড়িমসি সরকারের। গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে পদে পদে মিথ্যা আর ধোঁকা দিচ্ছে সরকার। তারা কী ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে না। গণভোট নিয়ে টালবাহানা জনগণ সহ্য করবে না। ফ্যাসিবাদের জায়গা এদেশে আর হবে না। তারা এখন স্বৈরশাসনকে ফিরিয়ে আনতে নতুন কৌশল শুরু করতে চাচ্ছে। গণভোট না মানলে এই সরকারও অবৈধ, জাতির ক্ষতি করে বুঝবেন না, আগেই বুঝুন। আমাদের রাজপথে রাখবেন না।’তিনি বলেন, ‘২৪-এর একটি স্লোগান আছে- “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে। এই প্রজন্মের রক্তে আবার আগুন লাগাবেন না। আগামী ২৫ জুলাই সিলেটের সমাবেশের আগেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি। তা না হলে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হবে এবং সেজন্য ১১ দলীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’একই সমাবেশে সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তাহলে গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে আমরা বাধ্য হবো বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম তার বক্তব্যে ভারতের আগ্রাসন এবং মুসলমানদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর আদেশ ও নবীর শিক্ষা আমরা অনুসরণ করবো, শুভেন্দু ও তার গুন্ডারা যতই লাফালাফি করুক আমরা ধৈর্য ধরবো। হাসিনাসহ শুভেন্দু বাংলাদেশে প্রবেশ করলে সোজা ফাঁসিতে ঝুলাবো। আওয়ামী লীগ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে। আওয়ামী লীগ আর কখনও বাংলাদেশে আসবে না।’
২ দিন আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। তিনি মুখে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।’শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে প্রচার চালালেও নির্বাচনের পর ৭০% জনগণের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না।’তিনি বলেন, ‘এখনো হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে।’বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে, তার মানে এই নয় যে যা খুশি তাই করবেন বা জনগণের সঙ্গে ছলনা করবেন।’বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি গত ১৬ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় ৫ আগস্ট পর থেকে তারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না। তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য। তারা গণঅভ্যুত্থানে আমাদের সাথে লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য, নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য।’‘নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। এখন তারা পরিবর্তনের কথা বলে না। সংস্কারের কথা বলে না। এখন তারা ৩১ দফার কথা বলে না। বরং তারা এখন বলছে তারা না কি, কখনো সংস্কারের কথা বলেনি অথচ তাদের ৩১ দফার প্রথম দফা ছিল সংবিধান সংস্কর কমিটি গঠন করা হবে।’তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কারের নামে কোনো প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং নতুন গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’বরিশালের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ মাসে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ছাত্রদল, যুবদল ও কৃষকদলের চাঁদাবাজি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাধারণ মানুষের জন্য কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি বলেও দাবি করেন।’তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, সীমান্ত ব্যবস্থার সংস্কার, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মতো আবারও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
২ দিন আগে