মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। রবিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০১ দশমিক ৫৩ ডলার।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়।এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি প্রণালিটি দ্রুত তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন দেশকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বের করে আনতে নৌবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে, তবে তা সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্পৃক্ত তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খারগ দ্বীপে এ বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আপাতত ইরানের পুরো তেল উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস করা তাদের লক্ষ্য নয়।বর্ধিত জ্বালানি দামের চাপ মোকাবিলায় নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে মেক্সিকো উপসাগরে BP-এর নতুন তেল প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বন্ধ থাকা তেল রিগ ও পাইপলাইন পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।এদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)-এর সদস্য দেশগুলো জরুরি ভিত্তিতে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই তেল মূলত মার্চের শেষ দিক থেকে বাজারে সরবরাহ শুরু হবে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। আমেরিকান অটোমোবাইল এসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ২৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার প্রভাব শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই পথ দিয়ে বিশ্বজুড়ে সার পরিবহনও হয়ে থাকে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি দুগ্ধজাত পণ্য, ফল, সবজি ও মাছের মতো দ্রুত নষ্ট হওয়া খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
২ ঘন্টা আগে
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলা সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৭ দিনে গড়িয়েছে। এরই মধ্যে হামলার নেপথ্য নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।চলতি মাসের শুরুতে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে হামলা শুরুর পেছনে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের চাপ ছিল। দেশ দুইটির প্রভাবেই এই হামলা শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানে হামলার বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেছিলেন, তেহরানে হামলা চালানোর জন্য সৌদি আরবের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি ভিন্ন অবস্থান নেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তবে পরিস্থিতির পরিণতি খারাপ হতে পারে।এদিকে রবিবার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প নিয়মিতভাবে আরব নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, বিশেষ করে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে। হোয়াইট হাউসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব আলোচনায় সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, ওয়াশিংটন বর্তমানে সৌদি আরবের প্রয়াত রাজা আবদুল্লাহর একটি পুরোনো বার্তাও বারবার শুনছে। সেই পরামর্শে বলা হয়েছিল,শত্রুর মূল উৎস বা নেতৃত্বকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করে দিতে হবে।
৪ ঘন্টা আগে
সৌদি আরবে ১৫ মার্চ রোববার দিনগত মধ্যরাত থেকে দেশটির আকাশসীমায় আসা ৬০টির বেশি ড্রোন তারা সফলভাবে ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৬ মার্চ সোমবার ভোরে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একাধিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের পূর্ব অঞ্চলে মোট ৬১টি ড্রোন শনাক্ত করার পর সেগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে।ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই সৌদি আরব একের পর এক ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছে। তবে এই ড্রোনগুলো ঠিক কোত্থেকে বা কোন গোষ্ঠী ছুঁড়েছে, সে বিষয়ে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।এর আগে বাহরাইন, কুয়েত এবং কাতারও তাদের আকাশসীমায় আসা বিভিন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর জানিয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই ইরান পাল্টা আঘাত হেনে আসছে। ইরান কেবল ইসরায়েলি ভূখণ্ডই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত বিদেশি আগ্রাসন বন্ধ না হবে, ততক্ষণ তাদের ‘প্রতিশোধমূলক’ অভিযান চলতেই থাকবে।
৫ ঘন্টা আগে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রোববার আইআরজিসির এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মাঝে রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। আইআরজিসির পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকেন, তাহলে আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাড়া করে তাকে হত্যা করব।’’ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের মাঝে আইআরজিসি ওই বিবৃতি দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানানো হচ্ছে।গত ১২ মার্চ নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে তার হাতের আঙুলগুলো এমনভাবে দেখা গেছে যেন এক হাতে ছয়টি আঙুল রয়েছে। তবে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে কি না; তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভিডিওতে নেতানিয়াহুর হাতের আঙুল পাঁচটিই রয়েছে। সেখানে ক্যামেরা ও লাইটের ফোকাসের কারণে হাতের আঙুল ছয়টি মনে হয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মাঝে বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর সেটি ছিল ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর প্রথম সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও। সেই ভিডিওতে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার পরোক্ষ হুমকি দিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন।হিব্রু ভাষায় দেওয়া সেই ভাষণে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘‘আমি আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেব না। আমরা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছি। তবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না, ইরানের জনগণই এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করবে কি না। কারণ একটি শাসনব্যবস্থা দেশের ভেতর থেকেই উৎখাত হয়।’’মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ক্যান্ডেস ওয়েনসসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘‘বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) কোথায়?’’ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘‘নেতানিয়াহুর অফিস তার ভুয়া এআই ভিডিও কেন প্রকাশ এবং ডিলিট করছে? আর কেন হোয়াইট হাউসে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে?’’নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর নাকচএদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর তার মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে বলেছে, তিনি নিরাপদ আছেন। ‘‘নেতানিয়াহুকে হত্যা করা হয়েছে’’, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবির বিষয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে তার দপ্তর বলেছে, ‘‘এসব ভুয়া খবর। প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন।’’তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর বা তার সহকারীরা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি। কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্সে প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ফলোয়ার রয়েছে এবং ব্যাপক সক্রিয় ছিলেন তিনি। গত ৯ মার্চের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও পোস্ট করেননি তিনি।সূত্র: এএফপি।
১ দিন আগে