বিএনপিকর্মী মকবুল মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক ইউনাইটেড গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (অ্যাডমিন) ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আফজাল নাছের ভূঁইয়াকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের স্পেশাল অপারেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তোফাজ্জল হোসেন আসামিকে হাজির করে এই রিমান্ডের আবেদন করেন।আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যে এই মামলার রিমান্ড শুনানি হবে।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশের গুলিতে বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন নিহত হন।এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আফজাল নাছের ভূঁইয়া ওই ঘটনার সময় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে বিরোধীপক্ষকে দমনে নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে পাঁচটি কারণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনায় জড়িত নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্তকরণ, ঘটনার সময় কার কী ভূমিকা ছিল তা নির্ধারণ, ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং অর্থের যোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।নথি থেকে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ তার ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয় এই আসামিকে। এরপরে গত ৮ এপ্রিল বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় চার দিন রিমান্ডে পাঠানো হয়। একই মামলায় গত ১২ এপ্রিল ২ দিনের রিমান্ডে পাঠায় সিএমএম আদালত। আজ আবার পুনরায় রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নয়াপল্টনে পুলিশের অভিযানের সময় কয়েকশ নেতাকর্মী আহত হন এবং মকবুল হোসেন নিহত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আফজাল নাসের ভূঁইয়া ১৪৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
২২ ঘন্টা আগে
রাজধানীর আশুলিয়ায় দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ আফজাল নামে ১ যুবক কে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশ। এসময় ২ টি বুলেট, বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র এবং ১ টি মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাতে আশুলিয়ার মধ্য গাজিরচট ইউনিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশের ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, গোপনে সংবাদ পেয়ে রাতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ঘটনার একপর্যায়ে পালানোর চেষ্টা করে আফজাল পরে বেশ কয়েকজন সদস্য তাকে আটক করে। তার কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ২ টি আগ্নেয়াস্ত্র,২টি বুলেট এবং মোটরসাইকেল উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। পরে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আফজাল দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকের ব্যবসা করছে বলে জানায় ডিবি পুলিশ।
২৩ ঘন্টা আগে
আলোচিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের হাসপাতালে ‘চাঁদাবাজির’ ঘটনায় যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এই মঈন ছিলেন এক নম্বর আসামি। ১৩ এপ্রিল সোমবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় মঈনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। মঈন ছাড়া আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের নাম-পরিচয় জানায়নি র্যাব। নড়াইলের কালিয়া থানাধীন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬। এর আগে মঈনের চার সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ওই চারজন হলেন— মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্তসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।র্যাব জানায়, ১১ এপ্রিল শেরে বাংলা নগর এলাকায় সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনার খবর পাওয়া যায়। যা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। চাঁদাবাজির ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি টিম ঘটনাস্থল সিকিডি হাসপাতালে যায়। বাদী ডা. কামরুল সাহেবের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে । সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। অভিযুক্ত মইন উদ্দিনের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে র্যাবের বিভিন্ন ব্যাটেলিয়ান সম্মিলিতভাবে এই ব্যাপারে কার্যক্রম গ্রহণ করে। উক্ত চাঞ্চল্যকর মামলার সাথে জড়িত আইও কর্তৃক তদন্তে প্রাপ্ত হিসেবে উক্ত ঘটনায় সুমনের রিকুইজিশন দেয়া হয়। সুমন কে শেরে বাংলা নগর হতে গ্রেফতার করা হয় (র্যাব-২ )। উক্ত চাঞ্চল্যকর মামলার সাথে জড়িত আইও কর্তৃক তদন্তে প্রাপ্ত হিসেবে উক্ত ঘটনায় লিটনের রিকুইজিশন দেয়া হয়। মঈন এর সহযোগী লিটন কে শেরে বাংলা নগর হতে গ্রেফতার করা হয় (র্যাব-২ )।
২ দিন আগে
রাজধানীর বনানী এলাকায় অবস্থিত একটি সিসা (শিশা) বারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বনানীর ১১ নম্বর সড়কের একটি ভবনের নবম তলায় অবস্থিত “The Antalya” নামক সিসা বারে গতকাল রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সিসা লাউঞ্জের ভেতরে লুকানো অবস্থায় প্রায় ১০০ বোতল মদ, ২০টি সিসা সেবনের স্টেন্টসহ বিভিন্ন মাদক সেবনের উপকরণ উদ্ধার করা হয়।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উক্ত সিসা লাউঞ্জটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এখানে নিয়মিতভাবে মাদক সেবন ও লেনদেনের পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপ, গভীর রাত পর্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত পার্টি এবং উচ্চ শব্দে গান-বাজনার আয়োজন চলত। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল।অভিযানের সময় জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বনানী ও গুলশান এলাকার বিভিন্ন স্থানে এখনও কিছু অননুমোদিত সিসা লাউঞ্জ গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেগুলোর কোনো সরকারি অনুমোদন নেই এবং যেখানে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট গুলশান-বনানী এলাকায় অনুমোদনবিহীন সিসা (শিশা) লাউঞ্জ ও মাদক কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ওই আদেশে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশনা প্রদান করেন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ সিসা লাউঞ্জের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে