একসময় বৃহত্তর মতলবের নৌযান চলাচলের প্রধান পথ ছিল ধনাগোদা নদী। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত নদীটি। অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই নদী এখন কচুরিপানার দখলে। চাঁদপুরের মতলব উত্তরে কালীপুর থেকে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জমেছে কচুরিপানার স্তূপ। কোথাও এতটাই ঘন হয়ে উঠেছে যে, এর ওপর দিয়ে মানুষ হেঁটে চলাচল করছে। বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল ও কয়েকটি লঞ্চঘাট। দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও নৌযান শ্রমিকরা। কালীরবাজার লঞ্চ ঘাট থেকে শ্রী রায়েরচর ব্রিজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একেবারেই বন্ধ হয়ে রয়েছে নৌযান চলাচল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীরায়েরচর ব্রিজ থেকে কালিরবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার নদীজুড়ে কচুরিপানার ঘন স্তর। মতলব ধনাগোদার খেয়াঘাট, দুর্গাপুর, শ্রীরায়েরচর, বাংলাবাজার, রায়েরকান্দি, কালিরবাজার, নন্দলালপুর, বাইশপুর, গাজীপুর মোড়, সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, টরকী, মাছুয়াখাল, শাহপুর ও নায়েরগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র। আটকে পড়েছে কয়েকটি বালুবাহী বাল্কহেড। শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে তারা শ্রীরায়েরচর ব্রিজ এলাকায় আটকে আছেন। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় নৌযানেই দিন কাটছে তাদের।নদীর এমন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই পাড়ের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। দাউদকান্দি অংশ থেকে ধনাগোদা তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসা শিক্ষার্থীদের নদীপথ ব্যবহার করতে না পেরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।শিক্ষার্থী রুহান, ফাতেমা ও জান্নাতী আক্তার জানান, নদীতে কচুরিপানা জমে থাকায় তাদের যাতায়াতে চরম সমস্যা হচ্ছে। আগে যে পথে সহজে যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হচ্ছে।ধনাগোদা তালতলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফারুকুল ইসলাম বলেন, নদীর দুই পাড়ে অসংখ্য অবৈধ মাছ ধরার ঝাঁক রয়েছে। এসব ঝাঁকে কচুরিপানা আটকে থাকায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, গত পাঁচ থেকে সাত বছরে নদীর নাব্য হ্রাস, অবৈধ দখল এবং মাছ ধরার ঝাঁক স্থাপনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীরায়েরচর ব্রিজের অপরিকল্পিত নির্মাণও পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। ফলে কচুরিপানা আটকে গিয়ে নদীটি এখন জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে।মতলব উত্তর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শামসুজ্জামান ডলার বলেন, ধনাগোদা নদীকে বাঁচাতে হলে অবৈধ দখল ও মাছ ধরার ঝাঁক উচ্ছেদের পাশাপাশি নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ও স্থায়ী পরিকল্পনা প্রয়োজন।মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানে কচুরিপানা অপসারণ ও অবৈধ মাছ ধরার ঝাঁক উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে।চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, জেলার নদীগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চাঁদপুর শহরসংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে ৭৩৬টি অবৈধ দখল চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। মেঘনা-ধনাগোদা নদীর অবৈধ দখল এবং নদীর মধ্যে কচুরিপানা ও ঝাঁক দিয়ে মাছ চাষের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নদী অবৈধ দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।
১৫ মিনিট আগে
গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এ হত্যা মামলার এক হাজতি গলায় গামছা পেঁচেিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ২ টা ২৫ মিনিটের সময় কারাগারের শৌচাগারে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কারা অধিদপ্তরের জেলার (মিডিয়া সেল) মোঃ মাসুদ হাসান জুয়েল। নিহত হাজতির নাম রাজু। তিনি পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার ভাউলাগঞ্জ গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে। কারাগার সূত্রে জানাযায়,বৃহস্পতিবার শৌচাগারের দরজায় গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন রাজু। পরে দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা করা হবে বলে জানিয়েছেন কারা অধিদপ্তরের জেলার (মিডিয়া সেল) মোঃ মাসুদ হাসান জুয়েল।
৩০ মিনিট আগে
"যুবকের শক্তি, সমাজের মুক্তি-মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকায় মানববন্ধন, র্যালী ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০ টার সময় আমবাগ মিতালি ক্লাব এলাকায় যুব শক্তি ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। আলোচনাসভা শেষে আমবাগ মিতালি ক্লাব আঞ্চলিক সড়কের পাশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি মাদক বিরোধী র্যালী বের করা হয়। র্যালীটি আমবাগ এলাকার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক পদক্ষিণ করে পূনরায় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।সংগঠনের সভাপতি আমির হোসনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার আবু সাইদ। এসময় সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মোঃ রবিউল আলম রবি,১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সেলিম সরকার, সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম, ১০ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম,গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল হাসান রুবেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অতিথিরা বলেন,যে-কোন মূল্যে এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে। মাদক যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে। তাই এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে ঐকবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহবান জানান অতিথিরা। এ সময় যুব শক্তি ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন অতিথিরা।
৩৩ মিনিট আগে
বিশ্বজুড়ে অন্তত ৯ কোটি বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ খরা, বন্যা ও চরম তাপদাহের মতো মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। আসন্ন কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো তীব্র জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে বসবাস করছেন। এতে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশন্স) অ্যান্টন লেইস গার্সিয়া বলেন, সংঘাতকবলিত ও ভঙ্গুর এলাকাগুলোতে জলবায়ু অভিযোজন কেবল একটি উন্নয়নমূলক কাজ নয়, বরং মানুষের বেঁচে থাকার মূল শর্ত। যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, ঠিক সেই জায়গাগুলোতে জলবায়ু অর্থায়ন পৌঁছানো জরুরি।প্রতিবেদনে সুদানের আল-ফাশিরে সংঘাত থেকে বাঁচতে ২০২৩ সালের জুনে পূর্ব চাদের ফারচানা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এক সুদানি নাগরিকের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান তাপদাহে নদী ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির সন্ধানে তাকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়। অনেক সময় পুরো এক সপ্তাহেও তিনি নিরাপদ পানি পান করতে পারেন না।ইউএনএইচসিআর সতর্ক করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ ভিটেমাটিতে স্থায়ী ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন দেশে ফিরেছেন, যেগুলো তীব্র জলবায়ু ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে তাদের আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এর উদাহরণ হিসেবে সিরিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে ফিরে যাওয়া প্রায় ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ তীব্র পানিসংকট ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি গত মে মাসে ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদীর বন্যায় দেশটিতে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেকে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রতি তিনটি শরণার্থী শিবিরের একটিতে বছরে অন্তত ১০০ দিন প্রাণঘাতী তাপদাহ দেখা দিতে পারে। ইথিওপিয়ার হেলাওয়েনের মতো কিছু শিবিরে বছরে ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তীব্র তাপদাহ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এতে হিটস্ট্রোক ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থা, পানি ও বিদ্যুৎ না থাকায় শরণার্থীদের জন্য তীব্র গরম থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পূর্বাভাসে উল্লেখ করা বড় আকারের এল নিনো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিগুলোকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। এর প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।এ ছাড়া আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে খরা ও বন্যার কারণে সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে। এশিয়ার বিভিন্ন অংশেও খরা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।তুরস্কের কপ৩১ সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর প্রতি অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ১০ শতাংশের মতো অর্থ ভঙ্গুর ও সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে পৌঁছায়। বাস্তুচ্যুত মানুষ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ অত্যন্ত অপ্রতুল।ইউএনএইচসিআরের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।সূত্র: রয়টার্স
১ ঘন্টা আগে