ক্যাটাগরি

সামাজিক মাধ্যম

মারণাস্ত্র নয়, বিশ্ব বদলাবে কূটনীতি-মানবতায়

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী মারণাস্ত্র নয়, বিশ্ব বদলাবে কূটনীতি-মানবতায়


মারণাস্ত্র নয়, যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাকে বিশ্ব পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আজকের ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভাজনে পরিণত না হয়—এমন আহ্বানও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর, ৩১ দফা কর্মসূচি এবং বিশ্বশান্তি থেকে শুরু করে জলবায়ু, রোহিঙ্গা সংকট, অভিবাসন, শিক্ষা ও প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা, সম্মান ও মর্যাদা।তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব চায়, যেখানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘকে কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ।৩১ দফায় নতুন বাংলাদেশের রূপরেখাভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তার ভাষণে উঠে আসে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচির বিষয়টি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ‘কেউ পিছিয়ে থাকবে না’ নীতির সঙ্গে ৩১ দফা কর্মসূচির ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশের পরোক্ষ মিল রয়েছে।অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তিনি। পরিবার প্রধান নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়াকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে এসব কার্ড সমন্বিত করে ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান।রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বানভাষণে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংকটের চূড়ান্ত সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সমর্থন প্রয়োজন।মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিজলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলক কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।এ অবস্থায় জলবায়ু ন্যায্যতা, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে কপ-৩১ সম্মেলন থেকে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তিনি।‘ডিজিটাল বিভাজন যেন এআই বিভাজন না হয়’প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বৈষম্য নিয়ে সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, আজকের ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভাজনে পরিণত না হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়, সে জন্য জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।শিক্ষায় ৫ শতাংশ জিডিপির লক্ষ্যদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষণে বলা হয়, দেশের ইতিহাসে এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।নারী ও তরুণদের এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারনারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানান তিনি। স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগের কথাও ভাষণে উল্লেখ করা হয়।ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেন, যেখানে তরুণরা নির্বিঘ্নে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবেন এবং শিশুরা নিজেদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে।তার ভাষায়, সর্বোপরি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জনগণ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে। এ লক্ষ্যকে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই দুই স্লোগানে তুলে ধরেন।বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

১৬ মিনিট আগে

বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ, জাতিসংঘে বাবা-মায়ের তৈরি ভিতেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দেবেন পুত্র তারেক

বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ, জাতিসংঘে বাবা-মায়ের তৈরি ভিতেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দেবেন পুত্র তারেক


প্রতিটি দেশ নিয়ে গঠিত বিশ্বের একমাত্র সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান ‘জাতিসংঘ’। এই প্রতিষ্ঠানের মূল নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি জাতিসংঘের প্রশাসনিক কাঠামো পরিচালিত হয় মহাসচিবের নেতৃত্বে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র পাঁচটি—চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। এই দেশগুলোর রয়েছে ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা। এছাড়া প্রতি বছর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনসাপেক্ষে ১০টি দেশ অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়। অন্যদিকে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত ‘সাধারণ পরিষদ’ যেন পুরো বিশ্বের একান্নবর্তী পরিবার। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের বাজেট অনুমোদন, নতুন সদস্য গ্রহণ এবং নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচন।আমাদের সমাজে যেমন ধর্মীয় উৎসব বা পারিবারিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সবাই নিজ নিজ ঠিকানায় একত্রিত হয়, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনও অনেকটা সেরকম সামাজিক পরিবেশ তৈরি করে। এ উপলক্ষে নির্দিষ্ট কাজের সমাধান হয়, প্রতিনিধিরা একে অপরের সান্নিধ্য পান এবং জটিল আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের পথ বা সূত্র তৈরি হয়। একইভাবে এই অধিবেশনে সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা পরস্পরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন, যা পরে বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।এর এক চমৎকার ও কালজয়ী উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম— ১৯৮০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৩৫তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে জাতিসংঘের ৩৫তম অধিবেশনে এই ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক তার বক্তব্যে যে অঙ্গীকার ও রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন, তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন। যেসব বিষয়ে তিনি দৃষ্টিপাত করেছিলেন, তার বহিঃপ্রকাশ পরে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিকভাবে ঘটেছে।১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে (বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে) দেওয়া তার প্রথম ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বমঞ্চে এক ঐতিহাসিক বার্তা দেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি বাংলাদেশের স্বনির্ভর উন্নয়ন সংগ্রামের বিবরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আকুল আহ্বান জানান।তিনি বাংলাদেশের তৎকালীন মূল চ্যালেঞ্জ—যেমন জনসংখ্যার চাপ, বেকারত্ব, ভূমিহীনতা ও নিম্ন মাথাপিছু আয়ের চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই বাংলাদেশে বাস করে। এখানকার জনসংখ্যার ঘনত্ব জাপান ও নেদারল্যান্ডসের চেয়েও দ্বিগুণ। অর্ধেকের বেশি মানুষ বেকার অথবা ভূমিহীন কৃষক, যাদের বড় অংশই কেবল মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ২০ লাখ মানুষের খাদ্যসংস্থান করতে হয়। এত কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ যে থমকে যাবে না, সে কথা জানিয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাইনি এবং কখনোই হবো না।’পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন তিনি। ১৯৮৫ সালের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং নতুন বিদ্যালয় ও হাসপাতাল স্থাপনের লক্ষ্যের কথা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ‘কোনো নারী, পুরুষ বা শিশু যেন অন্ন, বস্ত্র ও আশ্রয় থেকে বঞ্চিত না হয়’ তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ‘আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন।’ দেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষকে এই উন্নয়নযজ্ঞে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কোনো অবস্থাতেই নড়চড় হবে না।’ স্বনির্ভরতাকেই তিনি দেশের মূলমন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বলেন, ‘আমাদের সফল হতেই হবে, কারণ আমাদের সামনে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’জিয়াউর রহমানের ভাষণে সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী বিষয়টি ছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব। আঞ্চলিক শান্তির সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার যোগসূত্র ব্যাখ্যা করে তিনি এ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের কাছে কিংবা দূরে যেকোনো ধরনের বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, যা নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিহীন।’তিনি বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশ ইতোপূর্বে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে উঠলেও দক্ষিণ এশিয়ায় তখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত এক টেবিলে বসা এবং এ অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করা। দক্ষিণ এশিয়ায় এখন আমাদের যাত্রা শুরু করার সময় এসেছে।’ (যার ধারাবাহিকতায় পরে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়)। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন ও কাজগুলোকে পরে এগিয়ে নিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের ৪৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে বেগম খালেদা জিয়া বেশ কিছু মৌলিক ও তাত্পর্যপূর্ণ বিষয়ে আলো ফেলেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরকে শক্তিশালী করে। দারিদ্র্য মোকাবিলার সক্ষমতার ওপরই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে।’তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দেন, মূলধনের অভাব ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে বাংলাদেশের একার পক্ষে এত বড় পথ চলা কঠিন। তাই তিনি উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে যখন আমরা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই, তখন একা এই কঠিন কাজ সম্পাদন করা সম্ভব নয়; আমাদের সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।’বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মানবাধিকার, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ছোট রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে যুক্ত করেন। স্নায়যুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থায় ছোট ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর অধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর তাগিদ দেন। তিনি ঘোষণা করেন, ‘জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার মাধ্যমে এক সমৃদ্ধ সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ ছোট ও বড় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ছোট দেশগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এছাড়া অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, সমুদ্র আইন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মর্যাদার বিষয়গুলোকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। আজ ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় মধ্য রাতে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম ভাষণে অংশ নিতে যাচ্ছেন। পুরো জাতি আজ গভীর আগ্রহ ও প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছে—তার পিতার সুচিন্তিত ও দূরদর্শী ভাবনার অনুকরণে বিশ্বমঞ্চে কেমন দিগদর্শন ফুটে ওঠে। আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন সর্বদা নতুন রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য নিজেদের দূরদৃষ্টি ও দেশের অবস্থান তুলে ধরার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। অতীতে অনেক বিশ্বনেতা প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে এসে পুরো দুনিয়ার সামনে যে ঐতিহাসিক বক্তব্য ও স্বপ্ন তুলে ধরেছিলেন, তা কালক্রমে বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছিল। ঐতিহাসিক এই ধারা প্রমাণ করে—প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রপ্রধানরা যে স্বপ্ন দেখান, তা কেবল নিজ দেশের ভাগ্য নয়, বরং সমগ্র বৈশ্বিক রাজনীতির চিন্তা-চেতনাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এদিক থেকে বাংলাদেশ থেকে আজকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দেশের সামগ্রিক নজর থাকবে, এটিই স্বাভাবিক।ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক গতিধারা, বৈশ্বিক সংকট, বিশ্বজুড়ে মানবতা ও মানবাধিকারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের এক নতুন দিকনির্দেশনা ফুটে উঠবে তার কণ্ঠে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মা-বাবার রক্ত ও আদর্শের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে ৩১-দফার ভিত্তিতে এক আধুনিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথাই তিনি স্মরণ করিয়ে দেবেন বিশ্বমঞ্চে, বিশ্বনেতাদের।লেখক: সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী

২ ঘন্টা আগে

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা


বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে। মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৪ ঘন্টা আগে

তারেক-শাহবাজ বৈঠক: পারস্পরিক স্বার্থে সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব

তারেক-শাহবাজ বৈঠক: পারস্পরিক স্বার্থে সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব


বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়।বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।এ সময় অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

৫ ঘন্টা আগে

বগুড়ায় গাঁজার গাছসহ যুবক আটক

বগুড়ায় গাঁজার গাছসহ যুবক আটক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১০:৩৯:২০

ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৭৮২

ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৭৮২

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৯:৫৪:১১

সাভারে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার

সাভারে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৯:৩৪:৩৮

জানুয়ারিতে স্থানীয় ভোটের পরিকল্পনা ইসির

জানুয়ারিতে স্থানীয় ভোটের পরিকল্পনা ইসির

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৭:৪৯:৫২

মালদ্বীপে প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে হাইকমিশনে জামায়াত নায়েবে আমীরের মতবিনিময়

মালদ্বীপে প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে হাইকমিশনে জামায়াত নায়েবে আমীরের মতবিনিময়

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৭:৩৭:১৪

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষকসহ দুজনকে অব্যাহতি

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষকসহ দুজনকে অব্যাহতি

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৭:২৪:৫৪

গাজীপুরের কাশিমপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

গাজীপুরের কাশিমপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৬:৩৯:৩১

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: এমপি নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: এমপি নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:৩৬:৪৯

রামুর বাঁকখালী নদীতে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু, ১৭ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

রামুর বাঁকখালী নদীতে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু, ১৭ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:২২:২৫

৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগে ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগে ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:০৩:২২

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৫:৫৫

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৭:২৫

ফ্যাসিবাদের উত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবে না: রিজভী

ফ্যাসিবাদের উত্থান হলে কেউ রক্ষা পাবে না: রিজভী

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৩২:৪২

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় টুঙ্গিপাড়ায় কমেছে পাম্পে ভিড়, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় টুঙ্গিপাড়ায় কমেছে পাম্পে ভিড়, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:২৬:৪৮

সৌন্দর্যচর্চার পণ্যে “মেড ইন বাংলাদেশ” লেবেল যেভাবে পালটে গেল

সৌন্দর্যচর্চার পণ্যে “মেড ইন বাংলাদেশ” লেবেল যেভাবে পালটে গেল

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:০৬:০১

দশ বছরের কৌশলগত পার্টনারশিপ করলো গ্রামীণফোন ও বাংলাদেশ পুলিশ

দশ বছরের কৌশলগত পার্টনারশিপ করলো গ্রামীণফোন ও বাংলাদেশ পুলিশ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৩:৫১:২০

1–20 / মোট 9427টি সংবাদ | পৃষ্ঠা 1 / 472
শিরোনাম
মারণাস্ত্র নয়, বিশ্ব বদলাবে কূটনীতি-মানবতায় বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ, জাতিসংঘে বাবা-মায়ের তৈরি ভিতেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দেবেন পুত্র তারেক অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা তারেক-শাহবাজ বৈঠক: পারস্পরিক স্বার্থে সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব বগুড়ায় গাঁজার গাছসহ যুবক আটক ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৭৮২ সাভারে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার জানুয়ারিতে স্থানীয় ভোটের পরিকল্পনা ইসির মালদ্বীপে প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে হাইকমিশনে জামায়াত নায়েবে আমীরের মতবিনিময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষকসহ দুজনকে অব্যাহতি গাজীপুরের কাশিমপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: এমপি নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে রামুর বাঁকখালী নদীতে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু, ১৭ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগে ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু মারণাস্ত্র নয়, বিশ্ব বদলাবে কূটনীতি-মানবতায় বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ, জাতিসংঘে বাবা-মায়ের তৈরি ভিতেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দেবেন পুত্র তারেক অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা তারেক-শাহবাজ বৈঠক: পারস্পরিক স্বার্থে সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব বগুড়ায় গাঁজার গাছসহ যুবক আটক ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৭৮২ সাভারে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার জানুয়ারিতে স্থানীয় ভোটের পরিকল্পনা ইসির মালদ্বীপে প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে হাইকমিশনে জামায়াত নায়েবে আমীরের মতবিনিময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষকসহ দুজনকে অব্যাহতি গাজীপুরের কাশিমপুরে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১ আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা: এমপি নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে রামুর বাঁকখালী নদীতে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু, ১৭ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগে ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু