বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, দেশ পরিচালনা ও সুস্থ ধারার রাজনীতিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি অনন্য ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন রাজনীতিক। স্বাধীনতার পরে প্রতিটি প্রতিকূল ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়া জনগণকে টেকসই উন্নয়ন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছে। তেমনিভাবে তারেক রহমানও ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালী পূর্ব বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্র এবং টেকসই উন্নয়ন সবই বিএনপির অর্জন। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান একটি উন্নত,সমৃদ্ধ ও নিরাপদ দেশ গঠনে কাজ করছেন। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে তাঁর ডায়নামিক নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে- 'বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল'।বর্ষীয়ান নেতা ড.মোশাররফ বলেন, সামাজিক অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সূচিত সুস্থ ধারার রাজনীতিকে জনগণ বিপুল সমর্থন জানাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার উন্নয়নের রাজনীতিতে সামিল হওয়ার জন্য তিনি (ড. মোশাররফ) জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন,বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো.সেলিম ভুঁইয়া এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট ড.খন্দকার মারুফ হোসেন এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল হাশেম। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন, আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব এস.এম সালাহউদ্দিন সরকার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালে প্রথম জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ড.খন্দকার মোশাররফ স্মৃতিচারণ করে বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিকশিত করার জন্য বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিলো তাঁর অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। অভিশপ্ত একদলীয় 'বাকশাল' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছিল। শহীদ জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দলগুলোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। আজকের এই গৌরবময় দিনে আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, ওসমান গণি ভূঁইয়া ও তৌহিদুল ইসলাম বাবু, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এম.এ লতিফ ভূঁইয়া, মেঘনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বায়েজিদ, মেঘনা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জয়নাল আবেদীন, ডা.আবদুল কাইউম, আবদুল গাফফার,মো.সলিমউল্লাহ, দিলারা শিরীন ও আবু ইউসুব নয়ন, মেঘনা যুবদলের আহবায়ক আতাউর রহমান ও সদস্য সচিব আবদুল হান্নান প্রমুখ।
২১ মিনিট আগে
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকার দুই সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব পাওয়া গেছে।লোহিত সাগর উপকূলের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সরকারি বাহিনীর ২৪ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। আর তায়েজের অভ্যন্তরীণ এলাকায় আরও ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আরেক সামরিক কর্মকর্তা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।এদিকে, হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনে নতুন করে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় হুতি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং তায়েজ অঞ্চলের কাছে রকেট ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান শুরু করে।সরকারি সামরিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, হুতিরা কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলার মুখে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখাকে সরকারি নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।ইয়েমেনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। গত জুলাইয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনও সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ২০২২ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দেয়।
৪৫ মিনিট আগে
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে দেখার পুরনো রাজনৈতিক ধারণা ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশের কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই; নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সবাই সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেকে মনে করতেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোটব্যাংক’। এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।মন্ত্রী বলেন, আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত—আমরা সবাই বাংলাদেশি। ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতি হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতির ভিত্তিতে আমরা প্রত্যেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশি’। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা পাবে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।সংবিধানের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয় এবং সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও শান্তি’ বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিবাচক এই চর্চা সমাজকে আরও সুন্দর করবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণই বিচারক। তারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।অনুষ্ঠানে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে তিনি জন্মাষ্টমীর মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।এ ছাড়া বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।পরে পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে জন্মাষ্টমীর মিছিলটি শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
৫৭ মিনিট আগে
সরকারের বিরুদ্ধে নয়, ১১ দলীয় ঐক্য জোটের লংমার্চ গণরায় বাস্তবানের জন্য পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে আমাদের গাড়িবহরের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনো পর্যন্ত দেড় হাজার গাড়ি লংমার্চে অংশ নেবে। এই কর্মসূচি সরকার পতনের জন্য নয়, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ দূর করার জন্য ১১ দলীয় জোট নিয়মতান্ত্রিক এবং গঠনমূলক লংমার্চ পালন করবে। এ সময় তিনি জানান, লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে।এরপর পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা হবে। সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।লংমার্চে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর বিরোধী দল জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে।সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ, বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সফল করতে সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে সরকার জনগণের আস্থায় থাকবে।
২ ঘন্টা আগে