এম এ আলিম, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ০৯:৩০:০৩
সিউলে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া বৈঠক: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে সিউলে অনুষ্ঠিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্টেট মিনিস্টার হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম ভাইস মিনিস্টার পার্ক ইউন-জু।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া Comprehensive Economic Partnership Agreement—CEPA। চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চমানের তৈরি পোশাক ও আইসিটি খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
সিউলের এই বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কর্মসংস্থানের বিষয়টিও। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার Employment Permit System বা EPS-এর মাধ্যমে আরও বেশি দক্ষ ও অর্ধ-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা।
এছাড়া কৃষি, এগ্রো-প্রসেসিং, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও কোরিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়।
রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে অব্যাহত সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।