দীর্ঘ ২৪ বছর পর কুমিল্লার বরুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত বরুড়ার হাজারো মানুষ।শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টায় বরুড়া উপজেলার লক্ষীপুর খেলার মাঠে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। সেখানে তিনি উপস্থিত জনতার সামনে বক্তব্য দেবেন।তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখতে এবং তার বক্তব্য শুনতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ইতোমধ্যেই পথসভার মাঠে উপস্থিত হয়েছেন। বরুড়া ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে দলে দলে স্লোগান নিয়ে আসতে দেখা গেছে জনতাকে।প্রধানমন্ত্রীর এই পথসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের স্লোগান `সবার আগে বাংলাদেশ‘ সম্বলিত ব্যানারে সুসজ্জিত করা হয়েছে সভামঞ্চ।গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন এই পথসভার সভাপতিত্ব করছেন। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে।কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বরুড়া আগমন উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আপনারা দেখছেন ইতোমধ্যেই হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সভায় উপস্থিত হয়েছেন। জনগণের এ স্রোত আরও বাড়বে।কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে সফল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে গোটা এলাকা।
২৬ মিনিট আগে
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ নির্বাচনে সভাপতি পদে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রাজিল। একই সঙ্গে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও জোরালো আশ্বাস দিয়েছে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ার পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম বৈঠকে তার দেশের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে বাংলাদেশ ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ব্রাজিলের পাশাপাশি এই নির্বাচনে আলজেরিয়াও বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়েছে।বৈঠকে সেলসো আমোরিম দুই দেশের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ ও কৌশলগত সমন্বয় গভীর করতে একটি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বোঝাপড়া অত্যন্ত জরুরি। এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে।উপদেষ্টা আমোরিম বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতি ব্রাজিলের এই সমর্থন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকা এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় দেশটির নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। ব্রাজিলের এই সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্ব যখন যুদ্ধ, বৈষম্য ও জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি, তখন জাতিসংঘকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা জরুরি।বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের বাণিজ্য প্রায় চার বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই সম্পর্ককে আরও বাড়াতে সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু এবং তৈরি পোশাক, ওষুধ ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।আঞ্চলিক রাজনীতি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে ‘সমতা, মর্যাদা ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততা’র ভিত্তিতে। বর্তমান সরকার কোনো নতজানু নীতিতে বিশ্বাস করে না। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।বৈঠকে ব্রিকসের সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হলে সেলসো আমোরিম জানান, তিনি বিষয়টি প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) একটি শাখা স্থাপনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
১ ঘন্টা আগে
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ৮টার পর সড়ক পথে তিনি গুলশানের বাসা থেকে রওনা দেন। এ সফরে তিনি দুটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, পথসভা ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।সফরসূচি অনুযায়ী, যাত্রা পথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়ার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথ সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন বিশ্ব খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং তা উদ্বোধন করবেন।দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।পরে বিকেল ৫টায় তিনি চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার মধ্য দিয়ে এ সফর শেষ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
২ ঘন্টা আগে
ফারাক্কা বাঁধের কারণে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ। এর জন্য তৎকালীন আওয়ামী সরকার দায়ী। ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য এখনও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।১৬ মে ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সব সব কথা বলেছেন।বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে লাখো জনতা গঙ্গা নদীর পানি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ন্যায্য হিস্যা আদায়ের সংগ্রামে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল লংমার্চে অংশ নেয়। ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার শুরু করা হয়। এতে করে বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। সে এলাকায় পানিসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।বিএনপির মহাসচিব বলেন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত মানকে বিবেচনা না করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ভারতকে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই বাঁধ অব্যাহতভাবে এখনও পর্যন্ত চালু থাকায় সেটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে এ দেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত।স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, এই বঞ্চনা ও দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্দশার আশঙ্কায় মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আনেন। তখন থেকে ব্যাপক মানববিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফারাক্কা বাঁধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে।বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি, আজও ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্ত করে একতরফা নিজেদের অনুকূলে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নিষ্ফলা উষর ভূমি হয়ে ওঠার আলামত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠেছে।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ন্যায্য পাওনা আদায়ের সংগ্রামে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে জনগণের ঐতিহাসিক মিছিল রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে অকুতোভয় সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়েছিল। তাই প্রতি বছর ১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’যেকোনও অধিকার আদায়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে।
২১ ঘন্টা আগে