জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ।বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।এ মামলায় গ্রেপ্তার চারজন হলেন- নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। কারাগার থেকে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।পলাতক আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।গত ৮ এপ্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার শুনানির কথা ছিল। তবে প্রসিকিউশন থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ কারণে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এদিন প্রথমে শুনানি করবে প্রসিকিউশন।চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।এ মামলায় আনা তিনটি অভিযোগে প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।
২ ঘন্টা আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে উত্তেজনার জেরে হামলা ও পাল্টা হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।নিহত দিয়া আক্তার (২০) শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহতরা হলেন মৌসুমী আক্তার (৩৫), মুয়াজ (১৫) ও জয়া (১২)।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আবু মুসা নামের এক ঠিকাদার নবীউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে টাকা পেতেন। পাওনা টাকা চাইতে তিনি ভোরে নবীউল্লাহর বাসায় যান। এ সময় তাদের মধ্যে টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নবীউল্লাহ আবু মুসাকে কুপিয়ে জখম করেন।এরপর আবু মুসা উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবীউল্লাহর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে কোপ দেন। এতে তার হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখে দৌড়ে আসেন তাদের মেয়ে দিয়া আক্তার। পরে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এরপর পরিবারের আরও দুই সন্তান—মুয়াজ ও জয়া—এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে জখম করা হয়।আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।যাত্রাবাড়ী থানার ওসি রাজু আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় আবু মুসাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।
১৪ ঘন্টা আগে
ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেছেন, কাতার, আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি সুন্নি মুসলমান ইরানে বসবাস করেন।সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী জানান, ইরানে প্রায় দুই কোটি সুন্নি মুসলমান রয়েছেন এবং তিনি নিজেও একজন সুন্নি মুসলমান ও হানাফী মাজহাবের অনুসারী। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি ও বর্তমান নেতাদের প্রতি সুন্নি মুসলমানদের অগাধ ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরানের সুন্নি মুসলমানরাও তাদের নেতাকে মনে-প্রাণে শ্রদ্ধা করেন। বিপ্লবী আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। তিনি আরও বলেন, ‘বাহরাইনের শিয়া নেতাদের সাথে ইমাম খামেনি কখনোই সাক্ষাৎ করেননি, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে তিনি বুকে টেনে নিয়েছেন।’ ফিলিস্তিন ও মুসলিম বিশ্বের সংকটে ইরান সবসময় মজলুমের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এই সংহতি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী।
১৪ ঘন্টা আগে
সিঙ্গাপুর থেকে ১২ হাজার টন উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলবাহী জাহাজ ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে নোঙর করেছে। যা সরবরাহ করেছে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড। এছাড়া প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আজ রাতে আরও দু’টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুরের সরবরাহ করা ‘এমটি টর্ম দামিনি’ ৩৩ হাজার টন এবং ভিটল এশিয়ার ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ জাহাজটি ৩৫ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।আজ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল আনুমানিক ২২ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহের চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব। নতুন এই চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত কিছুটা বেড়েছে। যদিও জেট ফুয়েলের ব্যবহার তুলনামূলক কম; মাসের প্রথম ১২ দিনে বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার টন, দৈনিক গড় ১ হাজার ৭৫৮ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য বেশি।এদিকে, আজ রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ডিজেলবাহী আরও দু’টি জাহাজের। ‘এমটি টর্ম দামিনি’তে আসছে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল (সরবরাহকারী ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড) এবং ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ আনছে প্রায় ৩৫ হাজার টন (সরবরাহকারী ভিটল এশিয়া)।দেশের জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেল নির্ভর, মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। পরিবহন থেকে কৃষি, শিল্প থেকে বিদ্যুৎ, সবখানেই এর চাহিদা প্রবল। বিপিসির হিসাবে, এপ্রিল মাসে মোট চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। সে হিসাব মাথায় রেখে মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এর আগে মাসের শুরুতেই ৩ এপ্রিল দু’টি জাহাজে করে আসে মোট ৬১ হাজার টন ডিজেল। তবু চাহিদার চাপ পুরোপুরি কমেনি। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন, দৈনিক গড় ১১ হাজার ১৩৮ টন।১২ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে ১০ দিনের মতো চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন দু’টি চালান যুক্ত হলে এই সক্ষমতা আরও কয়েক দিন বাড়তে পারে, যদিও তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্বস্তি দেবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী আমদানির ধারাবাহিকতার ওপর।বিপিসি’র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ১১ হাজার টনের বেশি ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত আরও ৪/৫ দিন বাড়বে।বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, নির্ধারিত সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আনার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, সামনে আরও আসবে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাসস
১৭ ঘন্টা আগে