বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্য লগ্ন শুভ মহালয়া আজ শনিবার (৯ অক্টোবর)। মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা আজ শুরু।মহালয়া তিথি শুধু শারদীয়া দেবীর পূজা শুরুর তিথি তা নয়, এই তিথি পরলোকগত পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে তর্পণ (জলদান) করে শ্রদ্ধা জানানোরও।পক্ষকাল পিতৃপক্ষের অবসানের পরে শুরু হয় দেবীপক্ষ। পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষের সন্ধির তিথি হলো মহালয়া। মহালয়া অমাবস্যা, শারদীয়া দেবী দুর্গার অমাবস্যার বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয়া দুর্গাপূজা। শাস্ত্রমতে দেবী দুর্গা মহিষাসুর নিধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এই মহালয়া তিথিতে। এই তিথিতেই শারদীয়া দেবী দুর্গা মর্ত্যে আগমন করেন। ভোরের আলো ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পিতৃপক্ষ শেষে শুরু হচ্ছে দেবীপক্ষ। সকালে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গাকে জানানো হবে আহ্বান।মহালয়া উপলক্ষে চন্ডীপাঠ ছাড়াও বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা করা হবে। মূলত মহালয়া মানেই দুর্গাপূজার দিন গণনা শুরু হয়ে যাওয়া।মহালয়া দুর্গোৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরাণে আছে—দুর্গোৎসবের তিনটি পর্ব মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা। মহামায়া অসীম শক্তির উৎস। পুরাণ মতে, মহালয়ার দিনে, দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী কোনো মানুষ বা দেবতা কখনও মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলে অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। তাই ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’র রূপে অমোঘ নারীশক্তি সৃষ্টি করলেন এবং দেবতাদের ১০টি অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী নিয়ে দেবী দুর্গা ৯ দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুরকে পরাজিত ও হত্যা করে।মহালয়ার ভোর থেকেই শুরু হয় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা। সনাতন ধর্মে বলা হয়, পিতৃপক্ষে প্রয়াত আত্মারা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। মৃত আত্মীয়পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মঙ্গল কামনা করেন অনেকে। পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে জল-তিল-অন্ন উৎসর্গ করে তর্পণ করা হয়।আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে দুর্গাপূজা শুরু হলেও মূলত আজ থেকেই দুর্গাপূজার আগমনধ্বনি শোনা যাবে। দুর্গাপূজার এই সূচনার দিনটি সারাদেশে বেশ আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে। মহালয়া উপলক্ষে বিভিন্ন মন্দির ও পূজা কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। আগামী ২১ অক্টোবর ‘বিজয়া দশমী’র মাধ্যমে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।এদিকে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা বহনকারী মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন মন্দিরে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ওইদিন ভোরে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়া অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।এছাড়া শনিবার ভোরে রমনা কালী মন্দিরেও মহালয়া উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু।হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা ও ব্রাহ্মণদের বস্ত্র দানের মাধ্যমে তাদের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই দিনেই দেবী দুর্গা কৈলাসের নিজ আবাস থেকে মর্ত্যলোকে তার পিত্রালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন, যা দুর্গাপূজা উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়।এছাড়াও ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগে লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভোর থেকেই চন্ডীপাঠ, চন্ডীপূজা ও বিশেষ পূজার মধ্য দিয়ে মহালয়ার ঘট স্থাপন করা হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় (ঘোটক) চড়ে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, ‘এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।’প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ বছর দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।এদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারের সঙ্গে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।এ বিষয়ে বাসুদেব ধর বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবকে সামনে রেখে সারা দেশের পূজা কমিটি, মন্দির ও মণ্ডপগুলো প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। উৎসব চলাকালীন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী কাজ করে যাচ্ছে।দুর্গাপূজা কেবল একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। বাসস
১১ ঘন্টা আগে
বর্ণাঢ্য ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশের পরিচিত সামাজিক ও প্রমোশনাল সংগঠন ‘দিয়ামনি ই-কমিউনিকেশন’ আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রাখা ব্যক্তি, সফল উদ্যোক্তা এবং গুণী গণমাধ্যমকর্মীদের উৎসাহিত করতে এই বিশেষ সম্মাননার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর সেগুনবাগিচার কচিকাচা মিলনায়তনে দেশবরেণ্য তারকা, বিশিষ্ট উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে মনোনীতদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।এবারের আয়োজনে সমাজ সংস্কার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য সেবায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের। এরই ধারাবাহিকতায়, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং মহানগরে মাঠপর্যায়ের সাহসী রিপোর্টিংয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল এস -এর দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল সিটি রিপোর্টার সীমা প্রধান।এসময় সম্মাননা প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় চ্যানেল এস-এর সিটি রিপোর্টার সীমা প্রধান বলেন, যেকোনো কাজের স্বীকৃতি সবসময়ই আনন্দের এবং এটি পেশাগত দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দেয়। মহানগরের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর তুলে ধরার এই প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করার জন্য আমি দিয়ামনি ই-কমিউনিকেশন পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে এই সম্মাননা আমাকে বড় অনুপ্রেরণা জোগাবে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজ বিনির্মাণ ও সত্য প্রকাশে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁদের এই কাজের মূল্যায়ন আগামীতে দেশের গণমাধ্যম সেক্টরকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশিষ্টজনদের মিলনমেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তারকা, উদ্যোক্তা ও সাংবাদিকদের এই চমৎকার আয়োজনটি।
২০ ঘন্টা আগে
সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হুথিদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং নিরীহ জীবন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকির মুখে পড়ে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে এবং অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় তিন জন নিহত হয়েছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ আরও তীব্র হচ্ছে। এর মধ্যেই সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং দেশটির আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
২২ ঘন্টা আগে
রাজধানীর সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো ব্যক্তি একটি রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলেরই ৭০০ অটোরিকশা থাকার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের একজনও অটোরিকশা চলাচলের পক্ষে আন্দোলন করবে না। অথচ একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেল প্রকাশ্যে বলেন অটোরিকশা চলাচলের দাবি নাকি সরকারের মানা উচিত। বিষয়টি অত্যন্ত হাস্যকর। পরে খোঁজ নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, ওই নেতার নিজেরই ৭০০ অটোরিকশা রয়েছে।ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মিল্টন বলেন, ঢাকার প্রতিটি এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। দোকানের সামনে কিংবা ফুটপাতে যাতে কেউ অবৈধভাবে বসতে না পারে, ব্যবসায়ীদের সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নগরবাসী যা চাইবে না, সিটি করপোরেশন কখনোই তা করবে না।দখলমুক্ত ফুটপাতে সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নের কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব এলাকার ফুটপাত ভেঙে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো সংস্কার করে পথচারীবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন করা হচ্ছে।এ সময় অভিযোগ তুলে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ফুটপাতের হকারদের ডেকে নানা ধরনের উসকানিমূলক পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কেউ যদি নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তবে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
১ দিন আগে