পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, প্রথমদিন থেকেই বিরোধী দল প্রতিমুহূর্তে সরকার দলকে অসহযোগিতা করার কারণেই কেউ কেউ (আওয়ামী লীগ) ডিসেম্বরে আসতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ।তিনি বলেন, ‘আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন বিরোধী দল উপস্থিত হয়নি। প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল প্রতিমুহূর্তে সরকারি দলকে সব রকমের অসহযোগিতা করে যাচ্ছে। এই অসহযোগিতার কারণে কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়। যদি বিরোধী দল এই সুযোগটা না দিত, লংমার্চ যদি না করত, তাহলে এই সুযোগটা পেতো না।’শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লাইন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ এই আয়োজন করেন।পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল সংসদে বসে ভালো কথা বলে। কিন্তু বাইরে গিয়ে ভালো কথা বলছে না। গত ১৭ বছর যারা অত্যাচার-নির্যাতন করছে তারা দুই এক জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে, আবার পালিয়ে যায়। এই সুযোগটা তো তারা পাচ্ছে।’ বিরোধী দলের লংমার্চ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন যারা বিরোধী দল আছে, আজকে তারা রংপুর যাচ্ছে ঢাকা থেকে। তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছে। তারা গ্যাসের জন্য আন্দোলন করছে, তেলের জন্য আন্দোলন করছে। যে বাংলাদেশে গ্যাস নাই, তেল নাই, তারেক জিয়াকে এখনই গ্যাস দিতে হবে, এখনই সব বিদ্যুৎ দিতে হবে। আমরা তো একটা ধ্বংসস্তুপের ওপর দায়িত্বে এসেছি। আমরা এসেই কি ৬ মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সব দিয়ে দিতে পারব?’মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল যে লংমার্চ অথবা রোডমার্চ করছে, সেখানে কি তেল খরচ হচ্ছে না? রাস্তাঘাটে কি মানুষের ক্ষতি হচ্ছে না? মানুষের চলাফেরার মধ্যে জ্যাম সৃষ্টি হচ্ছে না? অসুস্থ রোগীদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে না? তাহলে বিরোধী দল কি এটা কোনো ভালো কাজ করল? কিন্তু উনারা বারবার সংসদে বলছে তারা সরকারকে সহযোগিতা করবে, সরকারকে সহযোগিতার নমুনা যদি এই ধরণের হয়, এটা কি সহযোগিতা হইলো?’শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘বিএনপিকে একটা চাপে রেখে তারা (বিরোধী দল) ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে চায়। এভাবে কি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা যায় নাকি? এবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, বেহেশতের কথা বলে। ভোটের এক সপ্তাহ আগে হাতের ভেতর আইডি কার্ড নিয়ে টাকা দিয়ে কিছু ভোট নিয়েছে। আমাদের কিছু মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করে কিছু ভোট নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য ভবিষ্যতে আমাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। কোনো ধরণের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও জনগণের ক্ষতি করবে, বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকার এটা মেনে নেবে না। কারণ আমরা জনগণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে লড়াই সংগ্রাম করতে করতে এখানে এসেছি।’তিনি আরও বলেন, ‘৫ই আগস্টের জন্য ১৭ বছর আমাদের লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে। হঠাৎ করে ৫ই আগস্ট আসেনি। এই ৫ই আগস্ট আসার ক্ষেত্রে আপনারা-আমরা, আমাদের ছাত্র-যুবক, তরুণ-তরুণী মাঠে থেকে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করে এই প্রেক্ষাপটটা তৈরি করেছে বিদায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে আমরা এই দেশের দায়িত্ব পেয়েছি, দায়িত্ব পরিচালনা করছি।’ ইত্তেফা
২৩ ঘন্টা আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত৷ নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খনন কাজ শুরু হয়। খনন কাজ শেষ হয় গত ২৭ মে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয় গত ১৯ জুন। ইতোমধ্যে কূপটি থেকে প্রায় দুইশ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।২৮ নম্বর কূপের প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন মুন্না জানান, কূপটি ওয়েলহেড শাট-ইন প্রেসার ৩৬০০ পিএসআই এবং ফ্লোয়িং প্রেসার ২১০০ পিএসআই। দীর্ঘসময় কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিস ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উত্তোলন করে তা গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান সরকার ২০২৩ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে তিতাস ২৮ নম্বর কূপ থেকে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ ২০৩০ সাল নাগাদ চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য দূর করতে সহায়তা করবে। এই কূপের গ্যাস মানুষের মাঝে স্বস্তি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জলিল প্রামানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতিকালে এই অঞ্চল ও এর জনগণের যৌথ কল্যাণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা একটি সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সংক্ষিপ্ত আলাপকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান তারা।ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) উন্নয়নে বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি জোগান দিয়ে অবদান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন মঈন খান এবং হুমায়ুন কবির। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে গড়ে ওঠা দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তারা।বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
১ দিন আগে
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এবং আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ‘শুনছি শেখ হাসিনা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাকি দেশে ফিরবেন, তাকে হাতকড়া পরিয়ে বরণ করা হবে।’আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুন ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে ঢাকার শাহবাগে বসবাস করা অসহায় বৃদ্ধা গোলাপী বেগমের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।বিমানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই সারা দেশে মানবিক নেতা হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন। তবে সার দেশের যে চলমান অবস্থা তা ঠিক করতে কিছুটা সময় দিতে হবে। কারণ আমরা যে রাষ্ট্র পেয়েছি তার অবস্থা খুবই ভঙ্গুর, অর্থনৈতক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। যার কারণে প্রতিটি সেক্টর এমনকি গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট রয়েছে। মূলত জ্বলানির উন্নয়নে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তবর্তী সরকার কোনো কাজ করেনি। বরং লুটপাটের জন্য বিভিন্ন প্ল্যান করেছে। যেগুলো চলুক বা না চলুক বসিয়ে বসিয়ে টাকা দেওয়া হয়েছে। এভাবে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের এ অবস্থা করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কিছুটা সময় দিতে হবে। কিন্তু একটি দল এই সুযোগে যারা নির্বাচনে কারচুপি করে ক্ষমতায় আসার জন্য প্রত্যেকটা ক্ষেত্র তৈরি করেছিল তাদের আশা ভঙ্গ হয়েছে। কারণ জনগণ বিএনপির উপর আস্থা রেখেছে।আমরা বিএনপি পরিবার আজ দুপুরে উপজেলার রতনপুন ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে ঢাকার শাহবাগে বসবাস করা অসহায় বৃদ্ধা গোলাপী বেগমের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিমানমন্ত্রী।শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের পেট ভরার জন্য লুটপাট করে এ দেশের সব কিছু নিয়ে গেছে। কিন্তু এখন লুটপাটের টাকা খেতে পারছে না৷ এখন নাকি আবার দেশে আসবে, এলে ফাঁসি হবে। মাঝেমধ্যে শুনি উঁকি দিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাকি তিনি দেশে আসবেন। আমরা বলি ৩১ ডিসেম্বর কেন, যখনই আসবে তখনই আইনের মাধ্যমে রিসিভ করব। হাতকড়া পরিয়ে রিসিভ করে বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে মানবতাবিরোধী আচরণ করেছে তার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। আমরা অনুরোধ করছি পাশের দেশকে, অতিসত্বর শেখ হাসিনাসহ তার দোসররা যারা পালিয়ে গেছে, তাদের আমাদের কাছে ফেরত দেওয়া হোক।মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের যে অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছিল- তার বিচার করার জন্য, আমরা সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে জনগণের অধিকার, জনগণের টাকা লুট—এগুলোর সমাধান করতে চাই।অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মান্নান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, আমরা বিএনপি পরিবারের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে