রাকিবুল ইসলাম (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮:৫৮
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গোলাগুলি: গ্রেফতার ৮, আতঙ্কে এলাকাবাসী
লক্ষ্মীপুর শহরের চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (অর্থ ও প্রশাসন) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ অভিযানে নামে এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আব্দুর রহিম বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতাররা হলেন, দিদারুল ইসলাম মেহেরাজ, আব্দুর রহমান আকাশ, সাজ্জাদ হোসেন রিফাত, আয়ান হোসেন মিলন, আরিফ হোসেন, হৃদয় হোসেন, মো. সাকিব এবং মেহেরাজ হোসেন ইমন। তারা দেওপাড়া, লতিফপুর, পশ্চিম লতিফপুর ও পাঁচপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন এর দেওপাড়া ও শেখপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। এর জের ধরে সোমবার (২৩ মার্চ) প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
পরদিন মঙ্গলবার একই বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। এ সময় একপর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আশপাশের লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, দেওপাড়া গ্রামের পক্ষে রাকিব পাটওয়ারী এবং শেখপুর গ্রামের পক্ষে মিতুল নামে এক ব্যক্তি নেতৃত্ব দেন। তাদের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষ ও পরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
পথচারী গুলিবিদ্ধ, আরও আহত
গোলাগুলির সময় আব্দুর রহিম নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হন। তার বাম পায়ে গুলি লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিতুলের পক্ষের লোক মানিককে এলোপাতাড়ি চেইন দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আব্দুর রহিম শেখপুর গ্রামের শামছুল হকের ছেলে এবং পেশায় গাছ ব্যবসায়ী। আহত মানিক সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের পূর্ব জাফরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি মিজানুর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এলাকায় যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের স্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন হলে আরও গ্রেফতার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চন্দ্রগঞ্জ এলাকায় একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই রাতে ঘরের বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে এই ধরনের সহিংসতা বন্ধ না করা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তারা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।