জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে জলবায়ু সহনশীল ভাসমান বেড কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২৫ কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২০ জন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাঁচজন কর্মকর্তা রয়েছেন।ভবিষ্যতে কৃষক ও যুবসমাজের মধ্যে এ কৃষিপদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ম্যানুয়ালটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (ডিওয়াইডি) ও দ্য আর্থ সোসাইটির (টিইএস) যৌথ উদ্যোগে ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর চার দিনব্যাপী ‘টেকসই ভাসমান বেড স্মার্ট কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশে জলবায়ু কার্যক্রমে নারী ও যুবদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত ‘গ্রিন ভয়েসেস: এমপাওয়ারিং উইমেন অ্যান্ড ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটি ব্যবস্থাপনা করছে দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন।প্রশিক্ষণের প্রথম তিন দিন শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সেশন এবং শেষ দিন মাঠপর্যায়ে ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হয়। এতে ভাসমান বেড কৃষির ধারণা, কৌশল ও প্রয়োগের পাশাপাশি বন্যা, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্য আর্থ সোসাইটির চেয়ারম্যান এ কে এম মুজাহিদ উদ্দিন, সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও কো-চেয়ার শাকিলা সাত্তার তৃণা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) হুমায়ুন কবির, প্রশিক্ষণের প্রধান ফ্যাসিলিটেটর অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ এবং কো-ফ্যাসিলিটেটর বিবেকানন্দ হীরা।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ পদ্ধতির ব্যবহারিক জ্ঞান স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।দ্য আর্থ সোসাইটির প্রকল্প সমন্বয়ক সোহানা রেজা উর্মি বলেন, এ উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটি সম্ভব হলে ভবিষ্যতে অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই আরও বিস্তৃত পরিসরে এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা যাবে।সোহানা রেজা উর্মি আরও বলেন, অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন ও জলবায়ু কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে বৃহত্তর অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে দ্য আর্থ সোসাইটি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ কর্মএলাকায় ছড়িয়ে দিতে কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে কৃষক, যুবসমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে টেকসই ভাসমান বেড কৃষির কৌশল ও ব্যবহারিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন ঝুঁকির মুখে থাকা এলাকাগুলোতে এ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে।যুব উন্নয়ন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একই প্রশিক্ষণে যুক্ত করার ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং মাঠপর্যায়ে অর্জিত দক্ষতার কার্যকর প্রয়োগের ওপর।সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রশিক্ষণটিকে নিয়মিত সরকারি কর্মসূচির আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। এতে জলবায়ু সহনশীল কৃষিপদ্ধতির বিস্তার, সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
১ দিন আগে
ঢাকার ধামরাইয়ে মাদক সেবন, বাড়িঘর ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দিয়েছেন এক বাবা। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কালাম (২৪) নামের ওই যুবককে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করেন।সোমবার (১২ অক্টোবর) ধামরাই উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব পাইকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্ত কালাম ওই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম সায়েদ আলী।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালামের মাদক সেবন ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিল। মাদক সেবনের পর তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছেলের এমন আচরণে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে একপর্যায়ে বাবা নিজেই ছেলেকে আটকে রেখে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।খবর পেয়ে ধামরাই উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। পরে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিম শাহরিয়ারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ধামরাই থানার পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় কালামের কাছ থেকে একটি রামদা উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করেন।অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কালামকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের এ পদক্ষেপে পরিবারটি সাময়িকভাবে স্বস্তি পেয়েছে। তবে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে ওই যুবকের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তাঁরা।
১ দিন আগে
গোপালগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘স্বচ্ছতা’ সম্মেলন কক্ষে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহসংক্রান্ত এক অবহিতকরণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।ডা. কে এম বাবর বলেন, স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের সুফল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে তথ্য সংগ্রহে নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জরুরি।গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরিফ রফিকুজ্জামান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোরাদ হোসেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. তারেক সুলতান।এ সময় জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পুষ্টির মান উন্নয়নের লক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে 'চাইল্ড সারভাইভাল প্রোগ্রাম' উদ্বোধন করা হয়েছে।সোমবার দুপুরে উপজেলার আগ্রা হরসুয়া ২৮৪ বিডি উত্তরবঙ্গ শিশু উন্নয়ন প্রকল্পে ও গুড সেফার্ড ফাউন্ডেশন পরিচালনায় এই প্রোগ্রামেন উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কামাল আহমেদ, সেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল এর পিএফ রেমো রনি হালদার, বাংলাদেশ লুথারেন চার্চের সিনোট চেয়ারম্যান মনোজিত রায়, উপজেলা খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি রেভারেন্ট বিষ্ণুপদ রায়, গুড সেফার্ড ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর জগদিশ চন্দ্র রায়, আগ্রা ২৮৪ বিডি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপ বাসুদেব বিশ্বাস ও প্রকল্পের এলসিসি চেয়ারম্যান বিষ্ণু চন্দ্র রায় সহ আরো অনেকে। দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মা ও শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ সুস্থ-সবল হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্রোগ্রাম চালু করা হয়।
১ দিন আগে