কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বুধবার সকালে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কদমচাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুদের মারধরকে কেন্দ্র করে কদমচাল গ্রামের বাসিন্দা আজমান মিয়া ও তার সহোদর ভাই ইব্রাহীম মিয়ার মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতেও এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে বুধবার সকালে আজমান মিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার পক্ষ নিয়ে ইব্রাহীম মিয়ার পক্ষের লোকজনের সঙ্গে তর্কে জড়ায়।পরে খবর পেয়ে ইব্রাহীম মিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোয়েব খান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২ ঘন্টা আগে
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বালুরচর গ্রামে ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যাংককর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।মৃত তারেক রহমান (৩০) মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর উপাধি গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি ছেংগারচর বাজারের আইএফআইসি ব্যাংকে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মান-অভিমান চলছিল। পারিবারিক কলহের জেরে তার স্ত্রী নিপা আক্তার বাপের বাড়িতে চলে যান। স্বজনদের দাবি, এ নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন তারেক রহমান। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন সময় আত্মহত্যার হুমকিও দিতেন।ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিজ ভাড়া বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।বিষয়টি নিশ্চিত করে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
২ ঘন্টা আগে
সরকার ঘোষিত জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দুই মাসব্যাপী নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকেই পদ্মা-মেঘনা নদীতে দিন-রাত ব্যাপক নৌ টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের তৃতীয় দিনেও অবৈধভাবে জাটকা আহরণের দায়ে ৬ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে দুটি মাছধরা নৌকা জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে নদীর বিভিন্ন স্থানে মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া প্রায় ৯০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল উদ্ধার করে মৎস্য আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।আটককৃত জেলেরা হলেন, মহসীন (৪৬), মো. রনি জম্মাদার (২৩), মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন (২৬), মো. রিপন (২১), মো. রাসেল ওরফে ফয়সাল (২৩) এবং মো. জনি জমাদ্দার (২০)। নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।ফাঁড়ি সূত্র জানায়, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষিত জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার নদীপথে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মোহনপুর, বাহাদুরপুর, ষাটনল, বাহেরচর, এখলাছপুর ও চরওমেদসহ গুরুত্বপূর্ণ মাছ আহরণ এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও অন্যান্য অবৈধ জাল ব্যবহার করে জাটকা শিকারের দায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ আলী বলেন, জাটকা আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ ইলিশ উৎপাদনের মূল ভিত্তি। আজকের জাটকা রক্ষা করতে পারলে আগামী দিনে ইলিশ উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও জানান, শুধু আইন প্রয়োগ নয় জেলে ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। হাট-বাজার, মাছ আড়ৎ ও লঞ্চঘাট এলাকায় সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন, লিফলেট বিতরণ এবং জেলে পল্লীতে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জাটকা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের প্রদত্ত প্রণোদনা, বিকল্প কর্মসংস্থান ও আইনগত বিধান সম্পর্কেও জেলেদের অবহিত করা হচ্ছে।
৩ ঘন্টা আগে
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পরীনগর সুইপার কলোনী এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে তিনজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, চোলাই মদ ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।বুধবার (৪ মার্চ) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, মৌলভীবাজারের ‘ক’ ও ‘খ’ সার্কেলের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিদর্শক অমর কুমার সেন ও পরিদর্শক মাসুদুর রহমান তালুকদার।অভিযানে ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৮ লিটার চোলাই মদ এবং নগদ ৯১ হাজার ১৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মিঠুন ভাস্পর (৩৭), রপিন ভাস্পর (৩৫) ও বাবু দাশ (৩৫)। এ ঘটনায় বিকাশ ভাস্পর (২৪) নামে আরও একজন পলাতক রয়েছেন।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মিঠুন ভাস্পর ও বাবু দাশ দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা সংগ্রহ করে কুলাউড়া থানার বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেন। অপরদিকে রপিন ভাস্পর জুড়ী উপজেলার ফুলতলা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে কুলাউড়া ও আশপাশের উপজেলায় সরবরাহ করতেন।আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট মাদক নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।”গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী কুলাউড়া থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
৩ ঘন্টা আগে