যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বিনম্র শ্রদ্ধায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদার এবং টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে উপজেলা বজ্রকণ্ঠ হলরুমে ‘২৫ মার্চের ভয়াল কালো রাত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৯৭১ সালের এই রাতে জাতির বিবেক বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো নির্মম হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস তুলে ধরা হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম জানান, ২৫ মার্চের গণহত্যার ভয়াবহ ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে আজ।আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন টুঙ্গিপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইকরাম শেখ, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদার এবং টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আইয়ুব আলী। বক্তারা ২৫ মার্চের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানান।
১ ঘন্টা আগে
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আব্দুর রহিম নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং সাইফুল ইসলাম মানিক নামে এক যুবককে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে আফজাল রোডের মুখে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া ও শেখপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত সোমবার (২৩ মার্চ) থেকেই উত্তেজনা চলছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার রাতে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেওপাড়া গ্রামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন হত্যা ও অস্ত্র মামলার আসামি রাকিব পাটওয়ারী এবং শেখপুর গ্রামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মিতুল।সংঘর্ষ চলাকালীন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন গাছ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম। অন্যদিকে, মানিক নামে এক যুবককে লোহার চেইন দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সালাম সৌরভ জানান, গুলিবিদ্ধ রহিমের অবস্থা বিবেচনায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মানিককে সদর হাসপাতালেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, আধিপত্য বিস্তার ও একটি সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
২ ঘন্টা আগে
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে আহত মাদরাসা শিক্ষার্থী মো. মতিউর রহমান মোল্লার (২৫) বাড়ি পরিদর্শন করেছে পুলিশের বোমা ডিসপোজাল টিম। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে আসা টিমটি উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের নিলফা বাজার এলাকায় তার বাড়িতে পৌঁছে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।দুপুর ২টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করে টিমের সদস্যরা বিস্ফোরিত বোমার আলামত জব্দ করেন। এ সময় একটি অবিস্ফোরিত ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করা হয়।টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, নিলফা গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদের ছেলে মতিউর রহমান মোল্লা দেড় মাস আগে প্রথম ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক তৈরি করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেন্নাবাড়ি মাদরাসার পাশে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর গত ২২ মার্চ নিজ গ্রামের বাড়ির পাশেও একই ধরনের বিস্ফোরণ ঘটায়। সর্বশেষ ২৩ মার্চ বাড়িতে বসে আরও একটি বিস্ফোরক তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটলে তার হাত-পা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়।তিনি আরও জানান, আহত মতিউরকে প্রথমে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।উল্লেখ্য, ঈদের ছুটিতে মাদরাসা বন্ধ থাকায় মতিউর নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
১৬ ঘন্টা আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দ্বীন ইসলাম (নাম নিশ্চিত) নামে এক তরুণ সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।নিহত দ্বীন ইসলাম কসবা উপজেলার শিমরাইল গ্রামের মধ্যপাড়ার শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে অনলাইনভিত্তিক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।এ ঘটনায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।বিএমএসএফ নেতারা বলেন, “এভাবে একজন সাংবাদিককে পিটিয়ে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনা গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজকে নাড়া দিয়েছে।”বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিহত দ্বীন ইসলাম তার পরিচালিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি কিছুদিন কুমিল্লা শহরে বসবাস করছিলেন এবং ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসেছিলেন।সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, পূর্ব শত্রুতার সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তারা দ্রুত সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
১৭ ঘন্টা আগে