রোভার স্কাউট গ্রুপের দুটি দল গাজীপুর থেকে ১৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পরিভ্রমণ কর্মসূচি শুরু করেছে। এ কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া ৫ দিনের হেঁটে ভ্রমন কর্মসূচি ফুলবাড়িয়া, মির্জাপুর হয়ে শেষ হবে মানিকগঞ্জের শিবালয় গিয়ে। অংশগ্রহণকারী মৌচাক মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্য আফরিক আহাম্মেদ নিলয়, এবং রাজবাড়ী সরকারি কলেজ এর সাইফুল ইসলাম নয়ন, মো. আল সানিয়াত ইসলাম আলফি। মৌচাক মুক্ত গার্ল-ইন রোভার সদস্যরা হলেন, কবিতা আক্তার। নুসরাত জাহান নিহা ও মেরিনা সুলতানা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে হেঁটে পরিভ্রমণের উদ্বোধন করে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মো. সোহেল রানা। পরিভ্রমণকালে স্কাউট সদস্যরা ডিসি অফিস, সরকারি, বেসরকারি কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভ্রমণ করবেন ও ডাক বাংলোতে যাত্রা বিরতি ও রাত্রিযাপন করবেন।রোভাররা পরিভ্রমণের পাশাপাশি চলতি পথে প্লাস্টিক বর্জন , বায়ুদূষণ, মাদক রোধ, বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখা, ডেঙ্গু রোধে সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। মৌচাক মুক্ত স্কাউট গ্রুপের টিম রোভার স্কাউট লিডার নাজমুল হোসেন বলেন, মানুষের মধ্যে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি রোভারিংয়ের সর্বোচ্চ সম্মান প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের একটি ধাপ হলো ‘পরিভ্রমণকারী ব্যাজ’। এটি অর্জনের জন্য রোভারদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করতে হয়। তবে, এই পরিভ্রমণের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ব্যাজ অর্জন নয়। এটি রোভারদের শারীরিক সক্ষমতা, ধৈর্য এবং একতার নিদর্শন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অংশ গ্রহণকারী স্কাউট সদস্যরা বলেছেন, পথে পথে তারা বাল্য বিবাহ, মাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিভ্রমণ করবেন। কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সর্বোচ্চ প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করতে চাইছেন তারা গাজীপুর থেকে অংশগ্রহণকারী স্কাউট সদস্যদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় আবাসানের জন্য স্কাউটদের রোভার স্কাউট লিডারের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
১ ঘন্টা আগে
বাগেরহাটের রামপালে সরকারি খালের ওপর নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে খালের পানি চলাচল স্বাভাবিক করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার সকালে রামপাল উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়নের চন্ডিতলা খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়।রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে খালের মাঝে বাঁধ টি কেটে অপসারণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামের নির্দেশনায় এ অভিযানটি পরিচালিত হয় বলে প্রশাসন জানিয়েছে।বাঁধ অপসারণের পর খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।সরকারি খাল, নদী ও জলাশয়ে অবৈধ দখল বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
২ ঘন্টা আগে
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন ও ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার দীর্ঘদিন পরও এখনো নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনক্রমে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং শনাক্তকারীর স্বাক্ষরকৃত নথি থাকা সত্ত্বেও অনেক সেবা গ্রহীতাকে অফিসে ডেকে এনে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা, ভয়ভীতি দেখানো এবং টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিলিট করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ মার্চ তারা ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান করেন। পরে নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসু তাদের মোবাইল ফোনে ডেকে অফিসে নিয়ে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা আটকে রাখেন এবং পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাদের স্লিপ নম্বর নিয়ে ভোটার ফিঙ্গার ডিলিট করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।যাদের ভোটার ফিঙ্গার ডিলিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন আলহাজ শেখ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৫৯৩৯৫), মাহিম শেখ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৫৯৩৯৩), আবু মুসা শেখ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৫৯৩৯৬), মো. নাইম শেখ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৫৯৩৯৪) এবং মো. আনিচ শরীফ (ফরম নম্বর: ১৫৭১৩০৭৭০)।ভুক্তভোগী আনিচ শরীফ জানান, ২০২৫ সালে তিনি হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটার হন। দুই মাস পর নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসুর কাছে গেলে তিনি স্লিপ দেখে বলেন, “এই ফিঙ্গার হবে না, বাইরের জন্ম সনদ করা।” পরে তাকে আবার নতুন করে ভোটার আবেদন করতে বলা হয়।তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে গেলে তাকে জানানো হয় তার জন্ম নিবন্ধন অন্য এলাকা থেকে হওয়ায় তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ভোটার হতে পারবেন না। এ সময় তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা অফিসে আটকে রাখা হয় এবং পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে তার মা তাকে ছাড়াতে অফিসে এলে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, নির্বাচন অফিসের কিছু দালাল ও অসাধু কর্মচারীদের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে বাইরের জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে নতুন ভোটার তৈরি করা হচ্ছে। অথচ সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেককে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার বসু কোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আমি কোনো ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে বাধ্য নই। আমার যদি ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে হয়, তবে অনুমতি লাগবে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।”এদিকে অভিযোগ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ্যে আসার পরও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
৩ ঘন্টা আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খানের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।সময়মতো অফিসে না আসা, অনুমতি ছাড়াই আগেভাগে দপ্তর ত্যাগ করা এবং নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার কারণে পৌরসভার নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পারিবারিক কারণে ৪ মে থেকে পৌর প্রশাসকের বরাবর লিখিত ছুটি নিয়েছেন তিনি। অথচ তিনি ২৯ এপ্রিল বুধবার উপস্থিত থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকেই নবীনগর পৌরসভায় অনুপস্থিত রয়েছেন। জানা যায়, অনুপস্থিত থাকলেও পৌরসভার বিভিন্ন কাগজপত্রে আগাম স্বাক্ষর করে রাখেন তিনি।৪ মে সোমবার নবীনগর পৌরসভায় গিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতির স্বাক্ষর দিতে হয় না। পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি ও সেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাঁরই। কিন্তু তিনি নিজেই নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকেন।এতে করে পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হন না। এমন পরিস্থিতি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কেউ দেরিতে আসেন, আবার কেউ দিন শেষে দায়িত্ব পালন না করেই আগেভাগে দপ্তর ত্যাগ করেন। ফলে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং তারা প্রকাশ্যেই ‘গণকর্মচারী শৃঙ্খলা (নিয়মিত উপস্থিতি) অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ অমান্য করছেন।অভিযোগ রয়েছে, এই অনিয়মের শীর্ষে রয়েছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খান নিজেই। প্রশাসনের শৃঙ্খলা রক্ষা ও দপ্তর ব্যবস্থাপনার প্রধান দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতি ও খেয়ালখুশিমতো অফিস করার অভিযোগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।সচেতন মহলের মতে, দায়িত্বশীলরা যখন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন, তখন পুরো প্রশাসনই বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হয়। নবীনগর পৌরসভার সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করেও দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনস্বার্থ রক্ষায় এই অনিয়মের দ্রুত তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দপ্তরের শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।পৌরসভায় অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলজুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মাহামুদুর রহমান চ্যানেল এস'কে বলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন। সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়মিত অফিস করা প্রয়োজন। আগাম ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩ ঘন্টা আগে