ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০১:৫৫:০৫
ছাতকে গরু চুরির অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও ভাঙচুর
সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নএর দক্ষিণ কুর্শি গ্রামে গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরের দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কুর্শি গ্রামের চুরের বাড়িঘর ভা'ঙ'চু'র করেছে। জানা যায়,দক্ষিণ কুর্শি গ্রামের আব্দুল খালিকের পুত্র আলী হোসেনের বাড়িঘর ভা'ঙ'চু'র করা হয়েছে।
কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে গরু চুরিসহ বিভিন্ন চুরির অভিযোগ করে আসছিলেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে হঠাৎ করে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ঘরের আসবাবপত্র, টিনশেড, বেড়া ও গৃহস্থালির বিভিন্ন মালামাল নষ্ট করা হয়। এ সময় নারী ও শিশুর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে আহতদের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি এলাকায় ও অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ জনতার ক্ষোভকে ন্যায্য বলে মন্তব্য করলেও সচেতন মহল আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত বৈঠক করে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সহিংসতার রূপ নেয়।
এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার হওয়াই উচিত। সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
হাওরাঞ্চলসহ গ্রামীণ জনপদে চুরি বা অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনেক সময় জনতার ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং নিরীহ মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন।