নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০২৬ সকাল ১১:৩২:২১
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের ‘ঝুঁকি বিমা’ ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষা ও সাশ্রয়ী বিমা সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৩ মার্চ মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প
জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে ‘জ্বালানির অবাধ প্রবাহ’ নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকার সমস্ত শিপিং
কোম্পানিকে ‘খুবই সাশ্রয়ী মূল্যে’
ঝুঁকি বিমা প্রদান করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই আশ্বাস কোম্পানিগুলোর উদ্বেগ
কাটানোর জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায়
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলেন।
এর আগে ২ মার্চ ইরানের একজন কর্মকর্তা হরমুজ প্রণালী দিয়ে
যাওয়ার চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজে ‘আগুন লাগিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। দেশটির
সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় বেশ কিছু জাহাজে গুলি চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে কিছু
বিমা কোম্পানি ওই অঞ্চলের জাহাজের জন্য বিমার প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিয়েছে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পারস্য
উপসাগরে প্রায় ২০০টি অপরিশোধিত তেল ও পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার আটকা পড়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউনাইটেড স্টেটস ডেভেলপমেন্ট
ফিন্যান্স করপোরেশনকে (ডিএফসি) উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য, বিশেষ
করে জ্বালানি পণ্যের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে রাজনৈতিক ঝুঁকি বিমা ও গ্যারান্টি
দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সামরিক প্রহরা বা এসকর্ট
প্রদান করা হবে। জ্বালানি বিষয়ক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য জ্বালানি সচিব ক্রিস
রাইট এবং ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের কথা ছিল।
তবে শিপিং জার্নাল লয়েডস লিস্টের এডিটর-ইন-চীফ রিচার্ড
মিড বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সরবরাহ সংকট সৃষ্টিকারী নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো কতটা
সমাধান করতে পারবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। লোহিত সাগরে হুতিদের হামলার সময় মার্কিন সামরিক
হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও অনেক শিপিং কোম্পানি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ বেছে নিয়েছিল। শুধুমাত্র
বিমা থাকলেই যে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করবে এমন নয়। এমনকি নৌবাহিনীর পাহারা
থাকলেও আপনি পুরোপুরি নিরাপদ এমনটা বলা যায় না।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে
অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার (প্রায় ১২ হাজার ২৩৫ টাকা) ছাড়িয়ে যেতে
পারে। এতে পেট্রোলের দামের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে অভ্যন্তরীণ
উৎপাদন সাধারণত বৈশ্বিক দামের প্রভাব কিছুটা কমিয়ে রাখে।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প
এই যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ইরানি শাসনের বিষয়ে ‘কিছু একটা করার প্রয়োজন ছিল।’ তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের
প্রভাবে ‘সামান্য সময়ের জন্য’
তেলের দাম বাড়তে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেননি। ডোনাল্ড
ট্রাম্প বলেন, এই পরিস্থিতি শেষ হওয়া মাত্রই দাম কমে যাবে, আমার বিশ্বাস আগের চেয়েও
নিচে নেমে আসবে।