বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৮:১০:৫৮
চাঁদা না পেয়ে বগুড়ায় তেলের দোকানে আগুন, ৩ বাড়িসহ পুড়ল ৪ প্রতিষ্ঠান
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জ্বালানি তেলের দোকানে আগুন লেগে আট হাজার লিটার তেল, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অটোরিকশার শোরুম ও তিনটি বাড়ি পুড়ে গেছে। এতে ৩০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকানটির মালিক। তাঁর অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোরগাছা বাজারে চাঁদের আলো ফিলিং স্টেশনে এ আগুন লাগে। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাত সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ও ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুহিদুল ইসলামের ভাষ্য, ঘটনার সময় হেলমেট পরা এক যুবক মোটরসাইকেলে এসে দুই লিটার পেট্রল কেনেন। এক হাজার টাকার নোট ভাঙাতে কর্মচারী ক্যাশ কাউন্টারে যাওয়ার পরপরই তেলের ড্রামে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের প্রতিষ্ঠান ও তিনটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই মোটরসাইকেল আরোহীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মুহিদুলের অভিযোগ, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। চার মাস আগে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সুবল উদ্দিন তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। গত মাসে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী হাসনাত নামের এক ব্যক্তিও মেসেঞ্জারে তাঁকে হুমকি দেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তাঁর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে সিয়াম হাসানকে মারধর করে হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মুহিদুল। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলে তাঁর সন্দেহ। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুবল উদ্দিন তিন মাস ধরে একটি হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
বুধবার ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থাপনাগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। মুহিদুলের দাবি, তেলের পাশাপাশি সেখানে কয়েকটি গ্যাস সিলিন্ডারও ছিল। অটোরিকশার শোরুমে থাকা পাঁচটি নতুন অটোরিকশা ও ৫৫টি ব্যাটারি পুড়ে গেছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কম্পিউটার ও আসবাবপত্রও আগুনে নষ্ট হয়েছে।
মুহিদুল জানান, ফিলিং স্টেশনটির বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন ছিল না। তবে ফায়ার সার্ভিস ও জেলা পরিষদের অনুমোদন ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রফিকুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেখানে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডারও বিক্রি করা হতো। ফায়ার সার্ভিস এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয় না; অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব বিস্ফোরক পরিদপ্তরের। প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়াই জ্বালানি তেল বিক্রি করছিল।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে মুহিদুলের এক কর্মচারী হিসাব বুঝিয়ে না দিয়ে চাকরি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, অনুমোদনহীন জ্বালানি তেলের দোকানে আগুন লাগার খবর তিনি পেয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।