নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৪:৩৮:০৪
সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে সাড়ে ১৪ হাজার যাত্রী
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামায় বিধিনিষেধের কারণে এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ৮৯টি ফ্লাইট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৪ হাজার ৬৫৫ জন যাত্রী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিষয়টি জানিয়েছে।
বেবিচক জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিধিনিষেধের কারণে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের মোট ৮৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে মোট ১৪ হাজার ৬৫৫ জন যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৩৯টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৫০টি।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
তবে ফ্লাইটগুলো কত সময়ের জন্য বাতিল এবং কখন সেগুলো রওনা হবে, সে সম্পর্কে এখনো জানানো হয়নি।
এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে ১২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। এছাড়া হামলায় বাংলাদেশিসহ আহত হন আরও অন্তত ৩০৯ জন।
সর্বশেষ গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে ফের ওই বিমানবন্দরে হামলা চালায় হুতি। এ ঘটনায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আহত হন ১১ জন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত পাঁচবার হামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক পাইলটসহ তিন সৌদির নাগরিক নিহত হন।
হুথিরা ওই দিন বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকেও টার্গেট করে হামলা চালায়। এতে ওই পাইলটের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। হুতিরা এক্ষেত্রে রিয়াদ বিমানবন্দরকে সবচেয়ে বড় টার্গেটে পরিণত করেছে।
তারা এর আগে সতর্কতা দিয়েছিল, যদি কোনো বিমানসংস্থা সৌদির আকাশ দিয়ে বিমান চালায় তাহলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। সেই হুমকির পরই রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা চালানো হয়।
ওই হামলার পরই রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা স্থগিত রাখা হয়। সেই বিধিনিষেধ এখনো চলমান। যার জেরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ছয় শতাধিক ফ্লাইট ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে।