৫ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি, ফলন পেলে আয় হতো ১৫ লাখ • থানায় অভিযোগ, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশের
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৩:৩৯:৫৩
ধুনটে মরিচের ক্ষেত তছনছ, কৃষকের আহাজারি
বগুড়ার ধুনটে পূর্ববিরোধের জেরে কৃষকের মরিচের ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তাঁদের দাবি, ক্ষেতের মরিচ বাজারজাত করতে পারলে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় হতো। ফসল হারিয়ে এখন সংসার চালানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা। এ ঘটনায় ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার একটি আবাদি জমিতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৩৬ শতক জমিতে লাগানো মরিচের চারা উপড়ে ফেলে নষ্ট করা হয়। এ ঘটনায় মো. সাজ্জাদুল ইসলাম, মো. হাদি ও তাঁদের সহযোগীদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
‘এখন আমি কীভাবে খাব?’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা। তাঁদের চোখেমুখে হতাশা, কণ্ঠে কান্না। ভুক্তভোগী সুকুর মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘এটুকুই আমার সম্বল। এর বাইরে আমার কোনো জমি নেই। কৃষিকাজ করেই খাই। জমানো সব টাকা দিয়ে মরিচের আবাদ করেছিলাম। আর কয়েক দিন পরই মরিচ বাজারে বিক্রি করতাম। এখন আমি কীভাবে খাব?’
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মরিচের ক্ষেতই ছিল তাঁদের আয়ের প্রধান অবলম্বন। ফসল বিক্রির অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁদের সেই আশা ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচজন কৃষক এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় এক নারী বলেন, কৃষকের ফসল নষ্ট করা অন্যায়। ভুক্তভোগীরা কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল এবং তাঁদের অবস্থা খুবই অসহায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা উচিত।
আগেও ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে তবিবর রহমান উল্লেখ করেন, তাঁরা নিজ নিজ জমিতে মরিচ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও ক্ষতি করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এর আগেও তাঁদের মরিচের ক্ষেত নষ্ট করা হয়েছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এবার তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
এ বিষয়ে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে তাঁরা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে, অভিযুক্তরা তাঁদের বিরুদ্ধে আনা এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। তবে ফসল নষ্টের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি নিরূপণ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।