নিবন্ধন ও ফিটনেসে অনিয়মের অভিযোগ, সংগঠনের নামে টাকা আদায়ের দাবি; কার্যকর তদারকির অভাব
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২:২৭:১৬
বগুড়ায় ‘মান্থলি’ দিয়ে চলছে অনিবন্ধিত অটোরিকশা!
বগুড়ার সড়কে অবাধে চলাচল করছে নিবন্ধন ও ফিটনেসের কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকা অটোরিকশা। এসব যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দিতে মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা। তাঁদের ভাষায়, এই টাকা ‘মান্থলি’। মোটর শ্রমিক সংগঠনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে মামলা ও পুলিশের হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন চালকরা।
চালকদের অভিযোগ, নিবন্ধন না থাকলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলে সড়কে চলাচলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় না। ফলে নিবন্ধন, ফিটনেস ও নবায়নসংক্রান্ত নিয়মকানুন উপেক্ষা করে অনেক অটোরিকশা চলাচল করছে। তবে টাকা আদায়ের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
ধুনটের বাসিন্দা শামীম বগুড়া শহরে অটোরিকশা চালান। তাঁর ভাষ্য, তিন বছর আগে একজনের কাছ থেকে নম্বরসহ একটি অটোরিকশা কিনেছেন তিনি। তবে গাড়িটিতে ডিজিটাল নম্বর প্লেট নেই। তাঁর মতো অনেক চালকের অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বর, ফিটনেস ও নবায়নসংক্রান্ত কাগজপত্র হালনাগাদ নেই বলে জানা গেছে।
বগুড়া জেলা সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক মঞ্জু বলেন, নিবন্ধনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক চোরাই অটোরিকশা জেলায় ঢুকে পড়ছে। নিবন্ধন কার্যক্রম চালু থাকলে অনিবন্ধিত যানবাহন শনাক্ত করা এবং সড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতো। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি চেইন মাস্টারদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, অনিবন্ধিত ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বগুড়া জেলা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ জানান, জেলায় নিবন্ধিত ৭ হাজার ৭৫৮টি অটোরিকশা রয়েছে। এর অধিকাংশেরই ফিটনেস হালনাগাদ নেই। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং এসব অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত থাকেন।
তবে অভিযান চলার পরও সড়কে অনিয়ম বন্ধ না হওয়ার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নিবন্ধিত যানবাহনের ফিটনেস হালনাগাদ না থাকা এবং অনিবন্ধিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অটোরিকশা মালিকদের মতে, নিবন্ধন ও ফিটনেস হালনাগাদ না থাকলে যানবাহনের মালিকানা, কারিগরি সক্ষমতা এবং আইনগত বৈধতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে নিবন্ধন কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং সংগঠনের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বগুড়া পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. আতোয়ার রহমান বলেন, জেলায় প্রয়োজনের তুলনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেশি। পুলিশ এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য অটোরিকশার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নিবন্ধন কার্যক্রম কার্যকর করা, চলাচলকারী অটোরিকশার তথ্য যাচাই, ফিটনেস ও নবায়ন নিশ্চিত করা এবং ‘মান্থলি’ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করা জরুরি। পাশাপাশি বিআরটিএ, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে প্রতিটি অটোরিকশার আইনগত অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।