শামীম আহমেদ, মতলব প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৬:৩১:৩৬
কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, মায়ের মামলায় আদালতে স্বামী
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে তিন সন্তানের জননী হাসনেহেনা আক্তারের (৩০) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী ছেংগারচর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. শাহাবুদ্দিনের (৪৬) বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন নিহতের মা আছিয়া বেগম। রোববার (১৮ অক্টোবর) তিনি মতলব উত্তর থানায় মামলাটি করেন। পরে অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষককে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের জামতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে হাসনেহেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী শাহাবুদ্দিনকে থানায় নেওয়া হয়েছিল।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অন্য এক নারীর সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে হাসনেহেনা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
নিহত হাসনেহেনা ও শাহাবুদ্দিন দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মোহনপুর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা গ্রামের কেয়া আক্তার ইভার সঙ্গে শাহাবুদ্দিনের সম্পর্ক নিয়ে তাদের সংসারে বিরোধ দেখা দেয়।
নিহতের খালা সালমা বেগম বলেন, তার ভাগনি অত্যন্ত মেধাবী ও ধৈর্যশীল ছিলেন। স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তাঁরা শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিষয়টির সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে তিন সন্তানের জননী হাসনেহেনার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরিবারের অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটনে তদন্তের ফলাফল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিহতের মা আছিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তিনি মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।