স্বল্প খরচে বিঘাপ্রতি পাঁচ মণ ফলনের আশা
রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ০৮:৫৭:৩৩
বাদামের সোনালী আসে স্বপ্ন বুনছেন দিগন্ত ভরা কৃষক
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরে চিনাবাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে শুরু হয়েছে জমি প্রস্তুত ও বীজ বপনের কাজ। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও লাভের আশায় কৃষকেরা বেছে নিচ্ছেন চিনাবাদাম চাষ। তবে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে অনাবাদি পড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ চরজমি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনার তীরবর্তী চরাঞ্চলে কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ সারি করে বীজ বপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন অনেক কৃষক। বালুময় জমিতে অন্য ফসল চাষ কঠিন হলেও চিনাবাদাম চাষের মাধ্যমে জীবিকার নতুন পথ খুঁজছেন তাঁরা।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, চরের ওপরের স্তরে বালুর আধিক্য থাকায় সব ধরনের ফসল ভালো হয় না। এ কারণে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে এসব জমিতে চিনাবাদাম চাষ করা হয়। কাঁচা বাদামের খোসা থেকে বীজ সংগ্রহ করে লাঙল দিয়ে তৈরি করা সারিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করা হয়। এরপর বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তুলনামূলক কম পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে বাদামগাছ।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ মণ। গত বছর প্রতি মণ বাদাম পাঁচ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে বিঘাপ্রতি পাঁচ মণ ফলন হলে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিলে অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার আগে সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ২২ হাজার টাকা। তবে ফলন ও বাজারদরের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করে।
এদিকে ধুনটের বৈশাখি, রাধানগর, নিউসারিয়াকান্দি, বতুয়ারভিটা ও পুকুরিয়া চরে বালুর আস্তরণ পড়া শত শত বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। এসব জমিতে পরিকল্পিতভাবে চিনাবাদাম চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হতে পারে কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা চরাঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ, উন্নত বীজ সরবরাহ, চাষাবাদবিষয়ক পরামর্শ এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, বেলে-দোআঁশ মাটি চিনাবাদাম চাষের জন্য উপযোগী। চরাঞ্চলের মাটিও এ ফসল চাষের উপযুক্ত। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং সার ও সেচের প্রয়োজনও কম হওয়ায় কৃষকেরা চিনাবাদাম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
যমুনার বালুচরে চিনাবাদাম চাষের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে অনাবাদি জমি উৎপাদনের আওতায় আসবে, বাড়বে কৃষকের আয়। যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে চরাঞ্চলের বালুময় জমিই হয়ে উঠতে পারে কৃষকের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন ভিত্তি।