নিজ কার্যালয়ে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উদ্ধার করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে তাকে বের করে আনা হয়।সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন নতুন উপাচার্য। তার সঙ্গে আরও ১০ জন সেখানে অবরুদ্ধ ছিল। উপাচার্যের সঙ্গে তারাও ক্যাম্পাস ছাড়েন।ডিসি জাহিদুল ও এসপি মাসুদ আলম শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাবিগুলো সরকারকে জানাব। উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অসুস্থবোধ করছেন। আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাব।’
১ দিন আগে
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় ‘এক বা দুই বিষয়ে’ অকৃতকার্য হলে শিক্ষার্থীদের দ্রুতই আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৫১ জন কর্মকর্তার ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘ফেল করার ধারাবাহিকতা বছরের পর বছর চলতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষা নেওয়া বা কালক্ষেপণের সুযোগ রাখবে না সরকার।’তিনি বলেন, ‘যারা সাধারণ শিক্ষায় এগোতে পারবে না, তাদের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় নেওয়া হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সরকার বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে খেলাধুলা শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়েও খেলাধুলা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। পড়ালেখা ও খেলাধুলার সমন্বয়ে বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. সরদার কেরামত আলী। এতে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ ও শিক্ষামন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী।
১ দিন আগে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা দেওয়ায় তিনি ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত তিনি ভবন থেকে বের হতে পারেননি।তালা দেওয়ার পাশাপাশি উপাচার্য ভবনের পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, নতুন উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ফটকের তালা খোলা হবে না। এদিকে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি পালন করছেন।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, আমরা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় আছি। আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। গতকালের রাতটিও আমাদের খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। রাত ২টায় পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, সেটিই আমরা খেয়েছিলাম। আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা, তাই রাতে ঘুমাইনি। এ রকম অনেকেরই অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমি এই মুহূর্তে কথা বলার পরিস্থিতিতে নেই। প্রশাসন আসুক, তারপর হয়তো কথা বলতে পারব। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ উপাচার্য ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নাশতা পাঠান। এর আগে সকালে এক দফায় তাদের জন্য নাশতা পাঠানো হয়েছিল।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতা, কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে দীর্ঘ ২১ দিন পর নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবিলম্বে চুয়েট ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের ফটকে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।যদিও গতকাল বিকেল ৫টার দিকে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান, তবে ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা। দিনভর উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিয়ে তাকে প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনকারীরা।একপর্যায়ে শেখ শরীফুল আলম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলে তারা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি’ ও ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি আমার না’ -এমন নানা স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।সোমবার দিনগত রাত ২টার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের কঠোর পাহারার মধ্যে চুয়েটের চিকিৎসকেরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বলেন, তিনি যে এভাবে আসবেন, আমরা ভাবিনি। আমরা আমাদের অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। উনি তো খুব বলতেন, ওনার সঙ্গে অনেক শিক্ষক আছে, ছাত্র আছে। এখন তারা তাকে সাহায্য করুক।গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাতকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ‘কর্মবিরতি’ পালন করে আসছেন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য।
১ দিন আগে
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে এই ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, চলতি মাসের ২৫ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে যেকোনো এক দিন ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে, ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়ার পর।এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই, শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে তাদের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি।সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল। এ বোর্ডের ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয় ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী। সেইসঙ্গে রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয় এবারের এইচএসসিতে।এছাড়া, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় এ পরীক্ষায়।
২ দিন আগে