এ সময়ের তরুণ কবিদের মধ্যে পরিচিত ও আলোচিত মুখ কবি মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন। শুক্রবার (৫ জুন) এই কবিকে ঘিরে রাজধানীতে কবিতা আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দিন রাজধানীর ফার্মগেটে অন্যধারা সাহিত্য সংসদের ৪৫৩ নং আড্ডার সভাকবি হন তিনি। কবি সৈয়দ রনোর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশির দশকের শক্তিমান কবি শাহীন রেজা। উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন ছড়াকার আতিক হেলাল ও সভাপতিত্ব করেন কবি ইব্রাহিম ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি শাহীন রেজা বলেন, কবি কুতুবউদ্দিন আধ্যাত্মিকতার মোড়কে একজন মানবতার কবি। তার সৃষ্টিশীল ও সমকালীন কবিতায় আমরা তাই খুঁজে পাই। তিনি আরও বলেন, একজন কবি যেই সময়েই বাস করেন না কেন প্রত্যেক কবিকেই দ্রোহ ও মানবতার সিঁড়ি দিয়েই কবিতার সড়ক নির্মাণ করতে হয়, কুতুবউদ্দিন সেই দিকটি ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন । ইতোমধ্যে কুতুবুদ্দিনের কবিতা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সাবলীলভাবে পৌঁছে যাচ্ছে। তিনি তার অনুজপ্রতিম কবি কুতুবউদ্দিনকে তার স্নেহধন্য ও শুভকামনা নিবেদন করেন। কবি সৈয়দ রনো বলেন, একজন কবি কতটা ভালো লেখেন, কতটা সময়কে রপ্ত করে তার লেখনী শিল্পকে তরান্বিত করে মানবতার মানচিত্র রচনা করছেন তা আজ কবি কুতুবউদ্দিনের কবিতা শুনে ও পড়ে অবগাহন ও ঋদ্ধ হলাম।তিনি আরও বলেন, আজ আড্ডার মধ্যমণি হিসেবে না পেলে আজকের কবি কুতুবউদ্দিনকে চেনাই হতো না। এই কবিকে আজ আড্ডার মধ্যমণি করতে পেরে 'অন্যধারা সাহিত্য সংসদ' স্বার্থক ও অভিভূত । এ সময় আরও বক্তব্য ও স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি মোজাফফর, কবি আব্দুল মজিদ, কবি হাসান কামরুল, কবি লিলিশেঠ, কবি কল্যাণ চক্রবতী, কবি সালেক, কবি রকিব লিখিন, কবি আবুল খায়ের, কবি সাবিনা ইয়াসমিন, কবি সুমন রায়হান, অ্যাডভোকেট তওফিক, কবি আতিকুজ্জমান রামেন ও দেশের পঞ্চাশোর্ধ্ব দেশবরেণ্য কবি ও লেখকগণ।অনুষ্ঠান শেষে কবি কুতুবউদ্দিনকে অন্যধারা সাহিত্য সংসদ- এর পক্ষ থেকে একটি সম্মাননা স্বারক দেওয়া হয়।
৩ দিন আগে
দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বারাকাহ ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের কর্মময় জীবন ও অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে বারাকাহ ফাউন্ডেশন।বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ জীবদ্দশায় বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নাগরিক সমাজের একজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সবসময় ন্যায়, সততা ও জনকল্যাণের পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন।স্মারক গ্রন্থটিকে তথ্যবহুল ও সমৃদ্ধ করতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত তার ভক্ত-অনুরাগী, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও গুণগ্রাহীদের কাছ থেকে লেখা, স্মৃতিচারণ, মূল্যবান তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের আলোকচিত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত লেখা ও উপকরণ থেকে নির্বাচিত বিষয়বস্তু স্মারক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।এ লক্ষ্যে স্মারক গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশনার জন্য ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।আগ্রহীদের আগামী ৯ জুনের মধ্যে লেখা, ছবি ও তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।ঠিকানা: দি বারাকাহ ফাউন্ডেশন, ১৮ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণী, মগবাজার রেলগেট, ঢাকা-১২১৭।ই-মেইল: barakahfoundation@gmail.comহোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: ০১৩২১ ১৪৩৫২৮ নম্বরে তথ্য পাঠাতে পারেন।তথ্য সমৃদ্ধ স্মারক গ্রন্থটি বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের অগণিত ভক্ত-অনুরাগীর জন্য প্রেরণা এবং ইতিহাসের উৎস হিসেবে কাজ করবে।
৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র বসবাস করা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আলো ছড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার লেখকের বই নিয়ে বিশেষ আয়োজন- ‘২য় নিউইয়র্ক ছোটদের বাংলা বইমেলা ২০২৬’। গত ৩০ মে (শনিবার) জ্যামাইকার ১৬৭-১৬ হিলসাইড এভিনিউয়ের ‘শাহী কিচেন’ মিলনায়তনে বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই মেলা চলে। মেলা প্রাঙ্গণকে মুখরিত রাখতে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল লেখক-পাঠক আড্ডা, মনোগ্রাহী গল্প বলা (স্টোরি টেলিং), ছড়া-কবিতা আবৃত্তি এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এবারের মেলার মূল আকর্ষণ ছিল চারজন জনপ্রিয় লেখক— কাজী জহিরুল ইসলাম, ডা. সজল আশফাক, আলম সিদ্দিকী এবং আশিক মুস্তাফা। শাহী কিচেনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলায় সপরিবারে অংশ নেন নিউইয়র্ক প্রবাসী বিপুলসংখ্যক বাঙালি ও সাহিত্যপ্রেমীরা।মেলায় অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আশিক মুস্তাফার নতুন বই ‘One Little Mother’-এর জমকালো মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে ৯০-এর দশকের ঐতিহ্যবাহী খেলনা ও বিভিন্ন ছবি সংবলিত বিশেষ পোস্টকার্ডের উন্মোচন ও প্রদর্শনী করা হয়, যা নতুন প্রজন্মের শিশুদের কাছে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করে। মেলাজুড়ে শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ছোট্ট সোনামণিরা গল্প বলা, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং বড়দের পাশাপাশি নিজেরাও বইয়ের পাতা উল্টে আনন্দ উপভোগ করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও লেখক কাজী শামীম আহমেদ। তিনি মেলার এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, 'এই বইমেলা আমাদের নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সাথে যুক্ত করার চমৎকার একটি মাধ্যম। আগামীতে এই বইমেলা আরও বড় পরিসরে নিশ্চয়ই অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সর্বোচ্চ সুচেষ্টা ও সহযোগিতা থাকবে।'মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজী জহিরুল ইসলাম এবং ফারহানাজ শারমিন খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, 'দেখতে দেখতে এই বইমেলা আজ দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করল। আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই আয়োজন যেন শুধু দ্বিতীয় বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আগামীতে এর পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। বড় আকারের এই আয়োজনে আমরা শিশুদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা বা ইনভলভমেন্ট আশা করি।'ফারহানাজ শারমিন খান মেলা নিয়ে তার ইতিবাচক অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, 'এবারের মেলায় চমৎকার কিছু ইংরেজি বই এসেছে। বাংলাদেশের চমৎকার সব বাংলা বই যেন আগামীতে আরও বেশি ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে এখানে আসে, আমরা সেই সাধুবাদ জানাই। এর ফলে এখানকার ইংরেজি মাধ্যমে বড় হওয়া ছেলেমেয়েরা এই বইগুলো সহজে পড়তে পারবে এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে।'অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মেলায় আমন্ত্রিত চার লেখক উপস্থিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং নিজেদের লেখা বই থেকে অংশবিশেষ পাঠ করে শোনান।সবশেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিল্পী ফিরোজ মিয়া ও শাহনেওয়াজ নজরুল সঙ্গীত এবং দেশাত্মবোধক বিভিন্ন কালজয়ী গানের সুরে সুরে মেলা প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হকরেন। রাত ১০টায় এই সফল ও আনন্দঘন মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মিলড্রেড এলির চেয়ারপারসন কাজী শামীমা আক্তার শিমুল। আর আনন্দঘন বিমেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন আফরোজা আখতার মুন্নি।
১ সপ্তাহ আগে
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে রাজধানীর পান্থপথে মাদল শস্যভাণ্ডারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল— “আমি তোমাদেরই লোক”।বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইদুজ্জামান রওশন, সাধারণ সম্পাদক শাকিল মাহবুব, নাটোর লালপুর বহুমাত্রিকের সভাপতি আরিফসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।অনুষ্ঠানের সূচনায় কবিতা আবৃত্তি করেন বহুমাত্রিকের সদস্য সুমিত পাল। এছাড়া আবৃত্তি পরিবেশন করেন লায়লা নারগিস পলি, শামিমা আক্তার মলি, আল নোমান ও ফৌজিয়া হিয়া।সংগীত পরিবেশন করেন শিশু শিল্পী বাংলা। আবৃত্তি করে যমজ দুই বোন আয়রা ও আয়জা। এছাড়াও গান পরিবেশন করেন ঢাকা কমিটির সভাপতি রোকেয়া ইয়াসমিন বর্ণা এবং প্রশিক্ষণ সম্পাদক অসীম রায়।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গানের সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি রওনক ফেরদৌস রাকা। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অতিথিদের সামনে কবিগুরুর গৌরবময় জীবন, সাহিত্যকর্ম ও দর্শন নিয়ে আলোচনা তুলে ধরেন শামিমা আক্তার মলি, আসমা সাদিয়া ও উর্বশী।অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” থেকে অংশবিশেষ পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সুইটি। এছাড়া “গীতাঞ্জলি” থেকে “আবার এসেছে আষাঢ়” আবৃত্তি করেন মোহতারিমা রহমান।আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে সাইদুজ্জামান রওশন বলেন, “রবীন্দ্রনাথ যেমন বলতে পেরেছেন— ‘আমি তোমাদেরই লোক’, বহুমাত্রিকের সদস্য হিসেবে আমরাও যেন সমাজের নানা কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে বলতে পারি— ‘আমি তোমাদেরই লোক’।”এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জুহি, মনিরা মনি, রাকা, উর্বশী, আলিসা, সহাগ বাবু, সাদিয়া, আকাশ, রিয়া, কাজল, মুকিত, নাওমি, মৌরি, বেলাল, রামিম, সুবিমল চাকমা, আশিক, আনন্দময়ী, দোলন ও সাথী।
১ মাস আগে