ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৫:৫৬
কৃষকের অধিকার ও শেকড়ের সন্ধানে ‘উন্মোচন’-এর আত্মপ্রকাশ
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে ভিন্নধর্মী আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘উন্মোচন’।
গত ১৪ এপ্রিল (১লা বৈশাখ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে “চাষা-ভূষার বৈশাখ উন্মোচন-১৪৩৩” শীর্ষক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান নগরকেন্দ্রিক সংস্কৃতির সঙ্গে কৃষকের বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি তুলে ধরেন। গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা আরিফ সোহেল বলেন, “উন্মোচন অর্থ ঢেকে রাখা বিষয়গুলো প্রকাশ করা। পহেলা বৈশাখের শহুরে যে প্রতিচ্ছবি, তা মূলত গ্রামবাংলার জীবন থেকে এসেছে। কিন্তু সেই জনগোষ্ঠীকে ঘিরে তেমন চর্চা হয় না। এই বিচ্ছিন্নতা দূর করতে উন্মোচনের এই আয়োজন প্রশংসনীয়।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন, “শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণি উৎসব উদযাপন করলেও আমরা আমাদের আদি পরিচয়—কৃষক—ভুলতে বসেছি। কৃষকদের সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে। ‘উন্মোচন’-এর মতো উদ্যোগ প্রমাণ করে, তরুণ প্রজন্ম এখনো কৃষকদের কথা ভাবছে।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ভূমি ও কৃষক আন্দোলন নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরের শোষণ ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে “ছাত্রলীগ হারাবে না, থাকবে লাখ লাখ দোকানদারের বাকির খাতায়” শিরোনামে একটি ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
কবি জসীমউদ্দিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, “পহেলা বৈশাখের আধুনিক আয়োজনের ভিড়েও ‘উন্মোচন’ বাংলার কৃষকের গুরুত্ব তুলে ধরছে। এই উৎসবের প্রাণই কৃষক। অথচ আধুনিক যুগেও তারা প্রযুক্তি, বাজার ও নীতিগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষক ও কৃষির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘সত্যকে নিরপেক্ষভাবে প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে তা প্রতিষ্ঠা করা’—এটিই ‘উন্মোচন’-এর মূল লক্ষ্য।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ মাজেদুর রহমান, তাপসী রাবেয়া, তরিকুল ইসলাম, তানজিনা তাম্মিম হাপসা এবং রেদওয়ান হোসেন মৃধাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এই আয়োজন বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল বিনোদন নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত সত্য তুলে ধরাই হবে ‘উন্মোচন’-এর আগামীর পথচলার মূল লক্ষ্য।