নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:১২:৪৫
রয়া চৌধুরীর উইমেনস ইনস্পিরেশনাল অ্যাওয়ার্ড অর্জন
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী রয়া চৌধুরী অর্জন করেছেন ফ্যাশন ম্যাগাজিন মিরর প্রদত্ত বাংলাদেশ উইমেনস ইনস্পিরেশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর আলোকিতে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে মিররের সম্পাদক শাহজাহান ভূঁইয়া রাজু তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন।
বাংলাদেশের নাম আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা এবং আবৃত্তি শিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি বহু তরুণীকে এই শিল্পচর্চায় অনুপ্রাণিত করার জন্যই তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। রয়া চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় অনেক তরুণী আবৃত্তির জগতে যুক্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকে এখন নিয়মিত মঞ্চে পারফর্ম করছেন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মঞ্চে আবৃত্তি পরিবেশন করে তারা পেশাগতভাবেও সফলতা অর্জন করছেন। ফলে আবৃত্তি শিল্প নারীদের আত্মপ্রকাশের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার এক নতুন ক্ষেত্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে—যার পেছনে রয়া চৌধুরীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
গত কয়েক বছরে তার কবিতা আবৃত্তি দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার আবৃত্তির ভিডিও লাখো মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং বাংলা ভাষার কবিতাকে নতুনভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। বাংলা ও দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ কাব্য-ঐতিহ্যকে ধারণ করে তিনি তার কণ্ঠের মাধ্যমে কবিতাকে পৌঁছে দিয়েছেন অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে।
তার আবৃত্তি অ্যালবাম ‘বেদনাদূতি’, ‘ইচ্ছামতী’ এবং ‘অভিসার’ শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এছাড়া গ্র্যামি জয়ী শিল্পী পণ্ডিত বিশ্ব মোহন ভট্ট–এর সঙ্গে তার যুগল পরিবেশনায় ‘গীতাঞ্জলি’ আবৃত্তি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
রয়া চৌধুরী আমেরিকার নিউ জার্সির ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপ থেকে সার্টিফিকেট অব রেকগনিশন , ভারতের ২১তম টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ডসহ পেয়েছেন বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ফেম অ্যাওয়ার্ড, বাইফা বেস্ট রেসিটেশন আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ চারদিকে সেলফ-রিলায়ান্ট অ্যাওয়ার্ড এবং বাংলাদেশ অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড।
একাডেমিক জীবনেও তিনি সফল। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে জেন্ডার স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শিল্পীজীবনে তিনি কাজ করেছেন সামিউল ইসলাম পোলাক, রাজা দাস, স্বপ্নীল সজীব, ফ্র্যাঙ্ক আর্টাভিয়া, মাহিদুল ইসলাম এবং আইভি বন্দ্যোপাধ্যায়–এর মতো নন্দিত শিল্পীদের সঙ্গে।
বর্তমানে তিনি রয়া ফাউন্ডেশন–এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।