নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৯:২৯:২৫
হাদি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ফের পেছাল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ আবারও পিছিয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মামলার প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে জমা দেওয়া হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঁঞা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চ। গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য নির্ধারিত থাকলেও মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
পরে নির্ধারিত দিনে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ও মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।
তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেল আহমেদকে গ্রেফতার করে। তাকে দুই দফায় ১২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা আততায়ীরা চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। একই বছরের ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজনের নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদসহ পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন।