গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় ছয় মাসের এক দুগ্ধপোষ্য শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এই অমানবিক পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।অভিযুক্ত মফিজুল হক মাসুদ (৫৯) গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার মান্ধুরা গ্রামের মৃত জমিরউদ্দীন শেখের ছেলে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবার একই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকতো। গতকাল দুপুরে অভিযুক্তের তিন বছরের মেয়ে শিশুটিকে কোলে নিয়ে তাদের রুমে যায়। রুমে যাওয়ার দশ মিনিট পর থেকেই শিশুটি অস্বাভাবিক চিৎকার করতে থাকে। পরে শিশুটির বাবা গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। কিন্তু কোনভাবেই শিশুটির চিৎকার না থামায় তাদের সন্দেহ হয়। তারা শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহৃ দেখতে পান। পরে রাতেই জিরানি বাজার এলাকায় অবস্থিত নাসিরউদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায় ওই শিশুকে। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন যে শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন আছে। রাতেও শিশুটি কান্নাকাটি করে এবং শরীরে জ্বর চলে আসে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, রাতেই আমরা অভিযুক্তের স্ত্রীকে বিষয়টি জানাই। কিন্তু তিনি প্রথমে বিশ্বাস করেননি। পরে আজকে সকাল ৯ টার দিকে অভিযুক্তের স্ত্রীসহ আমরা শিশুটিকে নিয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মোজিব মেমোরিয়াল কেপিজি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন যে শিশুটির যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন আছে।তিনি বলেন, বাসায় এসে জরুরি সেবা ৯৯৯ কল দিলে কাশিমপুর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে যায়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল লিটন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করি। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্ততি চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
৩ দিন আগে
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এতে একরাতে ৬২৪ কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতভর জেলার ১৮ থানা এবং ডিবি পুলিশের অভিযানে এসব কিশোর গ্যাং সদস্যদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, সমাজজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে উঠতি বয়সের কিশোর-তরুণদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। ছিনতাই, ইভটিজিং থেকে শুরু করে সহিংসতায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা রোদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পরিচালনা করা হয়েছে বিশেষ অভিযান। এতে মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন আড্ডা ও অপরাধপ্রবণ স্পটসহ জেলার প্রতিটি থানা এলাকার বখাটেদের উৎপাতস্থলে এ অভিযান চালানো হয়। এতে সরাসরি অংশ নেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।অভিযানে আটক ৬২৪ জনের অপরাধের পূর্ব রেকর্ড ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, এক রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৬২৪ কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কিশোর ও তরুণরা যাতে কোনোভাবেই অপরাধের পথ বেছে নিতে না পারে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
৪ দিন আগে
রাজধানীর গুলশান থেকে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত দেড়টার দিকে গুলশান-২ এর ৪৩ নম্বর রোডের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগের সদস্যরা।ডিএমপির ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন খাঁন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে গুলশান-২ এর ৪৩ নম্বর রোডের ২৯ নম্বর বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।ডিসি জানান, তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গ্রেপ্তার মিতা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানায় একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
৬ দিন আগে
রাজধানী শেরেবাংলা নগর থানার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশ।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হবে।এর আগে গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমান—এই ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।এদিকে, ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সাথে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছাঃ মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকাস্থ সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫নং বিল্ডিং এর ৩য় তলায় বসবাস করত। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সাথে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে বিভিন্ন সময় মোবাইল তার পরিবারকে জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকাল অনুমান সাড়ে ৫ টায় গাজী নজরুল ভিক্টিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলে। বাসায় এসে দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত।তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভিতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। এসময় বিছানার উপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
১ সপ্তাহ আগে