ঢাকার ধামরাইয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১ হাজার টাকা।ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লিয়াকত খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুর গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে শাওন ওরফে জয় (৩২) এবং একই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জাকির (৪২)।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় শাওন ও জাকিরকে তল্লাশি করে তাঁদের হেফাজত থেকে ১৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।ধামরাই থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
৭ ঘন্টা আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়েছে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করেছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ।এর আগে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল দায়ের করা হয়েছে।গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আদালত জানান, এই তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে। অর্থাৎ, ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ইনুর বিরুদ্ধে আনা আট অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগেই তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায়ের আরও বলা হয়, রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভিকটিমকে গুরুতর আহত, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায় প্রমাণিত হয়েছে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এ ছাড়া, আরেকটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা এবং দুষ্কর্মে সহযোগিতার দায়ে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির দায়েও ইনুকে ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।তবে ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন।প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা দেন এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।তৃতীয় অভিযোগ, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।পঞ্চম অভিযোগ, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন–নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪–দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।সপ্তম অভিযোগ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।অষ্টম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি, সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।
৪ দিন আগে
অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া (অব.) ও অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট কাজী গুলশান আরা।সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানানো হয়।ডিবির সূত্র জানায়, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার ষড়যন্ত্রে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের যোগসাজশের তথ্য রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
৬ দিন আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১২ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ। প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় চান প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, তাসমিরুল ইসলাম, মার্জিনা রায়হানসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউশন জানায়, এ মামলায় আজ রাষ্ট্রপক্ষে দশম সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত তারিখ থাকায় সাক্ষীও ট্রাইব্যুনালে এসেছেন। তবে অন্য একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য হওয়ায় সময় চায় প্রসিকিউশন। পরে আগামী ১২ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের নতুন দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।গত ৩০ সেপ্টেম্বর নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন চার আসামি। তারা হলেন—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক ও যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি।নানক-তাপসসহ পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।এর আগে, ১০ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে ২৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।
১ সপ্তাহ আগে