রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. মহরম (৩০)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২।শনিবার রাত তিনটার দিকে (৪ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কারওয়ান বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানায়, মহরম দীর্ঘদিন ধরে কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চোরাই মাল গ্রহণের একটি মামলা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পাঁচটি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া হাতিরঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে আরও একটি মাদক মামলা রয়েছে।র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।র্যাব-২-এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপসের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আদাবর, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকায় সন্ত্রাস, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে র্যাব-২-এর নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
২ দিন আগে
জুলাই আন্দোলনকে অবমাননা ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই অভিযোগ জমা দেন।শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার এসআই স্বপন শুক্রবার রাতে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, অভিযোগকারীরা লিখিত আবেদনে দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও এর শহীদদের আত্মত্যাগের বিষয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।অভিযোগপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু অভিযুক্তরা এই আন্দোলন এবং এর সঙ্গে জড়িত আবেগ ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর অপপ্রচার চালিয়েছেন। এছাড়া শান্তা ফারজানা নামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগে জানানো হয়, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক অভিযোগটি জমা নেওয়া হয়েছে। এখন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু হবে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৩ দিন আগে
রাজধানীর আদাবরে সালিশ বৈঠক শেষে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম গুরুতর আহত হয়েছেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।পুলিশ জানায়, বিকেলে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের নাম- শোয়েব, আরমান ও নয়ন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে আদাবর থানা পুলিশ। মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদাবরের নবোদয় কাচাবাজার হাউজিং চার রাস্তার মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, একটি সালিশ বৈঠক শেষে ফেরার পথে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে বাশার ও সাদ্দামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাদের স্থানীয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বাশারের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান। আহত সাদ্দাম বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা জানান, পরশু দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার উভয় পক্ষ নিজেরাই সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশের সিদ্ধান্ত প্রতিপক্ষের মনমতো না হওয়ায় তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।নিহতের ভাই সবুজ জানান, মো. আবুল বাশার বাদশা পেশায় প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন। তিনি টাউন হল এলাকার রনি নামের এক ব্যক্তির গাড়ি চালাতেন। পাশাপাশি তিনি আদাবর থানার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।তিনি আরও জানান, যতটুকু শুনেছেন, বাশার একটি বিচারে (সালিশে) গিয়েছিলেন। সেখানে খেলা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের মীমাংসা করা হয়। কিন্তু সালিশ শেষে ফেরার পথে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করেন।নিহত মো. আবুল বাশারের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গফুরের বাড়িতে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর আদাবর বি-ব্লকের ১ নম্বর রোডে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বাশারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
৫ দিন আগে
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকার কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণা মামলায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সোহেল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত-১৫-এর বিচারক নাজনীন আক্তার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ২১ দিনের জন্য জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে সোহেল উদ্দিনকে কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে এসএমপির সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি সার্কেল) সোহেল উদ্দিন সিআর-২৩৪১/২০২২ নম্বর মামলায় দীর্ঘদিন জামিনে ছিলেন। গত ৯ জুন দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রিফাত জাহান স্নিগ্ধার সঙ্গে সোহেল উদ্দিনের পরিচয় হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ এবং ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়।পরে স্নিগ্ধা জানতে পারেন, সোহেল উদ্দিন এর আগেই আমিনা কিবরিয়া মিশু নামে এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। এরপর দাম্পত্য বিরোধের জেরে যৌতুক দাবি, নির্যাতন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনি সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেন। এ ছাড়া ঢাকার শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ও সহকারী কর কমিশনার (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) মোসা. তানজিনা সাথীও তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিআর-২৩৪১/২০২২ নম্বর মামলা এবং শাহজাহানপুর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা করেন।আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, সিআর-২৩৪১/২০২২ মামলার বিচার গত মাসে শুরু হয়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম শুরুর দিনও ছিল বুধবার। অন্যদিকে রিফাত জাহান স্নিগ্ধার করা দুটি মামলার বিচারও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।জানা গেছে, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সোহেল উদ্দিন ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৭ সালে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এসএমপির কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে করা সব মামলাই বর্তমানে বিচারাধীন এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন জসিম বলেন, একই বিসিএস ব্যাচের এক নারী সহকারী কর কমিশনারকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণা মামলায় আদালত সোহেল উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।তিনি বলেন, আপস-মীমাংসার শর্তে জামিন পেলেও সোহেল উদ্দিন সেই শর্ত পালন করেননি এবং বিভিন্নভাবে বিচার কার্যক্রম বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন। এমনকি মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তরের আবেদনও খারিজ হয়। আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের শর্ত ভঙ্গ, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং মামলার অগ্রগতি বিবেচনায় আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীসহ দুই নারীর করা একাধিক প্রতারণার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।ক্লোজড করার বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, প্রেমিকার মামলায় কারাগারে যাওয়ায় কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার থেকে কমিশনার স্যারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসি সোহেল উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। তাকে এসএমপির হেডকোয়ার্টারে সংযুক্তি করা হয়েছে।এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার সোহেল উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রীর করা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের একটি সিআর মামলা বিচারাধীন। মামলায় অভিযোগ রয়েছে, সাবেক স্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত চার্জ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।তিনি বলেন, মামলাটি দায়েরের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল এবং সে সময় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহার হওয়ায় কয়েক মাস আগে তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়। সম্প্রতি ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে ২১ দিনের জন্য জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটি একটি ব্যক্তিগত মামলা, সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
৫ দিন আগে