রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ রাত ১০:২৮:১৯
ঈদ সামনে, তবুও বগুড়ার মার্কেটে ক্রেতার খরা
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। অথচ অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বগুড়ার কাপড়ের বাজারে নেই সেই চিরচেনা ঈদ আমেজ। সর্বোচ্চ ছাড়, ক্যাশব্যাক অফার ও আকর্ষণীয় উপহারের ঘোষণা দিয়েও আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে ঈদকে সামনে রেখে বেচাকেনা নিয়ে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
বগুড়া শহরের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত জলেশ্বরীতলার বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি শোরুমেই ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা টানানো হয়েছে। কোথাও “দুইটি কিনলে একটি ফ্রি”, আবার কোথাও বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড, বিকাশ ও নগদে পেমেন্টে ক্যাশব্যাক অফার দেওয়া হচ্ছে। তারপরও ক্রেতাদের উপস্থিতি খুবই কম।
শহরের সারা, ম্যানস ওয়ার্ল্ড, শৈশব, ল্যান্ড, জোস, ফড়িং, লুবনান, প্লাস ও এমবি ফ্যাশনসহ প্রায় প্রতিটি শোরুমেই নিজস্ব পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকলেও অধিকাংশ সময় বিক্রেতাদের অলস বসে থাকতে দেখা যায়। মাঝে মধ্যে কিছু ক্রেতা এলেও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
শুধু অভিজাত শোরুম নয়, একই চিত্র দেখা গেছে বগুড়ার হকার্স মার্কেট, নিউ মার্কেট, রানা প্লাজা ও পুলিশ প্লাজাসহ বিভিন্ন মার্কেটেও। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে সরকার সম্প্রতি রাত ১০টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দিলেও তাতে খুব একটা সুফল মিলছে না। এর আগে কয়েকদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশনার পর থেকেই বেচাকেনা কমে যায়।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এবার তারা লাভের আশায় নয়, বরং দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও সংসারের খরচ মেটানোর জন্য সীমিত লাভে পণ্য বিক্রি করছেন। তবুও কাঙ্ক্ষিত বিক্রি হচ্ছে না।
নিউ মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কোরবানির ঈদে সাধারণত পোশাকের বাজার কিছুটা কম জমে। তবে এবারের পরিস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় আরও খারাপ। তাদের মতে, এবার ঈদ মার্কেটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যাই বেশি। বিশেষ করে রোজার ঈদের মাঝামাঝি সময়েও এমন ক্রেতা সংকট দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বর্তমানে গরমের কারণে ক্রেতারা বেশি কিনছেন হালকা ও আরামদায়ক গজ কাপড়। অন্যদিকে শাড়ি, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ফ্যাশন সামগ্রীর চাহিদা কিছুটা রয়েছে মূলত ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বিয়ের আয়োজন থাকায়। তবে সামগ্রিকভাবে বাজার পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছেন তারা।