হাবিবুর রহমান, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৪:১৯:২২
জামালগঞ্জে কৃষকের স্বপ্নের ফসল বৃষ্টির পানির নিচে
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হালির হাওর, পাগনা ও শনির হাওরের কয়েকটি অংশে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কয়েক হাজার একর বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় ধানের চারায় পচন ধরেছে।
গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে সম্পূর্ণ ফসলহানির মুখে পড়ে কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।
যে ফসল ঘরে তোলার কথা ছিল, সেই ফসলই এখন কেটে গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হালির হাওরের ছাতিধরা, স্লুইস গেইট, নেতুয়ার কাড়া, নয়ন্না, বিশাইল্লা, মাগুরা; পাগনা হাওরের ছাগাইয়া ভান্ডার; ভীমখালীর কলকতখা, ভান্ডা, মল্লিকপুর, উগলি, কৃষ্টনগর, হারার কান্দি ও মাখর খলা দিগা; ছনুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিবৃষ্টি ও অপরিকল্পিত ফসলরক্ষা বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অন্তত ৫ হাজার একর জমি পানির নিচে রয়েছে।
পানি নিষ্কাশনের জন্য কৃষকরা নিজেদের খরচে সেচ পাম্প বসিয়ে দিন-রাত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, আর কয়েকদিন পর ধান কাটার উপযোগী হয়ে যেত। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকে ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ফসল রক্ষায় সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা জানান, জামালগঞ্জে প্রায় ২৩০ হেক্টর জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিছু কিছু হাওরে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। বৃষ্টিপাত না হলে দ্রুত পানি কমে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।