রুহুল আমিন কিবরিয়া, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ০২:৪৪:৪১
বগুড়ায় সবজি চারা উৎপাদনে বদলে যাচ্ছে শাহজাহানপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি
সবজি চারা উৎপাদনকে ঘিরে বদলে গেছে বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের চিত্র। একসময় নিজ জমিতে সীমিত পরিসরে চারা উৎপাদন দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এখানকার নার্সারিগুলোতে উৎপাদিত মরিচ, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজির চারা দেশের প্রায় ৪০ জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বদল এসেছে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে।
স্থানীয় নার্সারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহজাহানপুরের বিভিন্ন গ্রামে মৌসুমভেদে বিপুল পরিমাণ সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে যান। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এক মৌসুমে এই এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার চারা কেনাবেচা হয়ে থাকে।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আশির দশকে সাধারণ উদ্যোগ হিসেবে সবজির চারা উৎপাদনের শুরু করেন শামসু পাগলা নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। প্রথমদিকে নিজের জমিতে রোপণের পর অতিরিক্ত চারা বিক্রি করতেন তিনি। পরে চারা উৎপাদন ও বিক্রি বাণিজ্যিক রূপ নিতে শুরু করে।
এরপর ১৯৯২ সালের দিকে আমজাদ হোসেন বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদনে যুক্ত হন। প্রায় অর্ধশতক জমিতে মরিচের চারা উৎপাদন দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকেন পরিসর। বর্তমানে তার মতো অনেকেই নার্সারি গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে এই উদ্যোগ।
শীতকালীন সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মৌসুমের ফসলের চারা উৎপাদন করা হয় এসব নার্সারিতে। চারা উৎপাদনের জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ বেড। বীজতলা থেকে শুরু করে চারা পরিচর্যা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাত—প্রতিটি ধাপেই রয়েছে শ্রমিকের প্রয়োজন। ফলে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
শুধু স্থানীয় চাহিদা নয়, ভালো মানের চারা উৎপাদনের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকরাও এসব নার্সারির ওপর নির্ভর করছেন। চারা ব্যবসায়ীরা জানান, মানসম্মত বীজ, সঠিক পরিচর্যা ও রোগমুক্ত চারা উৎপাদনই তাদের সাফল্যের মূল কারণ।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও নার্সারিগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন। শাহজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন বলেন, “আমরা নিয়মিত এসব নার্সারি মনিটরিং করছি। মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পুষ্টি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় নার্সারি মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, সংগঠনের মাধ্যমে চারা উৎপাদন ও বাজারজাতের বিষয়টি আরও গোছানো হচ্ছে। ভালো মানের বীজ সংগ্রহ, রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর চারা উৎপাদন এবং প্রতিটি নার্সারিতে মানসম্মত চারা সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন তাদের লক্ষ্য।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে এই খাতকে এগিয়ে নেওয়া গেলে শাহজাহানপুর শুধু সবজির চারা উৎপাদনের জন্যই নয়, দেশের অন্যতম বড় নার্সারি অঞ্চল হিসেবেও আরও পরিচিতি পেতে পারে।