নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৫:১৬:১৩
মাদকবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়নে আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
মাদক ব্যবহার প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাব্সটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, তরুণ নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর উপ-পরিচালক মো. বাহাউদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি প্রফেসর ড. গোলাম রহমান, ইউএনওডিসির ন্যাশনাল প্রোগাম কোঅর্ডিনেটর (এইচআইভি/এইডস) আবু তাহের, ইউএনবি-এর স্পেশাল রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলম এবং আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের কোঅর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহা। অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন আইস্যাপের ন্যাশনাল চ্যাপ্টার কোঅর্ডিনেটর মিস ওলহা মাইশাকিভস্কা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক এবং আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মেম্বার সেক্রেটারি ইকবাল মাসুদ বলেন, মাদক ব্যবহার বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টার সেই সমন্বিত উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
তিনি জানান, ২০১৫ সালে ব্যাংককে আইস্যাপের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগের মাধ্যমে এ সহযোগিতার সূচনা হয়। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, ওয়েবিনার ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাংলাদেশের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আইস্যাপ চ্যাপ্টার পরিচালনার দায়িত্ব আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনকে দেওয়া হয়েছে।
আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মূল লক্ষ্য হলো প্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম প্রচার, পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষক, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক এবং কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে এবং মাদক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ও মানবিক উদ্যোগ জোরদার হবে।
অনুষ্ঠানে আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং চ্যাপ্টারের লোগো উন্মোচন করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে মাদক প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে পেশাগত মান আরও উন্নত হবে এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা আইস্যাপ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সফল কার্যক্রম কামনা করেন এবং দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ইউএনওডিসি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, গবেষক ও উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।