মোঃ রনি শেখ, টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) থেকে
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১১:৩৬:০৭
টঙ্গীবাড়ীতে ঝুঁকিপূর্ণ সরু সেতুর কারণে জনদুর্ভোগ চরমে
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কুন্ডের বাজার এলাকার একটি ঝুকিপূর্ণ সরু বেইলি সেতুর কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যানবাহন চালক, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে জেলা শহরে আসতে হয় এবং স্হানীয় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং যানবাহন চালক এই সেতু ব্যবহার করলেও এর অপ্রতুল প্রস্থ ও দুর্বল কাঠামো জনজীবনে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করছে।
সরজমিনে গিয়ে যায়, সেতুটি এতটাই সরু ও ঝুকিপূর্ণ যে একসঙ্গে দুটি যানবাহন চলাচল করা সম্ভব নয়। ফলে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে আলুর সিজনে বা ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত পারাপার হতে না পারায় জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া সেতুর দু’পাশে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থেকেই যাচ্ছে।
আলু ব্যাবসায়ী রতন পাল(৫৫) জানান জানান, “প্রায় সময় আমাদের ব্যবসার কাজে পণ্য আনা-নেওয়া করতে হয়। কিন্তু এই সরু সেতুর কারণে সময়মতো কিছুই করা সম্ভব হয় না। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, সময়মতো স্কুল-কলেজে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় দেরি হওয়ায় ক্লাস মিস করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত সেতুটি প্রশস্ত করে নতুন ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করা হোক, যাতে জনদুর্ভোগ লাঘব হয়।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ - বিভাগীয় প্রকৌশলী (সওজ) নাজমুস হোসেন সাকিব জানান, এর আগে এই সেতুটির জন্য চারবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, সরকার পরিবর্তন ও বিভিন্ন কারনে এর কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি, এবার পঞ্চম বারের মত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ মাসের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ দিতে পারব এবং খুব দ্রুত কাজটি সমাপ্ত করতে পারব।
তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। খুব দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে স্হানীয় ও পথচারীদের ভোগান্তি শেষ কোথায় তা তারা জানেন না।