কালকিনি মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৪ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৪:১৮:০১
কালকিনিতে সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজেদের অর্থে ভাঙা ব্রিজ সংস্কার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্স কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। যা অবৈধ মাহিন্দ্রা ট্রলি চলাচলের ফলে কালভার্টটি মাঝখানে ভেঙে যায়। ফলে যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে স্কুলর কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। গ্রামবাসীর এই চরম দুর্ভোগ দেখে এগিয়ে আসেন এলাকার সুপরিচিত সমাজসেবক রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ। তারা কারও অনুদান বা সরকারি তহবিলের অপেক্ষা না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় সংস্কার সামগ্রী এনে কালভার্টটি মেরামতের উদ্যোগ নেন। তাদের প্রচেষ্টায় কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি হাওলাদার বলেন, কালভার্টটি জন্য আমাদের কষ্টের সীমা ছিল না। বিশেষ করে শিশু বৃদ্ধদের চলাচলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো রিকশা-ভ্যান চলাচল করতে পারত না। সমাজসেবক রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ নিজেদের খরচে আমাদের এই কালভার্টটি সংস্কার করে দিচ্ছেন আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবক রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ বলেন, আমারা কোনো প্রশংসা বা প্রচারের জন্য এটি করিনি। প্রতিদিন চোখের সামনে ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে আর অসুস্থ মানুষকে এই কালভার্টটির উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখতাম। বিবেকের তাড়না থেকেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কালভার্টটি চলাচলের যোগ্য করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আমাদের সবারই উচিত শুধু সরকারের ওপর ভরসা না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসা।
কালভার্টটি সংস্কারের পর এলাকার সাধারণ মানুষ অনেকেই বলছেন, সমাজের বিত্তবানরা যদি এভাবে নিজ নিজ এলাকার জনদুর্ভোগে এগিয়ে আসেন, তবে দেশের গ্রামীণ অবকাঠামোর চিত্র দ্রুত বদলে যাবে।