মনজু বিজয় চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৫ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:২০:০১
কমলগঞ্জে চা বাগানে গাছ কাটতে গিয়ে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানে গাছ কাটতে গিয়ে হেলন মিয়া (৩৯) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোমন মিয়া নামে আরও এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
নিহত হেলন মিয়ার বাড়ি স্থানীয় এলাকায় বলে জানা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, গাছ কাটার অভিযোগে তাকে আটক করার পর মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, পালানোর সময় দৌড়ে গিয়ে তিনি স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন।
পুলিশ ও বাগান কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, সেহরির সময় ৫-৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল চা বাগানের খেলার মাঠ ও মন্দিরসংলগ্ন লেকের ধারে একটি আকাশমনি গাছ কাটছিল। গাছটি কাটার সময় বিকট শব্দে লেকে পড়ে যায়। শব্দ শুনে বাগানের নাইট চৌকিদাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করে ম্যানেজারের কাছে নিয়ে যান। পরে খবর পাওয়া যায়, কাছাকাছি একটি বাড়ির পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
চা বাগানের ব্যবস্থাপক প্রশান্ত কুমার জানান, সেহরির পর তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে চৌকিদাররা এসে জানান যে রাস্তার পাশে গাছ কাটার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যরা পালিয়ে গেছে। তিনি আটক ব্যক্তিকে অফিসে নিয়ে আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর তারা এসে জানায়, একজন মারা গেছে। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, গাছটি বাগানের নয় বরং সরকারি গাছ। এজন্য লিখিত রেখে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আটক ব্যক্তিকে কেন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে বাগান কর্তৃপক্ষের বক্তব্যেও কিছু অসঙ্গতি দেখা গেছে।
অন্যদিকে নিহত হেলন মিয়ার পরিবারের দাবি, তাকে আটকের পর ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়েছে এবং পরে মরদেহ টেনে বাগানের মাঠের পাশে ফেলে রাখা হয়। ঘটনাস্থলে মরদেহ টেনে নেওয়ার কিছু আলামতও পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে দৌড়ে পালানোর সময় স্ট্রোক করে মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।