আহমেদ স্বপন, মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬ রাত ০৯:৫০:৫২
গাংনীতে নারীকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৬
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় এক নারীকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
রোববার দুপুরে উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ ভরাট গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহতরা হলেন—দক্ষিণ ভরাট গ্রামের নবাব আলীর ছেলে হাসান আলী (৫০), সফেদ হালসানার ছেলে রহমত আলী (৪৫), মিনারুল ইসলামের স্ত্রী খুশি আরা খাতুন (৩০), মৃত দাউদ মন্ডলের ছেলে মিনারুল হোসেন (৩৮), ভরাট গ্রামের কালু শেখের ছেলে প্রবাসফেরত মিঠুন হোসেন (৩২) এবং উত্তর ভরাট গ্রামের কাবাতুল্লাহর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩০)। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী সহড়াতলা গ্রামের সাহাজুল ইসলামের মেয়ে লাকি খাতুনের সঙ্গে উত্তর ভরাট গ্রামের মিঠুন আলীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে মিঠুন প্রবাসে গেলে লাকি খাতুন দক্ষিণ ভরাট গ্রামের শিমুল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মিঠুনকে তালাক দিয়ে শিমুলকে বিয়ে করেন বলে জানা যায়।
এদিকে, শিমুল প্রবাসে চলে যাওয়ার পর লাকি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ খবর পেয়ে মিঠুন আলী দেশে ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, রোববার দুপুরে তিনি ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে শিমুলের বাড়িতে গিয়ে লাকিকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
শিমুলের বাবা টিপু সুলতান অভিযোগ করেন, তার অনুপস্থিতিতে একদল লোক বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং তার পুত্রবধূকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে তার আত্মীয় হাসান আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।
অন্যদিকে, লাকি খাতুন দাবি করেন, আগের স্বামী মিঠুন তাকে ভরণপোষণ দিতেন না এবং গালাগাল করতেন। তাই তিনি ছয় মাস আগে তালাক দিয়ে শিমুলকে বিয়ে করেন। তার অভিযোগ, মিঠুন লোকজন নিয়ে এসে তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিঠুন আলী বলেন, তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে কি না তিনি জানেন না। তার দাবি, লাকি তার কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে গেছেন। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তার ওপর হামলা করা হয়।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।