শামীম আহমেদ জয় মতলব উত্তর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২:২৪:৩১
মতলবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মিড-ডে মিল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশসহ মতলব দক্ষিণ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু থাকা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মিড-ডে মিল এর আওতায় সপ্তাহে ৫ দিন পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের কথা থাকলেও খাবার বিতরণে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
নির্ধারিত সাপ্তাহিক খাদ্য তালিকা অনুযায়ী সোমবার শিক্ষার্থীদের জন্য বান/রুটি ও দুধ (টঐঞ গরষশ) সরবরাহ করার কথা। তবে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) উপজেলার ১১১নং মতলব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরনিলক্ষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে শুধুমাত্র শুকনো বনরুটি বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার আরও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত খাবার তো দূরের কথা, কোনো খাবারই পায়নি। বিশেষ করে পশ্চিম আচলচিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিড-ডে মিল থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রধান শিক্ষকগণ জানান।
পশ্চিম আচলছিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন- “আজ আমাদের বিদ্যালয়ে কোন খাবার দেয়নি। প্রত্যাশা এনজিওর কোর্ডিনেটরকে ফোন দিলে তিনি জানান, আগামীকাল দুই দিনের খাবার একসাথে দিয়ে দিবে বলে জানিয়েছে। আমি এই বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি।”
এছাড়াও, উত্তর নওগাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী জানান, আমার বিদ্যালয়ে কোন খাবার আসেনি। দুই দিনের খাবার আগামীকাল একসাথে দিবে বলেছে।
চরনিলক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার বকুল বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে বেলা দুইটাই বনরুটি আসে।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাই এর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপাদী দক্ষিণ ও উপাদী উত্তর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছে তারা আজ কোন খাবার পাননি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, সকাল থেকে বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে বিষয়টি অবগত করলে আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বলেছি। পরবর্তীতে ওই বিদ্যালয়গুলোতে খাবার দিয়েছে কিনা আমি সে ব্যাপারে অবগত নই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইশমাম এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোট ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলার প্রায় ১৬ হাজার ৬২০ জন শিক্ষার্থীর পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার কথা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী প্রায় ১৫৯টি উপজেলার ৩১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পে ফর্টিফাইড বিস্কুটসহ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ খাবার সরবরাহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি করা। তবে বাস্তবায়নে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।