গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:২৩:৩২
চাকরির প্রলোভনে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে
নাটোরের গুরুদাসপুরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা আব্দুল গণি মিয়া এবং তার ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কথিত এডি আব্দুল মোনায়েম।
শনিবার (তারিখ উল্লেখিত) দুপুরে স্থানীয় চলনবিল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন একাধিক ভুক্তভোগী। তারা হলেন উপজেলার বিয়াঘাট গ্রামের নাজিম উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদ, বাহারুল ইসলাম এবং মসজিদের ইমাম মাওলানা ইউনুস আলী।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নাজিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালে তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক (এডি) পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আব্দুল মোনায়েম ৩০ লাখ টাকা নেন। পরবর্তীতে টাকার পরিবর্তে তার পিতা আব্দুল গণি মিয়া একটি চেক দেন, যা ২০২৬ সালের ১২ মার্চ ব্যাংকে ডিজঅনার হয়।
অন্যদিকে, চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লার মাওলানা ইউনুস আলী জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ফিল্ড অফিসার পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেওয়া হয়। একইভাবে চাঁচকৈড় বাজারের কাজী আব্দুল্লাহকে ব্যাংক লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৯৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিকারপুর বাহাদুরপাড়া গ্রামের বাহারুল ইসলামের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার পদে চাকরির প্রলোভনে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া মাওলানা আব্দুর রশিদের কাছ থেকেও পূর্বের একটি আর্থিক লেনদেনের নামে ৭৫ হাজার টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চাঁচকৈড় বাজারের মুদি দোকানী মিঠু প্রামাণিক বলেন, “তারা নিজেদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আমাকে লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৭ হাজার টাকা নেয়। এরপর থেকে তারা আর যোগাযোগ করেনি।”
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মোনায়েম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি দাবি করেন, চেকের বিষয়টি মাদ্রাসার সমিতি সংক্রান্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।