শফিকুজ্জামান সোহেল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ রাত ১১:০১:৩১
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় আশাবাদী তিস্তা তীরের মানুষ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বন্যার ক্ষতির সঙ্গে লড়াই করা উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু পদ্মা ব্যারাজ নয়, বর্তমান সরকার তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পও হাতে নেবে।” তিনি আরও বলেন, “অনেকে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য নানা কথা বলতে পারেন, তবে সরকার বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে।”
সরকারপ্রধান জানান, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে স্বাভাবিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের পানি সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারকে বিপজ্জনক উল্লেখ করে খাল খনন কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিস্তা পাড়ের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে হিমশিম খেতে হয়। ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।”
গজঘণ্টা ইউনিয়নের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, “বর্ষায় ভাঙনে ঘরবাড়ি হারাই, আবার শুষ্ক সময়ে নদী শুকিয়ে যায়। তিস্তার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।”
এদিকে তিস্তা তীরবর্তী মানুষের দাবি, অতীতে একাধিকবার তিস্তা মহাপরিকল্পনার আশ্বাস মিললেও বাস্তব অগ্রগতি খুব একটা দেখা যায়নি। তাই এবার ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলে সেচ সুবিধা বাড়বে, নদীভাঙন কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।