কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪:৫৮
দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখেই এইচএসসিতে সাফল্য, বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন কলি রানীর
জন্ম থেকেই দুই হাতে আঙুল নেই। স্বাভাবিকভাবে কলম ধরারও সুযোগ নেই। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দুই পায়ের ওপর ভর করেই জয় করেছেন শিক্ষাজীবনের একের পর এক বাধা। পা দিয়ে লিখেই এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৫০ অর্জন করেছেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তরুণী কলি রানী। তাঁর স্বপ্ন, ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করা।
কলি রানী কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের প্রয়াত মনোরঞ্জন রায়ের মেয়ে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান তিনি। এরপর মা রূপালী রানীর স্নেহ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন কলি।
শৈশব থেকেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি। ধীরে ধীরে পা দিয়েই লেখাপড়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ করার দক্ষতা অর্জন করেন। বর্তমানে ডান পা দিয়ে অনায়াসে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারেন। শুধু পড়াশোনায় নয়, সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর প্রতিভা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে পেয়েছেন পুরস্কার ও প্রশংসা।
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে কাউনিয়া কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ ৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন কলি রানী। পরীক্ষার হলেও নিজের আত্মবিশ্বাস ও মনোবলের পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, কলি রানীর জন্য আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করার সুযোগ থাকলেও তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই পরীক্ষা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে কেন্দ্রের ৩০২ নম্বর কক্ষে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল।
কলির এই সাফল্যে আনন্দিত তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম। পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে জিপিএ ৩.৫০ অর্জন করায় তাঁর প্রশংসা করেন তিনি।
এর আগে পিইসি ও এসএসসি পরীক্ষায়ও সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন কলি। এবার উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তবে শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
কলি রানীর স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দুই হাতে আঙুল না থাকলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন কলি রানী। তাঁর এই সাফল্য সমাজের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। এখন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা।