রাকিবুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৫ মে ২০২৬ বিকাল ০৫:৫৩:১৭
বানরসহ হত্যা মামলার আসামি আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলাে হত্যা মামলার আসামি মো. সোহেল বাওয়াতীকে গ্রেপ্তারের পর তার সঙ্গে থাকা পোষা বানরকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে নেওয়ার সময়ও আসামির সঙ্গে বানরটির উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও ভিড় বাড়িয়ে দেয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় সোহেলের সঙ্গে তার পোষা বানরটিও ছিল। পরে আদালতে সোপর্দ করার সময়ও প্রাণীটিকে সঙ্গে নেওয়া হয়। বানরটি মালিক ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করছে না বলে জানা গেছে। এতে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদে রাখার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছুটা বেকায়দায় পড়ে। বিষয়টি বাংলাদেশ বন বিভাগ-কে জানানো হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বানরটিকে এক নজর দেখার জন্য থানায় ও আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
অন্যদিকে, একই উপজেলার উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নে অটোচালক রাজিব হোসেন (১৮) হত্যার ঘটনায় সোহেল বাওয়াতী (৪০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার (২ মে) সকালে উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের একটি নির্জন এলাকা থেকে রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রায়পুর থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী নিহতের পিতা মো. মোস্তফা (৪৮) জানান, ১ মে সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হয় রাজিব। পরে আর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
অভিযোগে জানা যায়, বিকেলে ৩০০ টাকায় অটোরিকশা ভাড়া করে সোহেল রাজিবকে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে চরআবাবিলের কেওড়াডুগি এলাকায় একটি সুপারি বাগানে নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। রাজিব বাধা দিলে তাকে আঘাত করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়ার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সোমবার (৪ মে) চাঁদপুর সদর উপজেলার বাঘাদি এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে নিহত রাজিবের পরিবার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে। স্থানীয়রাও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।