হীরা আহমেদ জাকির, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ রাত ০৬:০৩:১৩
বিজয়নগরে ২০০ বছরের পুরোনো নান্দনিক মসজিদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছতরপুর গ্রামে অবস্থিত ২০০ বছরের পুরোনো ছতরপুর শাহী ঈদগাহ মসজিদটি একটি ঐতিহাসিক ও নান্দনিক স্থাপত্য। এই মসজিদটির বিশেষ নকশা এবং তিনটি গুম্বজ এর সৌন্দর্য দেখে যে কেউ মুগ্ধ হয়। স্থানীয়রা এটি 'তিন গম্বুজের মসজিদ' বা 'গোলাপি মসজিদ' নামে জানে।
মসজিদটির নির্মাণ ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। ২০০ বছর আগে ব্রিটিশ আমলে একটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছিল যেখানে বড় আকারের ইট তৈরি করে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। যদিও নির্মাণের সঠিক সাল জানা যায়নি, তবে ১৮৭৬ সালের ব্রিটিশ ম্যাপে মসজিদের অবস্থান স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে, যা এই মসজিদকে ২০০ বছরের প্রাচীন বলে নিশ্চিত করে।
মসজিদটির স্থাপত্যের মধ্যে রয়েছে তিনটি গুম্বজ, যার মধ্যে মাঝের গুম্বজটি সবচেয়ে বড়। মসজিদের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৩ ফুট এবং বাহির ও ভিতরের অংশে রয়েছে চমৎকার কারুকাজ। গোলাপি রঙের এই মসজিদটির পাশেই রয়েছে একটি অজুখানা এবং ইমাম সাহেবের থাকার স্থান। তিনপাশে বাউন্ডারি ঘেরা এবং সামনে বিস্তৃত ঈদগাহ মাঠের সৌন্দর্যও মসজিদটির আধ্যাত্মিক আবেদনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই মসজিদে প্রতিদিন শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষত, শুক্রবার জুমা'আর নামাজ এবং মাহে রমজানে তারাবির নামাজে মসজিদটি পূর্ণ হয়ে যায়। সংকীর্ণ জায়গার কারণে মুসল্লিদের জন্য কখনো কখনো ঈদগাহ মাঠে চট বিছিয়ে নামাজ পড়তে হয়।
মসজিদটির মুসল্লিরা জানান, এটি একটি ঈদগাহ মসজিদ। এখানকার মুসল্লিরা তিনটি গ্রামের বাসিন্দা। প্রতি ঈদে কয়েক হাজার মুসল্লি একসাথে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এরকম ঐতিহাসিক গুম্বজওয়ালা মসজিদ এখন আর সহজে দেখা যায় না, তাই অনেকে বিশেষভাবে এই মসজিদটিতে নামাজ পড়তে আসেন এবং স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ সিরাজুল ইসলাম বলেন, "আমি ২২ বছর ধরে এখানে ইমামতি করে আসছি। এখানকার মুসল্লিরা অত্যন্ত আন্তরিক, তারা আমাকে খুব ভালোবাসেন। তবে অর্থের অভাবে মসজিদের কিছু কাজ অসম্পন্ন রয়েছে। সরকারিভাবে যদি অনুদান পাওয়া যায়, তবে আমরা মসজিদটির উন্নয়ন করতে পারব।"
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, "বিজয়নগর উপজেলার অন্যতম পুরাতন স্থাপত্য এটি। প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে এসে এর ইতিহাস জানার চেষ্টা করেন। এখানকার ইটভাটায় ইট পুড়িয়ে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি বিজয়নগরের সবচেয়ে পুরানো মসজিদ।"