নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:৩৩:১২
পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ নিশ্চিতে ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ৮ দাবি
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে।
রাজধানীর মগবাজারে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংগঠনের প্রধান কর্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
অ্যাসোসিয়েশনের দাবিগুলো হচ্ছে— বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবতার আলোকে ক্রেতা সাধারণকে সচেতন ও ধৈর্য ধারণ করতে হবে; পেট্রোল পাম্পে ট্যাঙ্ক শূন্য অবস্থায় তেল নিতে ক্রেতাদের হুমড়ি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে; পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে; উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে; ডিপো থেকে ট্যাঙ্কলরির চেম্বারের ধারণ ক্ষমতা (যেমন ৪,৫০০ লিটার) অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে হবে। আর তা নাহলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, অযথা পেট্রোল পাম্প আক্রমণ, পেট্রোলপাম্প মালিকদের উপর একতরফা দোষ চাপানো যাবে না। সেক্ষেত্রে সরকারের ট্যাগ অফিসার নিয়োগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং বা সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক জায়গায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।
সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প মালিকরা সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করে আসছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় সঠিক তথ্য না জেনে পেট্রোল পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও আতঙ্কের কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে পাম্পে ভিড় করছেন।